Md Tarik Hossan - (Rajshahi)
প্রকাশ ২১/০২/২০২২ ১২:৫০পি এম

গাছে গাছে আমের মুকুল, পরিচর্যায় ব্যস্ত চারঘাটের কৃষকরা

গাছে গাছে আমের মুকুল, পরিচর্যায় ব্যস্ত চারঘাটের কৃষকরা
ad image
শেষ সময়ে কুয়াশার সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তবে বসন্তের আগমনী সঙ্গীত বাজিয়ে জেগে উঠেছে আমের মুকুল।

রাজশাহীর চারঘাট অঞ্চলে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশিসহ নানা জাতের আমগাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে মুকুল। উপজেলার নিমপাড়া, ভায়ালক্ষ্মীপুর, সারদা, শলুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার তিন হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে দেশি, বারী-৪, বারী-১১, আম্রপালি, আশ্বিনা ও ল্যাংড়া জাত উল্লেখযোগ্য। গাছে গাছে ফাল্গুন মাসেই মুকুল আর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়ানোতে আমবাগান এলাকায় ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমচাষিদের মাঝেও ভিন্ন আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার ঘন কুয়াশা না থাকার কারণে মৌসুমের আগেই আমের গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। 

উপজেলার নিমপাড়া, ভায়ালক্ষ্মীপুর, সারদা, শলুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক বাগানের আমগাছেই আগাম আমের মুকুল চোখে পড়ছে। এ কারণে কৃষকরা সতর্কতার সঙ্গে আমগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 

তবে কৃষি বিভাগ দাবি, এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর আমচাষিরা অনেক আগে থেকে গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। গাছে কীটনাশক, সারসহ পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে সময়মতো। ফলে অনেক গাছেই আগাম জাতের মুকুলসহ বর্তমানে প্রায় গাছেই শোভা পাচ্ছে মুকুল। 

হয়তো ফাগুনের দুই সপ্তাহের মধ্যে চারঘাটের প্রতিটি আমবাগানের গাছে গাছে পুরোপুরি শোভা পাবে মুকুল। এরই মধ্যে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। তাই আশায় বুক বাঁধছেন আমচাষিরা।

এদিকে রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন পরানপুর এলাকার বিভিন্ন বাগানে গেলে বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মাঘের শুরুতে আমগাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেছেন। এখন ফাল্গুন মাস। ফলে এ মাসের মধ্যেই সব গাছেই মুকুল ফুটবে বলে আশা করছেন তারা। 

আমচাষি সেলিম রেজা বলেন, গত বছর গাছে মুকুল এলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। তাই এবার আগে থেকে গাছে ভিটামিন গাছের গোড়ায় সার, পানি সেচ দিয়ে পরিচর্যা করে চলেছেন। যাতে করে আম আসার সময় মুকুলের গোড়া শক্ত হয়। তাই এবার তারা আশা করছেন আবাহাওয়া ভালো থাকলে আম বাগানের গাছে গাছে অনেক আম আসবে। এমন আশা প্রকাশ করছেন প্রায় সব চাষিরাই। 

আম ব্যবসায়ী ও চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমের মুকুল যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য এন্টাকল, কনসিডর ও বেসিস নামের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতে করে হপার পোকার আক্রমণ, পাতা কাটা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। 

কৃষি কর্মকতারা বলছেন, অবাহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। কৃষকরা নিজ নিজ আম বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। কিছু কিছু গাছে সবে মাত্র দেখা দিতে শুরু করেছে মুকুল মুখ। এখন গাছে সেচ বা বৃষ্টিরও খুব দরকার নেই বলেও মনে করছেন কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ থেকে এবার আগে থেকে চাষিদের সচেতন করে তোলা হয়েছে। তারা সারা বছর ধরে সার সেচ, গাছের পরিচর্যা করে আসছেন। 

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার জানান, এবার মাঘ মাসে বিভিন্ন গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের আমগাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহওয়ার বিরূপ প্রভাব না পড়লে এবার বাম্পার ফলন হবে, যা বর্তমান গাছে গাছে মুকুলের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ