Ali imran - (Tangail)
প্রকাশ ১৭/০২/২০২২ ০৮:২০এ এম

"আইপিএল! নাচতে না জানলে,ওঠান বাঁকা"

"আইপিএল! নাচতে না জানলে,ওঠান বাঁকা"
ad image
পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে,সেই সাথে খেলার ধরণও পাল্টাচ্ছে।মানুষ কম সময়ে এখন বেশি বিনোদন চায়।তাই ক্রিকেটে সংক্ষিত সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আভির্ভাব ঘটে। ২০০৭ সালে সাউথ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে এই ক্রিকেট টুনামেন্ট বেশি জনপ্রিয় হইয়ে ওঠে ক্রিকেট প্রেমী মানুষদের কাছে।এই জনপ্রিয়তার জন্যই ২০০৮ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে আসে ফ্রাঞ্চাইজিক ভিত্তিক ক্রিকেট টুনামেন্ট আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ। শুরুতেই বড় বড় ইন্ডিয়ান বলিউডের সুপারস্টারা দল কিনতে থাকে আইপিএলে যার ফলে জনপ্রিয়তাটা অনেকটাই অভাবনীয় হয় এবং তার সাথে ছিল বিশ্বের সব বড় বড় মারকুটে ব্যাটার এবং বিধংসি সব বোলার যা এর জনপ্রিয়তা অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

ফ্রাঞ্চাইজিক গুলোর টাকার ঝনঝনানি আর সাথে সব মোনোপ্রদো সব বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণা সব যেন অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় লীগটি কে। আইপিএলের সফতা দেখে বিশ্বের অনেক দেশিই ফ্রাঞ্চাইজিক ভিত্তিক টুনামেন্ট শুরু করে কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা সেই পর্যায়ের হয়নি।বিপিএল,বিগ ব্যাশ,সিপিএল,পিএসএল,এসপিএল,এপিএল অন্যতম। আইপিএলকে অনুকরণ করে ২০১২ সালে বাংলাদেশে শুরু হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বা বিপিএল।টাকার ঝলকানিতে পিছিয়ে থাকলেও ভালো রকম জনপ্রিয়তা পায় বিপিএল।কিন্তু তার দু বছর পরই পাল্টাতে থাকে সব কিছু লীগটির সেই ধারাবাহিকতা কিংবা জনপ্রিয়তা সব হ্রাস পায়।

এক সময়ে আইপিএলের পর স্থানে থাকা লীগটি সৎ ইচ্ছা,অনিয়ম এবং কান্ডজ্ঞানহীন সিধান্তের কারণে মুখ থুবরে পরার অবস্থা। বিসিবিকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু সেই ক্রিকেট বোর্ডই নাকি ক্রিকেটের আধুনিক ক্রিয়া ব্যবস্থাপনা রাখতে পারে না।এতো গেল টেকনোলজির কথা এবার বলা যাক মাঠের অবস্থার কথা।যদি মিরপুরের উইকেট এর দিকে তাকাই রান তোলাই দুষ্কর এইখানে ব্যাটারের জন্য।বিপিএল জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আরো একটি কারণ হল হাতে গোনা দু একটি মাঠে খেলা চালানো।যদি বিদেশি ফ্রাঞ্জািজিক গুলোর দিকে তাকাই দেখা যাবে তারা হোম এবং এওয়ে ম্যাচ আয়োজন করে ফলে তাতে দর্শক সংখ্যাও বেশি হয়।ফ্র্যাঞ্চাইজিক গুলো বিশাল একটি সংখ্যা তুলে নেয় জার্সি বিক্রি করে।কিন্তু বিপিএলের ১০ বছর পার হলেও এখন সিলেট,মিরপুর,চট্টগ্রাম ব্যাতিত কোথাও বিপিএল আয়োজনের আগ্রহ খুজে পায় না বিসিবি।
অথচ দেশে কক্সবাজার,শহীদ চান্দু,আবু নাসের,ফতুল্লাহ,রাজশাহীর মতো স্টেডিয়াম অবহেলায় পরে আছে।

বিপিএল তার যাত্রা শুরু করেছিল নিলামের মাধ্যমে খেলোয়ার বেচা কেনার মাধ্যমে কিন্তু পরবর্তীতে তা রুপ নেয় ড্রাফট মাধ্যমে যার প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ জন্মায় না টুনামেন্ট শুরু হওয়ার আগে। বিপিএলের বেশির ভাগ আসরের দিকে তাকালেই দেখতে পাবো যে প্রায় বেশির ভাগ খেলোয়ার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হয়ে থাকে না।যার ফলে আসরের সেই মান মর্যাদা থাকে না।

আর এবারের আসর নিয়ে তো আলোচনা আরো অনেক বেশি কারণ পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএলে) বেশির ভাগ অবিক্রিত খেলোয়ারাই খেলছে বিপিএলে।প্রশ্ন আছে বিপিএল সহ পুরো ঘোরোয়া ক্রিকেট টুনামেন্টের আম্পায়ারিং নিয়ে।আন্তর্জাতিক মানের একটি আসরে নেই অত্যাধুনিক অনেক ব্যবস্থা,নেই পর্যাপ্ত ক্যামেরা,নেই ডি,আর,এস এর মতো প্রযুক্তি।

তার উপর ফ্রাঞ্চাইসিস গুলোর অনিয়ম,অর্থের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি অভিযোগে এখন পর্যন্ত কতবার দল গুলোর মালিকনা পরিবর্তন হইয়েছে তা হিসাব ছাড়া।বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিস গুলোকে দেখা যায় একটা প্রতিষ্ঠানই একটি দল কিনে নিচ্ছে।পরবর্তিতে দেখা যায় ফ্রাঞ্চাজিস গুলো নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।
যদি আমরা আইপিএলের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো রাজস্থান,পাঞ্জাব,কলকাতার মতো দল গুলো পার্টনারশিপের মাধ্যমে দল কিনেছে।যদি বাংলাদেশের ফ্রাঞ্চাইজিস গুলো এমন পথে হাঠতো তাহলে হয়তো বা বিপিএলও বড় মাপের অর্থ খরচ করতে পারতো টুনামেন্ট আয়োজন করতে।

১২ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেছে আইপিএলের মেগা নিলাম যেখানে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করবে মুস্তাফিজুর রহমান।এর আগে মাশরাফি,আশরাফুল,আব্দুর রাজ্জাকেরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেলেও কেউ ছিলেন না সাকিব আল হাসানের মতো নিয়োমিত।২০১১ সালে কলকাতার হয়ে আইপিএলে অভিষেক ঘটে সাকিবের।কলকাতার হয়ে ২০১২ এবং ২০১৪ তে আইপিএলের শিরোপা জিতে ছিলেন সাকিব। ২০২২ এর নিলামে সাকিবের নাম উঠলেও নিলামে কোনো দলই তাকে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

এখন সাকিব অবিক্রত থাকায় অনেকে দোষ দিচ্ছেন আইপিএলের।তারা ভাবচ্ছেন সাকিবের প্রতি একটি অবিচার হয়েছে এবং তারা ইচ্ছাকৃত ভাবেই তারা এটা করেছে। আইপিএলে সাধারণত বিগ হিটার কিংবা মিস্ট্রি স্পেশাল স্পিন কিংবা এক্সেপশনাল বোলারা বেশি প্রধান্য পায় কিন্তু সে দিকে সাকিব অলরাউন্ডার মূলত সেই কারণেই আইপিএলের দল গুলোর আকর্ষনের মূল কারণ ছিল এক সময় সাকিব।

কিন্তু এবার সাকিবের না কেনার কারণটা কি? আসলে আইপিএলের যেসব ফ্রাঞ্চাইসিস গুলো ক্রিকেটার দের ১-১.৫ বছেরের ফর্ম,তাদের বয়স,গত আসরের ফর্ম,রিসেন্ট পার্ফোমেন্স বিবেচনায় বেশি রাখে সাধারণত।
২০২১ এ অনুষ্ঠীত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পার্ফোমেন্সের দিকে তাকালেই দেখা যাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদশের সব খেলোয়ার ফর্ম শূন্য ছিল।সাকিব এই বিশ্বকাপে ঠিক মতো চেনাতে পারনি নিজেকে।শুধু তাই নয় ২০২১ এ সাকিবের পার্ফোমেন্স ছিল সাদা মাটা যার একটি নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পড়ছে এই বার নিলামে।আর তা ছাড়াও সাকিবের বয়সও বেশির দিকে।

এখন অনেকে বলছে সাকিবের সাম্প্রতি বিপিএল ফর্ম কে বিবেচনায় কেন নেওয়া হলো না? বিপিএলের ব্যপারে যা বলার আমি উপরে আলোচনা করেছি।বিপিএলের বর্তমান আসরের যে অবস্থা এই অবস্থার কোন পার্ফোমেন্সি আইপিএলের মতো ফ্রাঞ্চাইজিস গুলো আমলে নিবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই বাধ্য হয়েই বলতে হয় "নাচতে না জানলে,ওঠান আসলেই বাঁকা"


লেখাঃ আলী ইমরান।
শিক্ষার্থী,কলামিস্ট
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ই-মেইলঃ rahul.aliemran@gmail.com

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ