nazmul huda parvez - (Kurigram)
প্রকাশ ১৪/০৫/২০২২ ০৩:২৪পি এম

চিলমারীতে মঙ্গা প্রকল্পের শ্রমিকদের টাকা আত্নসাৎ এর অভিযোগ

চিলমারীতে মঙ্গা প্রকল্পের শ্রমিকদের টাকা আত্নসাৎ এর অভিযোগ
ad image
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ১ম পর্যায়ের ৪০ দিনের কাজ শেষ হবার ৫ মাস পরেও উপকার ভোগী ৫জন শ্রমিক তাদের পাওনা টাকা না পাওয়ায় তাদের পাওনা টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাররে দায়ের করেছেন।

২০২১-২০২২ ইং অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ১ম পর্যায়ের আওতায় ৩২৬ জন উপকার ভোগীর নামের তালিকা ওয়েজ প্রকল্প (নন ওয়েজ)সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি প্রস্তুত পূর্বক ইউপি সভার কার্যবিবরণী সহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ৪ নং রমনা মডেল ইউনিয়নে ৩৪টি প্রকল্পের নামের তালিকা ও উপকারভোগীদের তালিকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজগার আলী যথাসময়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে দাখিল করেন।পরবর্তীতে উক্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে ২৩ জন উপকার ভোগীর নাম বাদ দিয়ে ৩০৩ জন উপকার ভোগীর নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিগত চেয়ারম্যানের আমলেই প্রকল্প গুলি বাস্তবায়িত হয়। ৩১ জানুয়ারি ’২০২২ ইং তারিখে উক্ত ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।পূর্বের চেয়ারম্যান নির্বাচনে পরাজিত হন এবং নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম আশেক আকা নির্বাচিত হন।

ভুক্তভোগী অভিযোকারী মোঃ বাবলু মিঞা ,পিতা- মৃত আব্দুল জলিল, রমনা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া’র বাসিন্দা, জাহাঙ্গীর আলম, পিতা-মৃত মোঃ হাবিবুর রহমান, রমনা ইউনিয়নের ১১ নং ওয়ার্ডের এনায়েত সরকারের গ্রামের বাসিন্দা, সাদ্দামুল ইসলাম, পিতা- মৃত আলাউদ্দীন আল আজাদ, রমনা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা , ছক্কু মিঞা, পিতা-মৃত আব্দুল জোব্বার, রমনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া’র বাসিন্দা এবং মোঃ শাহিনুর মিঞা ইউনিয়নটির ১ নং ওয়ার্ডের গুড়াতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা সকলেই এই প্রকল্পে অতি দরিদ্র হিসেবে অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন। অভিযোগকারীরা এই প্রতিনিধিকে জানান, বৎসরে প্রথম ও ২য় পর্যায়ে ৪০ দিন করে মোট ৮০দিন ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ করা হয়। তারা মূলত মাটির কাচা রাস্তা সংস্কার,মাটি ভরাট, কবরস্থানে মাটি ভরাট, স্কুল -মাদ্রাসার মাঠ ভরাটের কাজ করে থাকেন। পূর্বে তাদেরকে দিন মুঞ্জরী হিসেবে ২০০/= টাকা দেয়া হতো। এবার ৪০০/= টাকা করে দিন মজুরি দেয়া হয়েছে। অভিযোকারীগণ জানান, ইউপি সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন চেয়ারম্যান শপথ নেবার পূর্বে উক্ত ইউনিয়নের সচিব মিনারুল ইসলাম দোলন তাদেরকে বলেন,এশিয়া ব্যাংকে তোমাদের যে অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা আর চলবে না। তোমাদেরকে রকেট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তার নির্দেশ মতো রমনা ইউনিয়নের সকল প্রকল্পের উপকারভোগীগণ ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে গিয়ে নতুন সিম কিনে,পরিষদের সচিব দোলনের সহযোগিতায় পিন কোড বসিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর দুই দফায় অধিকাংশ উপকারভোগীরা তাদের পাওনা টাকা পেলেও তারা ছয় জন টাকা পাননি। তারা আরও বলেন, পিআইও অফিসে গেলে উক্ত অফিস থেকে তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ তারা খোঁজ নিয়ে দেখেন বাতিল ২৩ জনের মধ্যে তাদের নাম নেই বরং কাজের চুড়ান্ত তালিকায় তাদের ৫ জনেরই নাম আছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় র্ধন্না দিয়েও কোন ফল তারা পায়নি। সচিব প্রথম দিকে তাদেরকে বলেছিল তোমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে, অপেক্ষা করো। পরে বারবার তার কাছে গেলে সে নাকি তাদের সাথে রাগারাগি ও অসদাচরণ করে। এছাড়াও একই সমস্যায় পরেছেন, চিলমারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চড়ুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম, পিতা-মৃত ফরজ উদ্দীন , ।
রমনা ইউনিয়নের ৫ জনের অভিযোগটি খতিয়ে দেখার জন্য চিলমারী প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে গিয়ে এই প্রতিনিধি, অভিযোকারীদের সকলের নাম চুড়ান্ত তালিকায় দেখতে পান। অফিস সূত্রে জানাজায়, ২০২১-২০২২ ইং অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ১ম পর্যায়ের আওতায় প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল শ্রমিকদের মুজরা বাবদ ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার এবং দলের সর্দারদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার মিলে মোট ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। গত ১৪/০৩/২০২২ ইং তারিখে মোবাইলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় ৪১ লাখ,৪৬ হাজার টাকা এবং গত ২৩/০৩/২০২২ ইং তারিখে পরিশোধ করা হয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। সর্ব মোট পরিশোধ করা হয় ৪৮, লাখ, ৬৬ হাজার টাকা। এর অর্থটা দাঁড়ায় যা বরাদ্দ প্রকল্পের বিপরীতে ছিল তার সম্পূর্ণটাই পরিশোধ করা হয়েছে। তাহলে অভিযোগকারীদের পাওনা টাকা কে তুলল? এ রিপোর্ট লেখর পূর্বে ইউপি সচিব মিনারুল ইসলাম দোলনের ০১৭১৯-৪৬৩৮৮৮ ও ০১৯২০-০৩২৭১৩ মোবাইল নাম্বারে বারবার রিং দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। মোবাইলের অপর প্রান্তে রিং বাঁজলেও উক্ত সচিব রিং রিসিভ করেননি। অবশেষে এই প্রতিনিধি , সচিব দোলনের বাসায় দেখা করতে গেলে, বাসার ভিতর থেকে জানানো হয় ,সচিব বাসায় নেই। কোথায় গেছে বাসার কেউ তা জানে না।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে । তদন্ত টিমের তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা মিললে এবং যে কেহ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ