Harunur Rashid - (Rajbari)
প্রকাশ ১৪/০২/২০২২ ০৬:৫৮পি এম

পরবর্তী ইসি কি পারবে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে?

পরবর্তী ইসি কি পারবে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে?
ad image
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে শুধু ধ্বংশই করেননি কেএম নুরুল হুদা পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে গলাটিপে হত্যা করেছেন।একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান কে ধ্বংশ করার অপরাধে তার বিচার হওয়া উচিত।আমার মতে কেএম নুরুল হুদার মতো অথর্ব অপদার্থ কে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বা তাকে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংশের অপরাধে কোন রকম দায় মুক্তি দিলে পরবর্তীতে যত ভাল এবং ভদ্রলোক কে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হয় তারা কখনোই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনরুপ সংস্কার বা কমিশনের প্রতি জনগনের আস্থা বিশ্বাস কোনটাই ফিরিয়ে আনতে পারবেনা।বাংলাদেশের জনগন নির্বাচন ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে আর কাউকেই বিশ্বাস করেনা।বিশ্বাস করার কি কোন যৌক্তিক কারন আছে? দিনের ভোট আগের রাতে হওয়া,ভোট কেন্দ্র ভোট দিতে গেলে বলা হয় আপনার ভোট হয়ে গেছে,মৃত ব্যক্তির ভোট কাস্ট হওয়া,ভোটার শূন্য ভোট কেন্দ্র এসব চিত্রই ছিল গত আট বছরের নির্বাচন ব্যবস্থায়?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো নির্বাচন কমিশনের প্রতি দেশের সাধারন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।দেশের মানুষ এখন তার শত্রুকে বিশ্বাস করলে ও দেশের নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি নূন্যতম বিশ্বাস নেই। আমরা বিএনপি আমলে মাগুরা ও ঢাকা দশ আসনের নির্বাচন কে যদি কলঙ্কিত বলি তাহলে কাজি রকিব উদ্দিন কমিশন ও কেএম নুরুল হুদার কমিশন ছিল আরো বেশি জঘন্য কলঙ্কিত?২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন যেখানে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এমন একটি নির্বাচন একটি গনতান্ত্রিক দেশে সাংবিধানিক বৈধতা পাওয়ার কথা নয়?এই ধরনের নির্বাচন ও সরকার নিয়ে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করতে পারতেন।বলা যায় সেখান থেকে সাহস পেয়ে কেএম নুরুল হুদা দিনের ভোট রাতে করে ফেললেন ২০১৮ সালে?নুরুল হুদা কে মেরুদণ্ডহীন বলে কোন লাভ নেই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই গত আট বছরে মেরুদণ্ডহীন করে রাখা হয়েছে।

কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন কোন মানুষই নিরপেক্ষ নেই কিন্তু ইচ্ছে করলে শতভাগ নিরপেক্ষ কার্য সম্পাদন করা সম্ভব।আমরা যেমনটা দেখেছি এক এগারোর সময় ড.এটিম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময়।তারা অবাধ সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছেন। এটা যদি আমরা স্বীকার করি তাহলে বলতে হবে তারা ঠিক কি ধরনের সরকার ব্যবস্থায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পেরেছেন।সে ধরনের সরকার ব্যবস্থা কি দেশে আছে?একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সে ধরনের সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাদের স্বদিচ্ছা থাকতে হবে।স্বদিচ্ছা আছে কি নেই তাতো আমরা গত আট নয় বছর যাবত দেখে আসছি।

রাষ্ট্রপতি আবার সার্চ কমিটি করে দিলেন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে।গত কয়েকদিনে আমরা এটা অন্তত দেখতে পেরেছি রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটি দেশের বিশিষ্টজনের সাথে ও বসেছেন, তারা চাইলে সম্পাদক পরিষদের সাথে ও বসতে পারেন।কিন্তু এসব বসাবসিতে আলোচনায় কি সত্যিসত্যিই এমন লোক বের হয়ে আসবে যে সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবেন?এটি শুধু আমি কেন কোন পাগলে ও বিশ্বাস করবেনা।কারন কাজী রকিব উদ্দিন ও কেএম নুরুল হুদা যা করেছেন তাতে বিশ্বাসের কোন উপাদান বাকী নেই।পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের লোকজন যদি দু একটি সিটি নির্বাচন দিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জিতিয়ে দেন তাহলে ও কি নির্বাচন কমিশনের প্রতি দেশের সাধারন জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসব?আমি অন্তত মনে কারিনা গত আট নয় বছরে কাজী রকিব আর কেএম নুরুল হুদা নির্বাচনী ব্যবস্থায় যে চুরি চালিয়েছেন তাতে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস সহজে ফিরে আসবেনা।পরবর্তী ইসি কি পারবে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে?আমি মনে করি তা করতে হলে কেএম নুরুল হুদাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে?

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ