Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ১৬/০২/২০২২ ০৩:১২পি এম

শাহীন খানের শেষ কথা কী শুনবেন - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ?

শাহীন খানের শেষ কথা কী শুনবেন - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  ?
ad image
আওয়ামী লীগের বিশুদ্ধ রক্ত যারা শরীরে বহন করছেন - তাঁরা নিশ্চয়ই একজন শাহিন রেজা খানের আত্মত্যাগের ইতিহাসটুকু অবগত আছেন। মানবিক কারণেই শাহীন ভাইয়ের নিঃস্তব্ধ উচ্চারণ গুলো তুলে ধরবার প্রয়াস পেয়েছি। অন্তত এই প্রজন্ম জানুক - সদা হাসোজ্জল শাহীন ভাই কেমন আছেন ?

" শাহিন রেজা খান "একজন প্রচারবিমূখ রাজপথের লড়াকু সৈনিক। রাজনৈতিক জীবনের ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই মানুষ মনে রাখতে চায়না। আবার কেউ ইচ্ছে করেই প্রকাশ করেনা। তাতে কেউ লাভবান হয়ে যায় এই দৃষ্টিতে। অনেক সত্য ইতিহাস কালের গর্ভে ধামাচাপা পড়ে যায় । জীবন সংসারের প্রচন্ড ব্যস্ততায় রাজনীতির মাঠ থেকে যারা সরে গেছেন অথবা রুটি রুজির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন। তাদের কাছে শাহীন ভাই এখনো একজন দরদিয়া মানুষ হয়েই আছেন। প্রেরণার মানুষ হয়ে আছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে একটা বদলির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা গুনতে হয় সেখানে শাহীন ভাইয়ের একটা টেলিফোনে বদলি হয়ে যান উপকারভোগী। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থেকেছেন। এটাই শাহীন ভাইয়ের কৃতিত্ব।

আমার মনে আছে - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ম যখন ঢাকা এয়ারপোর্টে এলেন ছাত্র লীগের বিশাল মিছিলের অগ্রভাগে এই শাহীন ভাইদের উচ্চকন্ঠ - শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়তো। মোহাম্মাদপুর থেকে বরকত ভাই, পান্না ভাই আমাদের মিছিলে নেতৃত্ব দিতেন " বিচ্ছু জালাল ভাইয়ের অসীম সাহসিকতার শ্লোগান আজো মনে পড়লে শিউরে উঠি। কী তেজদীপ্ত বজ্র কন্ঠ। বঙ্গবন্ধু'র আদর্শের সৈনিকদের বিচরণে রাস্তায় সাজ সাজ রব পড়ে যেতো। ক্যান্সারে আক্রান্ত সেই শাহীন ভাইয়ের আজ কত শান্ত হয়ে গেছেন। চুপচাপ হয়ে গেছেন।

আশির দশক - নব্বই দশকেও ঢাকার রাজপথে একাত্তরের ঘাতকচক্রের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ছিলো শাহিন রেজা খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশুদ্ধ রক্তের উত্তরসূরি ছিলেন বলেই আজ অবহেলিত উপেক্ষিত। সত্য কে সত্যি বলে বীরদর্পে যারা উচ্চারণ করেন এঁরাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের প্রকৃত অর্থেই নিবেদিত প্রাণ। মানুষ ভূলে গেলেও ইতিহাস কখনো তাঁদের ভূলে না।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সত্তরের গণপরিষদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মাদারীপুর জেলার গভর্নর, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, শরীয়তপুর থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আবিদুর রেজা খানের সন্তান শাহিন রেজা খান। শরীরে প্রবাহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একজন সৈনিক।

পারিবারিক রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে শাহিন ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আশির দশকে অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে ঢাকার রাজপথে শাহিন ভাই বিচক্ষণ নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। যা তত্কালীন ছাত্রলীগের অনেকেই অবগত আছেন। এলিফ্যান্ট রোডের বাড়িটি ছিলো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় ।তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নির্লোভ দৃষ্টি ভংগী অনেকের নজর কেড়েছিল। বড় বড় সিনিয়র নেতারা স্নেহ করতেন। কখনো দলীয় প্রভাবে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করেননি। যতটুকু পেরেছেন নিজের সীমাবদ্ধতায় থেকে অন্যের উপকারই করেছেন।

ছাত্রলীগের রাজনীতির পরে শাহিন রেজা খান যোগ দেন যুবলীগের রাজনীতিতে। ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। একমাত্র শাহিন ভাইয়ের কারণেই তাদের বাড়ির সদর দরজা রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা উন্মুক্ত থাকতো নেতাকর্মীদের জন্য । আজও তাদের বাড়ির সদর দরজা রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা খোলা আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিকের জন্য। যারা আজ রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত সেটি ছাত্র নেতা হোক অথবা এমপি মন্ত্রী হউন একবেলা না খেয়েছেন তা বলতে পারবেন না । ভালো চিন্তায় যার দিন কেটেছে - তাঁর ব্যক্তিগত চাহিদা কত হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেই সামনে রেখেই আমৃত্যু চলতে চেয়েছেন। কারো প্রতি কোন ক্ষোভ নেই। কর্তব্য মনে করেই সব দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে শাহিন ভাই মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সিঙ্গাপুরে নিয়মিত চিকিৎসা করাচ্ছেন ইতিমধ্যে কয়েকটি জটিল অপারেশনও করাতে হয়েছে। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি বিক্রি করতে হয়েছে। নিজের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে এখন তার একমাত্র সম্বল পৈতৃক বাড়িটি। আত্মমর্যাদা সম্পন্ন শাহিন ভাইয়ের মনোবল এখনো ভেঙে যায়নি। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর সবর করে তিনি আজো অপেক্ষা করে চলেছেন -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে মনের কথা বলবেন - এটাই তাঁর বড় প্রত্যাশা।

দেশের অনেক কলংকিত ভিআইপিরা গণভবনে অবাধ প্রবেশাধিকার ছিলো। সেখানে বিগত দুই বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও শাহিন ভাইর জন্য গণভবনের একটা পাস ব্যবস্থা করতে পারিনি । প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কর্মরত ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বলেও পাস পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের বলা হয়েছিলো - কমপক্ষে নেত্রীর কানে শাহিন ভাইয়ের নামটা অন্তত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন কিন্তু কেউ করেননি। নেত্রী শাহীন রেজা খানের নাম শুনলে তিনি নিজেই তাকে গণভবনে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন আমার সেই কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি।

শাহীন রেজা খান কখনোই নেত্রীর কাছে চিকিৎসার অর্থের জন্য হাত পাতবেন না। তিনি শুধু তার বর্তমান অসুস্থতার অবস্থার জানাতে চেয়েছিলেন। মরে গেলে একটা তৃপ্তি পাবেন যে এই প্রাণপ্রিয় সংগঠনে পেছনে কত্ত সময় দিয়েছেন। বিপদে কর্মীদের খোঁজ খবর রেখেছেন - আরও কত কী !

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কর্মরত শাহিন ভাইয়ের রাজপথের সহযোদ্ধারা বেমালুম ভূলে গেলেন এই শাহিন ভাইয়ের কথা। তাঁরা এমনই হয়ে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অসুস্থতা সংবাদটি নেত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন নি ।

আজ শাহিন রেজা খান অনেক অসূস্হ। দ্রুত একটি বড় অপারেশন প্রয়োজন। যে অপারেশন ঢাকা কিংবা ভারতেও হবে না। সিঙ্গাপুরে অপারেশন করাতে যে অফিসিয়ালি ঝামেলা পোহাতে হবে বর্তমান করোনা সিচুয়েশনের কারণে - সেই ধকল শাহিন ভাইর পরিবারের পক্ষে সামলানো সম্ভব না। এতকিছুর পরেও শাহিন ভাই আশাহত নন - বর্তমানে শক্ত মনোবলই এবং আল্লাহতালার অসীম কৃপায় তার বেঁচে অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে হাতে গোনা যেসব পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁদের মধ্যে এই পরিবারটি অন্যতম।

আমাদের প্রত্যাশা - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শাহীন রেজা খানের বর্তমান দূরাবস্থা জানবেন - তাঁকে কাছে টেনে নেবেন কারণ " তিনিতো মানবতার নেত্রী - মানবতার মা "

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ