Md Tarik Hossan - (Rajshahi)
প্রকাশ ২২/০২/২০২২ ১২:২৪পি এম

খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আবিজান বেওয়ার, পায়না সম্মানী ভাতা

খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আবিজান বেওয়ার, পায়না সম্মানী ভাতা
ad image
স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ চান্দ মিয়া। মারা গেছেন হানাদার বাহিনীর গুলিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় । তবে দিন- তারিখ- সাল সবকিছুই যেন মাত্র ক'দিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো পরিষ্কার বলতে বলতে কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছেন স্ত্রী আবিজান বেওয়া (৭০)।

আবিজান বেওয়া (৭০) রাজশাহী চারঘাট পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ড এলাকাধীন আসকেরপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ চান্দ মিয়ার স্ত্রী।

শহীদ চান্দ মিয়ার দুটি ছেলে সন্তান। মাত্র কয়েক বছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যাই বড় ছেলে। ছোট ছেলে বেঁচে থাকলেও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ঘুরছে পথে পথে।

এমতাবস্থায় একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়েও সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত আবিজান বেওয়া। সারা বছর খোজ নেয় না কেউ। তার এমন মানবেতর জীবনযাপন দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, শহীদ চান্দ মিয়া ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন চারঘাটের সরদহ পুলিশ একাডেমীর নিচে নদীর ধারে। চাকরি করতেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সরদহতে ঘোড়ার রাইটিং হাবিলদার পোস্টে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য পরিবার পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে সনদ ও নগদ অর্থ ।

তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ৫০ বছরেও দেশের জন্য ত্যাগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাইনি এই পরিবার। এমনকি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেওয়া সম্মানী ভাতাও পাইনা তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিন শেড লতাপাতা ঘেরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবার টি। অনাহারে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আবিজান বেওয়ার।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা চান্দ মিয়ার পরিবার না খেয়ে থাকাটা একটি দেশের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ চান্দ মিয়ার স্ত্রী আবিজান বেওয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরলে তখন বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে স্বাক্ষরিত স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র আমার হাতে তুলে দেন। সে সময় দুই হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

"যার প্রমাণ স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সেই সনদ টি আজও আবিজান বেওয়ার কাছে এখনো সংরক্ষিত।"

এর পরে আর দৃশ্যমান কোনো সহযোগিতা বা আমার পরিবারের পাশে কাউকে দাঁড়াতে দেখিনি। অনেক সময় তালিকায় নাম থাকা না-থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও টাকার অভাবে আমার স্বামী আসল মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিজের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। পাইনি সামান্য সম্মানী ভাতা টুকুও।

এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে আবিজান বলেন, আমি অসহায়, সত্তরের বেশি বয়স হয়ে গেছে। আর কদিনি বা বাঁচবো? আমার এই স্বল্প জীবন দশায় স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মৃত্যুর আগে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে দিলে আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবো

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ