সম্পাদনাঃ শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ২৫/০২/২০২২ ১২:০৩পি এম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোন পথে এগোচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোন পথে এগোচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো
ad image
ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ-
কিংবা তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধের সংকেত কিনা সেটা বহন করছে পরাশক্তিদের মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা ও তাদের অবস্থানগত বিবেচনায়। তবে পরাশক্তি আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোর তৎপরতা রাশিয়ার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তবে কি হুম, ঠিক তাই এখন নতুন একটি যুদ্ধ দেখছে বিশ্ব, যেভাবে আর কখনো দেখা হয়নি। আমরা জন্মগ্রহণ করেছি 1980 এর দশকের শেষ শেষ সময় যা কখনও ইরাক, ইরান ইরাক আমেরিকা ও তার মিত্র শক্তির যুদ্ধ উপসাগরীয় যুদ্ধ আফগান আমেরিকা যুদ্ধ সিরিয়া আমেরিকা উত্তর মিত্রদের নিয়ে যুদ্ধ এযাবতকালের যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে যে যুদ্ধগুলোতে কখনো একসঙ্গে এত প্যারাট্রুপার নামতে দেখা যায়নি।

রাশিয়া তাই করে দেখালো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে আর আমরা যা আগে কখনো দেখিনি তাই দেখলাম প্রচুর প্যারাট্রুপার ইউক্রেনের মাটিতে পদার্পণ করছে। বারাক ওবামার সময়ে যেভাবে রাশিয়া ক্রিমিয়া (ক্রিমিয়া এখন একটি সায়ত্ত শাসিত স্বাধীন দেশ এবং 96 দশমিক 6 শতাংশ ভোট পেয়ে রাশিয়ার সাথে যোগ দেন এবং ভাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা দেন) দখল করে নিয়েছিল।

ঠিক একইভাবে জো বাইডেনের আমলে এসে ইউক্রেনে হামলা। রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর তার অখন্ডতা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক লড়াই করছে। এবং পোলান্ডের ভেতরে যে রাশিয়ার ভূমি আছে একসময় সেটাও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।

আজকের এই আক্রমণ দেখে বুঝতে বাকি রইলো না যে ন্যাটো ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা আমেরিকা যত হুমকি ধানকে দিয়েছে তার কোন কিছুই তোয়াক্কা করেনি ভবে টেকেনি বা আমলে নেননি বরং রাশিয়া রাশিয়া তার অবস্থানে থেকে আরও শক্তিশালী আক্রমণের যে প্রস্তুতি নিয়েছে তা দেখে মনে হয়েছে বিশ্ব শক্তিধর যে সমস্ত দেশ রয়েছে তারা রাশিয়ার এই হামলার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য।

যেভাবে বারাক ওবামার সময়ে রাশিয়া ( এমত অবস্থায় চেরনোবিলের দখল নিল রাশিয়া) দখল করে নিয়েছিল আর বারাক ওবামা সরকার কিংবা ন্যাটো বাহিনী কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন কিছুই করতে পারেনি ঠিক একই রকমভাবে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যে 23 টি শহর তছনছ করে দিয়েছে আর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দুটি শহর দখল করে নিয়েছে তা থেকে স্পষ্ট হয় যে রাশিয়া যেকোনো মূল্যে তার সোভিয়েত আমলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে সামনে ফিরিয়ে আনার যে ভূমিকা নিয়েছে তা অটুট ও অখন্ড রাখবে।

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অলরেডি ইউক্রেনের 70% সীমান্ত এরিয়ায় তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ধীরে ধীরে তারা ইউক্রেনের ভেতরে ঢুকে পড়ছে এবং রুশ কমান্ডারের যে আক্রমণের যে ছক তা দেখে হতভম্ব না হয় পারা যায় না। আমার জন্মের পর এই প্রথম প্যারাট্রুপার আমার যে দৃশ্যটি দেখলাম সত্যিই বিস্ময়কর। তারা কতটা সাহস এবং শক্তি নিয়ে ইউক্রেনের মাটিতে পা ফেলেছে তা দেখার জন্য ওখানকার ভৌগলিক অবস্থানরত মানসই ভালো জানেন। ইতোমধ্যে একটি রাজ্য দখল করে নিয়েছে।

ইউক্রেনকে যদি পুরোপুরি দখলে আনতে পারে তাহলে ইউরোপের মধ্যে যে থমথমে পরিস্থিতি পা আরো ভয়াবহ ও জটিল হয়ে উঠবে কারণ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই সময়ের ভৌগোলিক অবস্থান বার সীমারেখা পুনরুদ্ধারের জন্য যেভাবে ততপর এবং রাশিয়া ভেঙ্গে যে 13 টি দেশ গঠিত হয়েছে তাদের উদ্বেগ আরো বেড়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো কখনোই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোন লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আবার ন্যাটো ভুক্ত দেশের ওপরে রাশিয়া বা অন্য কোন দেশ কোনভাবেই হামলা করতে পারবেনা। সেখান থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার আক্রমণের শিকার থেকে প্রভাবেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় বলে বিবেচিত হয়।

রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকা বা অন্য যে সমস্ত শক্তিধর দেশ রয়েছে তারা তাদের অবস্থানে থেকে শুধু বিরোধিতাই করতে পারে একে অন্যের চেয়ে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকতে পারে এমনকি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।

এর বাইরে অন্য কোন দেশের কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। ইউরোপের মধ্যে ক্রিমিয়া রাশিয়ার পরে সবচাইতে বড় দেশ 2014 সালের মধ্যে দুটি রাজ্য তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। 2022 সালে এসে আকাশ জলপথে রাশিয়ার চতুর্দিক থেকে আক্রমণে ইতিমধ্যে আরেকটি রাজ্য রাশিয়ার দখলে চলে এসেছে।

একটি সূত্রে আমেরিকার সিআইএ একটি বিবৃতি দিয়েছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন এর রাজধানীতে সম্ভবত আক্রমণ চালাবে এবং পুরো ইউক্রেনকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। ব্যাপারটা যতটা সহজ করে বলা হয়েছে ততটা সহজ না হলেও অতটা জটিল নয়। অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলো কখনোই চাইবে না কোন পারমাণবিক দেশের সাথে সরাসরি বা মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হতে।

সেটা হোক আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মান অথবা যুক্তরাজ্য কেউ কখনও চাইবেনা কোন পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ওপরে তাদের শক্তির প্রয়োগ ঘটাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেটা দেখা যাচ্ছে সেখান থেকে বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনকে দখলে নিতে রাশিয়ার বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।

ইলেকট্রিক মেডিয়া প্রিন্ট মিডিয়া টকশোতে যেভাবেই যারা যা কিছুই বর্ণনা করুক না কেন সেটা জাস্ট শুধু একটা দেশের উপরে আরেকজন মানুষের প্রেডিকশন ছাড়া কিছু নয় বাস্তবতা এমন যে ওখানে কি হচ্ছে সেটা সেখানকার মিডিয়া এবং সেখানকার স্থানীয় প্রতিনিধি জনগণ ব্যতীত আর কেউ কিছু বলতে পারবে না।

তবে পরিস্থিতি যে খুবই ভয়াবহ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যাই হোক বাস্তবতাকে আমাদের মেনে নিতে হবে। ওখানে যেটাই ঘটুক সেটা দূর থেকে আমাদের দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই এখানে আমাদের মুখের প্রতিবাদ কোন কাজে আসবে না। সেই বলে প্রতিবাদ করব না তা নয়। আমরা যে কোন যুদ্ধের বিপক্ষে, যেকোনো লড়াই এর বিপক্ষে, যে কোনো ক্ষমতা বা শক্তি ধর দেশের ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তার ঘটানোর বিপক্ষে বা দুর্বলদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিকভাবে আক্রমণের বিপক্ষে। এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে ছাড়া ভালো কিছু হবে না।

আমাদের সময়ে যুদ্ধ দেখেছি আফগান যুদ্ধ ইরান যুদ্ধ ছবির ইউনিয়ন যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইরাক ইরান যুদ্ধ সিরিয়া যুদ্ধ আফ্রিকা অঞ্চলের যুদ্ধ এখনো থামেনি। দুর্বল ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধ আজও চলছে সাত বছর ধরে সর্বশেষ যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা সত্যিই ভয়ঙ্কর যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এই যুদ্ধের লাভ-ক্ষতির হিসাব করলে বোঝা যাবে না যে কি হবে তবে এই যুদ্ধে রাশিয়া যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে আর সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তা থেকে বোঝা যায় যে কোন শক্তি যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামেন তাহলে তাদের ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে তা বুঝিয়ে দিতে পারে এবং এর জন্য তারা প্রস্তুত।

চারপাশের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে তবে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এমত অবস্থায় ঘটবেনা। পারমাণবিক শক্তিধর যেকোনো একটি দেশে যদি বিরুদ্ধে যায় আর তারা শক্তির প্রয়োগ ঘটায় তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে ইউক্রেনের একটা রাজ্য দখল নেয়ার পরেও অনুমান করা যাচ্ছে যে ন্যাটো বাহিনী কিংবা আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্স ইতালি জার্মান যেভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে।

তখন সালটা ছিল 1923 থেকে 1991 সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসেবে স্নায়ুযুদ্ধের লিপ্ত ছিল। তবে হাজার 1991 সালে ইউনিয়ন পতনের পর 15 টি দেশ গঠিত হয়।

ভ্লাদিমির লেনিন এর বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে 1917 সালের অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে যে যুদ্ধটি সংঘটিত হয় সেটাই হোক সাম্রাজ্যের পতনের কারণ বলে বিবেচিত করা হয়। এই বিপ্লব ও সারা বিশ্বে কমিউনিস্ট বিপ্লব হিসেবে পরিচিত লাভ করে যার ফলশ্রুতিতে তাত্ত্বিক দর্শনের ভিত্তিতে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সোভিয়েত ইউনিয়নের সৃষ্টি হয় 1918 সালে। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে 1918 থেকে 1920 সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন।পরবর্তীতে 991 সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে ও 15 টি রাস্ট্র নতুনভাবে জন্ম নেয় পৃথিবীর মঞ্চে।

সোভিয়েত স্নায়ুযুদ্ধ যুগে পৃথিবীর সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। মূলত চারটি প্রজাতন্ত্র হতে সোভিয়েত ঐকের উৎপত্তি হলেও 1956 হাজার 1991 সালের ভেঙ্গে যাবার আগ পর্যন্ত এই ইউনিয়নের প্রজাতন্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল 15টি যা বর্তমানে।

১. আর্মেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
২. আজারবাইজানি সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৩. বেলারুশীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৪. এস্তোনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৫. জর্জীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৬. কাজাখ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৭. কিরগিজ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৮. লাটভীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
৯. লিথুয়ানীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১০. মলদোভীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১১. রুশ সোভিয়েত যুক্তরাষ্ট্রীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১২. তাজিক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১৩. তুর্কমান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১৪. ইউক্রেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
১৫. উজবেক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ