Shahidul Islam - (Mymensingh)
প্রকাশ ০৩/০৩/২০২২ ০২:৪৫পি এম

এক অদম্য লড়াকু সৈনিকের গল্প

এক অদম্য লড়াকু সৈনিকের গল্প
ad image
মুঠো ভরা অজুহাত নিয়েই থেমে আছে মানুষ। হবে না, পারবো না, সম্ভব না এসবের মাঝেই মানুষ হারিয়ে ফেলেছে নিজের সত্তা। কী হতো যদি টমাস আলভা এডিসন এক হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর হাল ছেড়ে দিতেন, তাহলে হয়তো আমরা কখনো ইলেকট্রিক বাল্বের মুখ দেখতে পেতাম না। কিন্তু তিনি এতবার ব্যর্থ হওয়ার পর একবার শেষ চেষ্টা করেছিলেন আর আজ তারই জন্যই পৃথিবীতে আলোর অভাব নেই।আর হ্যাঁ এমনই এক ব্যক্তির গল্প নিয়ে এসেছি পাঠকের সামনে।তিনি হলেন ময়মনসিংহের সায়েম আহমেদ। যিনি কিনা ঝামেলা কেনাবেচা করে আজ লাখ টাকা আয় করছেন।অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তিনি ময়মনসিংহ শহরে দাড় করিয়েছেন।যেখানে পুরাতন ফার্নিচার, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ ঘরের আসবাবপত্র কেনাবেচা হয়।

২০০০ সালে মাত্র বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বলাশপুর মরাখলা এলাকার বাকৃবি সড়কে "মেসার্স জামেলা কিনি "প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। সততা আর আস্থা বজায় রাখায় এতদিনে বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন তিনি। সায়েম বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে একটি ব্যবসা করার জন্য মনস্থির করি। কিন্তু আমার কাছে তেমন টাকা-পয়সা ছিল না। ভাবতে থাকলাম কী করা যায়। তখন দেখলাম অনেক মানুষ ফার্নিচার পরিবর্তন করে। সেক্ষেত্রে আমি এই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করলাম এবং কম পয়সায় সেগুলো কিনে তা মেরামত করে একটু বেশি দামে বিক্রির চিন্তা করি। তারপর এটি শুরু করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর পর আমি ভালো সাড়া পাই। আস্তে আস্তে এর মাধ্যমে লাভবান হতে শুরু করি এবং আল্লাহর রহমতে পরিবারে সচ্ছতা ফিরে আসে।

শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে আয় করেন প্রায় লাখ টাকা। ২১ বছর ধরে তিনি এ কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন, দিন কাটাচ্ছেন সুখে। তার উঠে আসার গল্পটা এতো সহজ ছিল না।তার পিছনের গল্পটা অনেক কষ্টের। ১৯৯৪ সালে সায়েম আহমেদ এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। সংসারের অভাব অনটনের জন্য তিনি " নবজাগরণ কোচিং সেন্টার" নামে একটা কোচিং এর সাথে সম্পৃক্ত হয়।পাশাপাশি মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ময়মনসিংহের আক্তারুজ্জামান কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। ১ম বর্ষে থাকা অবস্থায় সায়েম আহমেদ তার বাবাকে হারান। এরপর সংসারের অভাব অনটনের পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এক পর্যায়ে ২০০০ সালে স্বল্প পুঁজি নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। সততা আর আস্থা বজায় রাখায় এতদিনে বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন তিনি।এখন তার সংসারে নেই কোনো অভাব,নেই কোনো হাহাকার। সমাজে স্বচ্ছলভাবেই দিন যাপন করছেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ