সম্পাদনাঃ শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ০১/০৩/২০২২ ০৪:১২পি এম

আমেরিকার বুদ্ধির খেলায় হেরে যাওয়া রাশিয়া ও ফেঁসে যাওয়া ইউক্রেন

আমেরিকার বুদ্ধির খেলায় হেরে যাওয়া রাশিয়া ও ফেঁসে যাওয়া ইউক্রেন
ad image
এক আমেরিকার বুদ্ধির খেলায় হেরে যাওয়া রাশিয়া ও ফেঁসে যাওয়া ইউক্রেন। এখানে ফায়দা কার সেটা আর হিসাব কষে বলতে হবে না। যুদ্ধ দখলদারকে যেমন আনন্দিত করে তেমনি ভূমিহীনদের চোখের অশ্রু রক্তের দাগ আর বস্তহারা জীবনকে ভূমিহীন করে তোলে দেসেন করে তোলে।

জাতিসংঘ একটি খেলাঘর এখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করে কিন্তু পুতুল খেলার ঘর। ঘটনা যাই হোক তবে এবার ইউরোপের জালে ইউরোপ ফাঁদে পড়েছে চালবাজিটা খাটিয়েছে আমেরিকা ও জাতিসংঘ। এদের কারণেই পৃথিবীতে অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছে। ইউরোপের ম্যাপ এদের কারণে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। চালবাজ আমেরিকা ফ্রান্স ইতালি ইউকে বা ইউ ইউ ভুক্ত দেশগুলো তখন যুদ্ধে লুটে1র মাল ভাগ পাবার জন্য সরব ওরা তখন সৈন্য পাঠাবে। এরা ওদের সমর্থন দাতা এদের চামচা।

আমেরিকা যখন একটি দেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজাবে তখন এই সকল চামচা দেশগুলো ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো সহ জাতিসংঘের নিকট সাফাই গাইবে এই যুদ্ধ বৈধ। ন্যাটো তো অপেক্ষা করছে এদের কথা মান্য করার জন্য। এরা যখন যে দেশের পেছনে লাগবে সে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ফ্রান্স ইতালি ইউক্রেন ইউকে জার্মান এই সকল দেশের চামচামি ভূমিকার জন্য বিখ্যাত।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেকের বিষয় নয়, এটি বিশুদ্ধভাবে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ব্যাপার।বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যে দেশটি যুদ্ধের মুখে পড়বে সে দেশ অন্য কোনো দেশের আগ্রাসন বা আগ্রাসন-নীতির শিকার হবে। ঐ দুটি যুদ্ধরত দেশ ব্যতীত অন্য সকল দেশ তাদের স্বার্থ ও সুবিধা অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা সমর্থন করবে।
এর মূল বিষয় বা তুরূপের চাবিকাঠি হল এর সদ্ব্যবহার করা। কিন্তু প্রথমত, তারা নিজেরা কোন ভাবেই উল্লেখ করতে পারে না বা উপলব্ধি করতে পারে না।

তারা যদি এই নীতিহীন সুবিধাবাদী নীতিকে সমর্থন করে তবে তারাও একদিন অন্য শাসক দেশের আগ্রাসনের শিকার হতে পারে কারণ বিশ্বে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তবে যখন যার যায় সেই বুঝে হারানোর ব্যাথা সেই বুঝে এর কষ্ট কতটা যন্ত্রণাদায়ক। একটি স্বাধীন দেশ একটি স্বাধীন দেশের সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাত করা আর একটি স্বাধীন দেশের কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তোমার যেমন বাঁচার অধিকার আছে তোমার যেমন দেশ পরিচালনার অধিকার আছে তেমনই আরেকটি স্বাধীন দেশে রয়েছে তার দেশের সকল মানুষকে নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করা।
তোমরাই যখন ইরাক-ইরান আফগানিস্থান সিরিয়ায় আক্রমণ করলে তখন তোমাদের মানবতা কোথায় ছিল? তোমাদের প্রয়োজন ছিল দেশ তোমরা লুট করলে ইরাককে?

তোমাদের প্রয়োজন ছিল তেল তোমাদের প্রয়োজন ছিল সরকারব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা তোমরা আক্রমণ করলে সিরিয়াকে!
তোমরা ভূরাজনৈতিক খেলায় ইউরোপের মধ্যে কখনো চান্স পাও নি এশিয়াকে বানিয়েছিলে মৃত্যুর আঁতুড়ঘর তোমরা সর্বদা যুদ্ধ পরিস্থিতি লিখে রাখলে তোমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে।

তোমাদের সুবিধার জন্য তোমরা ইসরাইল-ফিলিস্তিনি যুদ্ধ নাটক সাজিয়ে এশিয়াকে উত্তপ্ত অবস্থায় সর্বদা রাখার জন্য নানাভাবে অস্ত্র দিয়ে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করো ইসরাইলকে।
তোমরা নিজেরাও জান মহাবিশ্ব জানে পৃথিবীর সকল মানুষ সকল দেশ জানে ইসরাইল একটি দখলকারী মুসাফির। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ প্যালেস্টাইনে এসে তারা তাদের গেম প্লে করে প্যালেস্টাইনীদের ভূমি দখল করে ধীরে ধীরে দেশ গড়ে। এই সত্য বিবেকবর্জিত একজন দেশ নেতাই অমান্য করতে পারে কিন্তু বিবেকবান মানুষ কখনই অমান্য করবেনা তারা সত্যপ্রকাশ করবেই।

দুই.
যে চেয়েছেন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল তারা ধর্মে ছিল মুসলিম-

'বুচার অব গ্রজনী' মানে হলো গ্রজনীর কসাই- "পুতিন'' চেচেন স্বাধীনতাকামীদের রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট চেচেন আক্রমন কালীন সময়ে পুতিন ছিলেন একজন মূল নেতৃত্বদানকারী সেনাবাহিনীর জেনারেল। তৎকালীন সময়ে মিস্টার পুতিন গ্রজনীকে যেভাবে মৃত্যুর মরু উপত্যকা বানিয়েছেছিলেন তার রেশ এখনো কাটেনি। সেটা শুধু একবার নয় তিন তিন বার শেষ পর্যন্ত অসংখ্য নাগরিককে হত্যা করে তারা চেচেনকে দখলে নিয়ে নেয়। কিছু স্বাধীনতাকামি যোদ্ধা আফগানিস্তান পালিয়ে যায়।

তারা ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে আফগানিস্তানে কাজ শুরু করলো তারাই হলো পরবর্তীকালে পৃথিবীর ভয়ঙ্কর অপরাধী- তবে আসি পুতিনের কথায় কসাই কখনও হিরো হয়না। বাঙালিকে ভেলকি লাগানো যেকোনো জাতির জন্য সহজ। এরা সস্তা আবেগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। মগজ বলতে কিছু নাই। ভালো মন্দ চিন্তা করার জন্ম যে মানসিকতা প্রয়োজন তার কোন কিছু নাই।

এরা কর্মের চেয়ে বেশি অকর্ম বোঝে। এরা যখন খুনিকে হিরো ভাবতে শুরু করে তখন পাশ দিয়ে একজন মুক্ত মত প্রকাশকারিকেও পুতিন ভাবতে শুরু করে মানে হিরো ভাবতে শুরু করে। এবং এর মধ্যে কারো কথা পছন্দ না হলে খুন করতেও দ্বিধা করে না। যুদ্ধ ধর্ম নিয়ে নয় যুদ্ধ হয় ভূমি তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ এমনকি একটি দেশের কৌশলগত ভুরাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপট দখলের জন্য।

সেক্ষেত্রে সবলের হুমকি আর নিগৃহীতার কান্না দেখা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। মজলুম আর শক্তির লড়াইয়ে সফলরা সর্বদাই জয়ী হয়। কিন্তু জয়ী হলেও কখনও হিরো হতে পারেনা, তারা কসাই উপাধিও পায়। পুতিন একজন ভূমি দখলকারী ক্ষমতালিপ্সু বর্বর ক্ষমতাসীন যে রাশিয়ার মোড়কে সর্বদা তার ছবি এর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য "যেকোনো মূল্যে'' ভয়ঙ্কর হতেও দ্বিধা করছে না।

আপনি যখন বুঝতে পারবেন না আগ্রাসন কাকে বলে অপরাধ কাকে বলে দখলদার বাহিনী কাকে বলে তখন আমি মনে করি আপনার ওপর যখন সবলের আঘাত হানাদেবে তখন বুঝতে পারবেন দুর্বল আর সকলের যুদ্ধে কে ভিকটিম। যাদের চোখ নেই তাদেরকে এভাবে বুঝিয়ে দিতে হয় যাদের বিবেক নেতাদের বিরুদ্ধে খুঁজে দিতে হয়।
সাপোর্ট করতে চান তেমনি সাপোর্ট পাওয়ার কথা ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনাইমান নেতানিয়াহু। অথবা ইসরাইল।

সেই হিসেবে আপনার সাপোর্ট পাওয়ার কথা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ সে হিসেবে সাপোর্ট পাওয়ার কথা ফ্রান্স ইতালি। কারণ ক্ষমতাধর যে কোন একটি দেশ রয়েছে সেই দেশ যে কোনো অজুহাতে একটা দেশে আক্রমণ করতে চাইলে সবার আগে এই সকল দেশগুলো তাকে সমর্থন করে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ