Md. Rubel
প্রকাশ ১২/০৩/২০২২ ০৩:২০পি এম

দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে ইসলামি চেতনাবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে: মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে ইসলামি চেতনাবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে: মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম
ad image
দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে ইসলামি চেতনাবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ থেকে ইসলামি চেতনাবোধ মুছে ফেলা ও নাস্তিক্যবাদী ধ্যান-ধারণার প্রসার ঘটানোর ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বাদ দেওয়ার সুপারিশ হয়ে থাকতে পারে। ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে এ জাতীয় সিদ্ধান্ত জাতি কখনও মেনে নেবে না। আমরা অবিলম্বে এই সুপারিশ বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।

আজ শনিবার (১২ই মার্চ) দনিয়া কলেজ মাঠে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আজ সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, কারণ নৈতিক শিক্ষার অভাব। আর নৈতিকতা আসে ধর্ম থেকে। ধর্ম শিক্ষা পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। আজ চারিদিকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, খুন, গুম, দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে ধর্মীয় নৈতিকতার অভাবে। সন্তানকে আনুগত্যশীল করতে ধর্মীয় শিক্ষা অত্যাবশ্যক। সন্তানকে মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হবে না।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় বিষয় বাধ্যতামূলক করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করবে তারা আরও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে খারাপ প্রভাব পড়বে। সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হবে না। তাই সরকারের কাছে ধর্মীয় শিক্ষাকে অত্যাবশ্যক করার অনুরোধ জানাই।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বেড়েই চলছে সেভাবে মানুষের আয় না বাড়ায় মানুষ দিশেহারা। দ্রব্যমূল্য শ্বাসরোধকর অবস্থায় চলে গেছে। জনগণের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্য কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সুতরাং দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রæত পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন এর সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়। জোর করে বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এই সরকার এর জন্য সুফল বয়ে আনবে না। তাই মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিন। তা না হলে এদেশের জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আল-আমিন সোহাগের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমদ সাকী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শওকত ওসমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন, অর্থ সম্পাদক ক্বারী মুহাম্মাদ নাছির উদ্দীন, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ তসলিম উদ্দিন রুবেল, প্রকাশনা সম্পাদক কৃষিবিদ মুহাম্মাদ নাজমুল ইসলাম, দাওয়াত ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা রশীদ আহমাদ, যুব কল্যাণ ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হাফেজ মাওলানা গোলামুর রহমান আজম প্রমুখ।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ