Md Tarik Hossan - (Rajshahi)
প্রকাশ ১৯/০৩/২০২২ ০৭:৫৫এ এম

চারঘাটে মাদকের ভয়াবহতায় বাড়ছে সংঘাত

চারঘাটে মাদকের ভয়াবহতায় বাড়ছে সংঘাত
ad image
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাদক কারবারিদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ঘটছে দুপক্ষের মারামারিও। খুনসহ এ সব ঘটনাগুলো ঘটছে প্রকাশ্যে। কিন্তু এসবের গডফাদার বা মূলহোত থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। ফলে এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খুনের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন দু-একজন আসামিদের আটক করলেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এসব নৃশংস ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষ। গত তিন মাসে মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিনজন খুন হয়েছেন। কয়েকটি মারামারিতে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী চারঘাট উপজেলায় মাদকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। চুরি-ছিনতাই ও মারামারি-সংঘাতসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পেছনের উৎস মাদক। কিন্তু এই মাদক কান্ডের মূলহোতা সাব্বির হোসেন, কামাল হোসেন, ইউনুস আলী সব সময় থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। এদের মধ্যে সাব্বির নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে চারঘাটের মাদক নিয়ন্ত্রণ করে।

চারঘাট থানা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরের ইউনিয়ন শলুয়া ও ইউসুফপুর চারঘাট ইউনিয়নের রাওথা ও পৌর এলাকার পিরোজপুরের মাদক কারবারিরা এক প্রকার নিরাপদে তাদের কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও মাদকের টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রায়ই প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

কিন্তু এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের থানায় অভিযোগ না করায় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। দ্বন্দ্ব যখন সহিংসতায় রূপ নিয়ে খুনের মতো ঘটনা ঘটে, তখনই প্রশাসন সক্রিয় হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের তাঁতারপুর গ্রামে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় খুন হন শাহবাজ আলী নামের এক কৃষক। ওই এলাকা মাদক মুক্ত ঘোষণা করায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাবুর আলীর সঙ্গে মাদক কারবারি কামাল আলীর দ্বন্দ্ব বাধে। এর জের ধরে খুন হতে হয় সাহাবুরের সহযোগি শাহবাজ আলীকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেল থেকে জামিন পেয়েই কামাল বাহিনী মঙ্গলবার সকাল থেকে সাহাবুরসহ তার লোকজনকে হুমকি দেয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁতারপুর আক্কাসের মোড়ে জনসমক্ষে সাহাবুরের ভাই কাজলের ওপর হামলা করে হেলমেট পরিহিত প্রায় ২০ জন। তখন সেই মোড়ে চায়ের দোকানে বসে থাকা শাহাবাজ আলী ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় তিন দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, গত ২০ ডিসেম্বর উপজেলার ঝিকরা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারি মাইনুল ইসলাম সিলনকে কুপিয়ে হত্যা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জুয়েল রানা গ্রুপের সদস্যরা। ওই ঘটনায় পুলিশ জুয়েল রানা গ্রুপের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

তাঁতারপুরে গত ৩১ জানুয়ারি মাদকাসক্ত ছেলে মুরাদ আলী পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁর বাবা সাদেক আলীকে। মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এবং সংসারের খরচ চাওয়ায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মুরাদ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। মাদক নিয়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

অপরদিকে, শিলন আলী হত্যাকান্ডের মুলহোতা ছিল পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারি সাব্বির হোসেন। সাব্বিরকে মামলা থেকে বাদ দেয়ার জন্য পুলিশ এজাহার পরিবর্তন করে ১৫ জন আসামিকে বাদ দিয়ে ছিলেন। চারঘাট থানার ওসি বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন নিহত শিলন মিয়ার পরিবার। এ কারণে পরে সাব্বিরকে হত্যা মামলায় আসামী করা হয়। কিন্তু সে প্রকাশে চলাফেলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।

উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘মাদক কারবারি এসব বাহিনীর কাছে আমরা অসহায়। তাঁদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের শান্তিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন তাঁরা। এতে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের মতো বড় ঘটনা না ঘটলে স্থানীয় প্রশাসন এগুলো বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না।’

চারঘাট মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। সবগুলো ঘটনা শুধু মাদকসংশ্লিষ্ট এমনটা না। সব খুনের ঘটনাতেই আসামি আটক করা হয়েছে। শাহবাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ