এসএম হাসান আলী বাচ্চু - (Satkhira)
প্রকাশ ১৯/০২/২০২২ ০৭:২৪এ এম

উপজেলার ২০৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

উপজেলার ২০৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
ad image
ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হলো শহীদ মিনার।মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠাতায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে তৎকালীন পাক পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত,আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্র যুবক বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।কিন্তু ভাষা আন্দোলনের এই ৭০ বছর পার হতে চললেও তালা উপজেলার ৩২৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য প্রায় ২০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরী করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেওয়া আছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার করা সম্ভব হয়নি।‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শহীদ মিনার নেই,এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর তালিকা করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, তালা উপজেলায় ১৩টি মহাবিদ্যালয়, ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৫টি মাদরাসা, ও ২১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি মহাবিদ্যালয়, নন এনপিও ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,১৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৩৫টি মাদরাসা ও ১৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার নেই।

প্রকাশ,সরকারি নির্দেশনা আছে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করার। কিন্তু তালা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি আজও।উপজেলা সদরে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে। বাকি অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি” এই গানটি শহীদ মিনারের সামনে দাড়িঁয়ে গাইতে পারে না।তাই কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কলা গাছ, বাঁশ, কাঠ, আর কাগজ-কাপড়ে তৈরি করা অস্থায়ী শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে তালা উপজেলার শিক্ষার্থীদের। আবার যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার আছে, শুধু ফেব্রুয়ারী মাস এলেই সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। বাকি মাস গুলোতে শহীদ মিনার চত্বর বছর পর বছর অযতœ-অবহেলায় ময়লা,আবর্জনা,ধূলা বালিতে পরিপূর্ণ থাকে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল জলিল বলেন, বাংলাদেশ নামক ভুখন্ডের সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার শহীদ মিনার। আমাদের দুর্ভাগ্য যে ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর আর দেশ স্বাধীনের ৫২ বছর পার হতে গেছে কিন্তু তালা উপজেলাসহ দেশের শতভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের সরকার, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরধাকারী। তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌছে যাচ্ছে। তিনি যদি প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার উদ্যোগ নেন তাহলে হয়ত আমি মৃত্যুর আগে শহীদ মিনার গুলো দেখে যেতে পারবো।
উপজেলা সুনাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম হাসান আলী বাচ্চু ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্প(সাহায্য) সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবলুর রহমান বলেন, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকাটি দু:খের বিষয়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না। অতিদ্রুত উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মণি করা হোক। এটা আমাদের প্রত্যাশা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, জায়গা সংকটের কারণে কিছু কিছু স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক শহীদ মিনার না থাকা প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। অতিদ্রুত বরাদ্দ পেলে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ^াস বলেন, ইতিমধ্য তালা উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই পর্যায়ক্রমে সেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ