নুরুজ্জামান 'লিটন' - (Naogaon)
প্রকাশ ১১/০৩/২০২২ ০৪:৩৩এ এম

নওগাঁর প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি পাহাড়পুরে প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

নওগাঁর প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি পাহাড়পুরে প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান
ad image
নওগাঁ জেলায় “বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়"-নওগাঁ আইন ২০২২ নীতিগত সিদ্ধান্ত মন্ত্রী সভায় অনুমােদন দেওয়ায় বদলগাছী উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সালাম ও মুজিব শতবর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনার কাছে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।

৯ মার্চ,বৃহস্পতিবার নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্বারক লিপি প্রদান করেন ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক ও সদস্য সচিব বদলগাছী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মােঃ ইমামুল আল হাসান 'তিতু' ও সদস্য সচিব বৈদ্যনাথ সরদার "টপ্য"(সাধারণ সম্পাদক
উত্তরঙ্গ আদিবাসী বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশন
সভাপতি উপজেলা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগােষ্ঠী
বদলগাছী, নওগাঁ।)
সাথে ছিলেন বদলগাছী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুজ্জামান হিরা।

এতে বলা হয়েছে যে, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে বিশ্বের অন্যতম মহাবিহার বলা হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঐহিত্যবাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও যাদুঘর। এটা ছিল সে প্রজন্মের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয়। ৭৮১ অব্দ থেকে ৮২১ অব্দ এর মধ্যবর্তী সময়ে পাহাড়পুর ছিল একটি প্রসিদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। বাংলা ভাষার হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ একসময় পাহাড়পুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছিল। সােমপুর মহাবিহারে ধর্মাচরন শিক্ষা,জ্যোতিবিদ্যাসহ শিল্পকর্ম, সাংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানাবিদ শাখার গবেষনা ও চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে সমাদৃত ছিল। এই
বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় আচার্য ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত শীলভদ্র, অতীশ দীপংকর। ৭০০-১২০০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ভারতবর্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এটিও ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তা সত্বেও ২০১৪ খ্রীঃ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সরকার নালন্দা মহাবিহারে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের সময় ১৯৭৩ সালে কাগজপত্র প্রস্তুত করে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে 'ওয়াল্ড হেরিটেজে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ইউনিসেফকে অনুরােধ করা হয়। যার ভিত্তিতে ১৯৮৫ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে ঘােষিত
হয়” ।
প্রতিদিন দেশ বিদেশের পর্যটকরা ঐতিহাসিক পাহাড়পুর পরিদর্শনে আসেন। ইতিহাস ঐতিহ্য পাহাড়পুরের মাটিতে এই স্মৃতি পূণঃজীবিত রাখতেই আমরা বদলগাছীবাসী ঐতিহাসিক পাহাড়পুর সােমপুর মহাবিহার সংলগ্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আহবান জানাই। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষার্থীদের আসাযাওয়ার ও খুব সুবিধা হবে।কারণ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর হতে উত্তরে জয়পুরহাট জেলা ও রেলওয়ে স্টেশন ১০ কিঃ মিঃ, পূর্বে জামালগঞ্জ স্টেশন ৫ কিঃ মিঃ।পাহাড়পুর সংলগ্ন আঞ্চলিক হাইওয়ে নওগাঁ জেলা।
তাই সবদিক বিবেচনায় এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলে দেশ ও জাতি লাভবান হবে বলে আশা করা যায়।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেছেন যে নওগাঁ শহরে যেন চাপ না পড়ে সেজন্য শহর থেকে ২০/২৫ কিলোমিটার দূরে যেন ইউনিভার্সিটি স্থাপন করা হয় সেদিন দিয়ে এ জায়গা দূরত্বেও ফিট।
তাছাড়া ২০১৮ সালে সেই সময়ের নওগাঁ জেলা প্রশাসক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি পেশ করেছিলেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ