সম্পাদনাঃ শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ৩০/০১/২০২২ ০৬:২২এ এম

সংক্ষিপ্ত জীবন

সংক্ষিপ্ত জীবন
ad image
যে জীবন দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। যে জীবন কচি বৃক্ষের পাতার মতো, কোন এক দুর্যোগে ভেঙ্গে যাওয়া ডাল। সে জীবন অকালে চলে যায় ঝরে যায়, পড়ে যায়।
সে জীবন উদ্দেশ্যহীন।
বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা একদম অনিশ্চিত।
সে জীবন পাখির ডানায় ভাসা শূন্য জমিনের ময়লা।
সে জীবনের সবকিছু থেকেও শূন্যতা গ্রাস করে চারদিক থেকে।
সে জীবনের ভুলগুলো এতটাই কঠিন, তার জন্য কোন হৃদয় পাথর থেকে বিন্দুমাত্র তরল পদার্থে পরিণত হয় না।

এই জীবনের খেলা খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে
যার কোন ওয়ারিশ নেই, যা শুধু বর্তমান বিদঘুটে অন্ধকার এই একটিমাত্র বর্তমান।
এ জীবনের ভবিষ্যৎ কি সেটা নাইবা শুনলে কেউ।
তবে এটুকু বলতে পারি এই সরির এ দেহ এই চোখ আর খুব বেশিদিন তোমাদের সামনাসামনি হবে না দেখবে না প্রতিদিনের চলা মেঠো পথ। কারণে-অকারণে বসবেনা বন্ধু মাণিকের দোকানে। কারণে-অকারণে বসবে না মনো দাদার দোকানে।

তোমাদের ভালোবাসা আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে-
মৃত্যুর পরে তোমাদের কি হবে হয়তোবা মনে স্থির ভাবে সে সব ভেবে রেখেছো।
কিন্তু আমিতো জানি মৃত্যুর পরে আমি আর কিছুই থাকবো না।

দ্বিতীয় কোন জীবন নেই যেখানে।
শরীরের বিলীন এর মাধ্যমে আত্মার যে চলে যাওয়া।
সেও আর ঘুরবে না তোমাদের মাঝে।
মৃত্যুর পরে মাটিতেই দাফন হবে তবে আমার এই শরীর হাড়গোড় সবকিছুই পড়ে রবে ওইসব মেডিকেল স্টুডেন্ট দের সামনে।

আমি হয়তোবা কারো চোখ হব
যে চোখ দিয়ে আরো কিছুদিন পৃথিবী দেখব।
আমি হয়তোবা কারো হাত হব।
হয়তোবা কারো পা হব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আর বহুদিনের আকাঙ্খা এই সমস্ত বিকলাঙ্গ মানুষদের ভেতর প্রবেশ করে করবো তাদের সকল ইচ্ছা।

আমি হয়তো এই জগতে তোমাদের তেমন কিছুই দিতে পারিনি পরিণামে শুধুই দিয়েছি ক্ষত, পরিণামে দিয়েছি শুধুই ব্যথা, ভালোবাসার নামে হয়তো কাউকে দিয়েছি ধোকা। কিন্তু সেটা কজন বল বলতে পারবে? আমি কাউকে সেভাবে ওয়াদা দিইনি
তোমাকে ছাড়া। তোমাকে কথা দিয়েছি বলে হৃদয় ভেঙ্গে চুরে তছনছ হয়ে যায়।

পরিশেষে শুধু অবহেলা ছাড়া কিছু পাইনি।
প্রিয়সি তোমাকেও বলছি শোনো, আমি তোমাকে কখনই ধোঁকা দিইনি আমি তোমাকে স্বাধীন করে দিয়েছিলাম। কিন্তু যদি কেউ স্বাধীনতার অপব্যবহার করে তাহলে তো আমার করার কিছু থাকেনা। হয়তো এটাই ছিল আমার ভাগ্যে। হয়তো এটাই ছিল আমার ভবিষ্যৎ পরিনাম।

আমার সেই কঠিন সময় পার অস্তিত্ব নিয়ে লড়াই করতে করতে সকল দুর্যোগ মুহূর্তে
আমাকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য কেউ স্বপ্ন দেখেনি
বরং ধীরে ধীরে সবাই চারপাশ থেকে চলে গেছে অনেক দূরে তুমিও চলে গিয়েছো।
এখন যাকে ছুঁই পাই তার সবটুকুই দয়া। হয়তো এটাই আমার প্রাপ্তি ছিল।
কেন কি এভাবে বেঁচে থাকার ইচছে কখনোই ছিল না

প্রচুর টাকা উপার্জন করেছে জীবনে ভুল করে কখনো একটি টাকা হাতে রাখি
আজ এই অসুস্থতার দিনেই আজ এই অসুস্থ মুহূর্তে নিজের চিকিৎসা করার জন্য তেমন কোন গচ্ছিত অর্থ নেই এমনকি মধ্যবিত্ত নেই যে বৃত্ত দিয়ে নিজেকে সুস্থ করে তুলবো। অসুস্থ থাকার সময়েও কেউ পাশে ছিলনা।

আসলে আমি নিজেও কারো অনুদান প্রত্যাশী নই আমি যাকে যখন যা কিছু দিয়েছি সারা জীবন দিয়েই গিয়েছি বিনিময় কিছুই পায়নি পাওয়ার ইচ্ছা যদি থাকত তাহলে অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছুই পেয়ে যেতাম নিতে পারতাম অনেক অভিযোগ থাকতো। তোমাদের প্রতিকার অভিযোগ নেই আমার।

ঘৃণা নেই আমার অফিস আপনি আমার খারাপ ব্যবহারও নেই। জানো তো, এসব কিছুই সেলফ ছেলেমানুষি কাজ, আমি এখন অল্প সময়ে ও খুব বোধ সম্পন্ন মানুষের মত আচরণ করে।

এর কারন কি জানো?
এর কারণ হলো আমি আমার নিজের অকাদ অনুভব করতে পারি, আমি জানি এসব করে কোন লাভ হবে না।
আমাদের মত অসহায় দুর্বল মানুষদের জীবনে কোন সুখ নেই কোন শান্তি নেই কোন আলো নেই আশা নেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন নেই

এ মহাজগতে যার অর্থ আছে বিত্ত আছে তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন আছে ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই তারা মুহূর্তের মধ্যে পালন করতে পারে।
এটা আমার শুধুমাত্র একার জীবন
আমার পাশে ভাই নেই যে আমাকে এই দুর্যোগ সময় বাঁচিয়ে তুলবে সামান্য অর্থ দিয়ে
আমার কাছে কোন বোন নেই বন্ধু নেই কোন কলিজার টুকরা নেই যে আমার জন্য কান্না করবে।
একারণেই বরং আমি স্বাধীন এ কারণেই বরং আমি মুক্ত এজন্যই হয়তো বা আমি নিজে নিজেকে বেচে রাখতে পেরেছি এভাবে হাসি খুশিতে।

তুমি ভাবতে পারো এই হাসি খুশির আড়ালে আমার ভেতরে অনেক কষ্ট করছি তো আছে জমা আছে অনেক বেদনা। কিন্তু বিশ্বাস করো আমার ভেতরে তেমন কোন কষ্ট নেই আমার ভেতরে তেমন কোনো দুঃখ নেই আমার ভেতরে তেমন কোন যন্ত্রণা নেই কারো জন্য নেই।

হয়তো একারণে এটা আমার জীবন হয়তো একারণে আমি আমার মত। যা অন্য কেউ হতে পারবে না কখনোই হতে পারবেনা।
এ জীবন শালিখের জীবন নয় যে আকাশে উড়াল দেবে যেখানে যা কিছু পাবে খেয়ে নেবে। এ জীবন মানবের জীবন এ জীবনে যা কিছুই পাবো তা অর্জন করে নিতে হয়।

আমাদের হৃদয় ব্যথা হচ্ছে, দুঃখ আছে কষ্ট আছে যারা আছে যন্ত্রণা আছে, এসব আছে বলেই এভাবে বেঁচে থাকতে হয় মানব সমাজে।
যদি জড়পদার্থ হতাম হয়তো তাহলে এত কিছুই করতে পারতাম না। যদি বাবা হতাম তাহলে তো কথাই ছিল না। যদি পাগল হতাম তাহলে দেখবি দেখ ছুটিয়ে বেড়াতাম। অর্থ-সম্পদ বিত্ত-বৈভব কোন কিছুই আমার কাছে কিছুই হতো না।

শেষ পর্যন্ত হয়েছে আমি মানুষ
এই মানব জীবনে যেন দ্বিতীয়বার আর জন্মগ্রহণ করতে না হয়।
এখন যেমন কীটপতঙ্গের জীবন হিসেবে নিজেকে বুঝতে পারছি ঠিক এমন কোন ছিলনা আর চায় না।
জানি মৃত্যুর পরে কোন জীবন নেই মাটির সাথে মিশে যাবো আমার এই চুল হাড়গোড় হয়তোবা টিকে থাকবে। তখন আত্মা বলে কিছু থাকবে না স্বপ্ন বলে কিছু থাকবে না ইচ্ছে বলে কিছু থাকবে না সামনে থাকবে না কিছু থাকবে না কারো প্রতি ঘৃণা অহংকার।

হয়তো আমার কিছু বিষয় থাকবে কিছু জিনিস থাকবে কিছু কথা থাকবে কিছু শ্রোতা থাকবে কিছু বাণী থাকবে যা থেকে আমাকে সবাই স্মরণ করবে এই মানবসমাজে মানব অভ্যুদয়ের এই জগত জীবনে আমি হয়তো আপনজনদের মধ্যে বেঁচে থাকব না। হয়তো বেঁচে থাকবো অচেনার মাঝে চেনা হয়ে। এই অচেনা মানুষই আমাকে অমর করে রাখবে পৃথিবীর দেশে দেশে মহাদেশ এই বাংলায়।

আমি জানি মৃত্যুর পর জীবন নেই। মাটির সাথে মিশে যাব। হয়তো আমার চুল ও হাড়গুলো বেঁচে যাবে। তখন আত্মা বলে কিছু থাকবে না, স্বপ্ন বলে কিছু থাকবে না, ইচ্ছা বলে কিছুই থাকবে না, সামনে পেছনে কিছু থাকবে না, এমন কিছুই থাকবে না যার দারা আমি আমার শৈশব দেখবো কৈশোর দেখবো যৌবনকাল দেখবো আর দেখবো আমার ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়া, কারো প্রতি অহংকার থাকবে না।

আমি এটুকু বলতে পারি এইটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি তোমাদের ঋণের বোঝা হবো না। কারো অর্থ দিয়ে নিজের এই জীবনটাকে নতুন জীবনের দিকে নিয়ে যাব না। কারো দাস হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই না । প্রথম জীবনে যে ভাবে বেঁচে ছিলাম ঠিক সেভাবেই বেঁচে থাকব। ঠিক সেভাবেই মৃত্যুর করে চলে যাব।

এমন অনেক আপন জন রয়েছে যারা আমাকে এক সেকেন্ডের ভিতর পৃথিবীর যেকোন একটা দেশে নিয়ে গিয়ে ভালো করতে পারে। এমন অনেক বন্ধু রয়েছে এমন অনেক বিজনেসম্যান রয়েছে যারা আমার খুবই কাছের মানুষ। আমার এই শরীরের ধীরে ধীরে হেরে যাওয়া তাদেরকে কখনোই জানতে দেই নাই বুঝতে দেই নাই।

কারও কাছে ছোট হতে পারব না। ছোট হয়ে নিজের জীবনটাকে বাঁচানো বড় কিছু নয়। আমি এসেছি একা কেমন ঘরে এসেছে সে ঘরে কিছুই নেই যারা আমাকে ভালোবেসে বড় করেছে তাদের কোন ক্ষমতা নেই আমার এই অসুস্থতা দূর করার মুক্ত করার।

কারণ তাদেরও অর্থনৈতিক অবস্থা অতটা ভালো না। আমার রঙ্গিন জীবনে কিছু ছিলনা তার মা আমি এই চিকিৎসার পেছনে সব কিছু হারিয়েছি। আর এভাবেই নিরবে শেষ হয়ে যেতে চাই। গর্ভে ধরেছে আত্মসম্মানবোধ সেটা না হয় এভাবেই শেষ হবে তাতে কোন আফসোস নেই।

কিন্তু আমি অহংকারী নই আমিতো জানি অহংকার পতনের মূল কারণ। অহংকার আমার দ্বারা শোভা পায় না।
হয়তো আমার কিছু কথা থাকবে, কিছু কথা থাকবে, কিছু কথা থাকবে, কিছু শ্রোতা থাকবে, কিছু কথা থাকবে যেখান থেকে সবাই আমাকে মনে রাখবে।
কাছের একজন মানুষ আমাকে কিছুটা উপকার করেছে এই উপকারটা কথা কোনদিনও ভুলব না। টিকা তিনি না করলেও পারতেন।
আর একজন মানুষ আছেন জান তোমায় আমি হয়তো এখনো টিকে আছে তার কথা নাইবা বললাম সে না থাকলে হয়তো বা আমার জীবন বহু আগেই শেষ হয়ে যেত। আর কারো প্রার্থীদের নিয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছা হয় না।

এজন্য আমার এই নিরাপত্তা একরাশ নীরবতা এখানে কাউকে দোষ দিই না কারো দোষ নেই। নিয়তির খেলায় আমি হয়তো বাহিরে যাচ্ছি। তাতে কি হয়েছে সম্মানের খেলায় আমি নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছি কোন বন্ধু কেউ খুশি করি নি। বন্ধুর কাছে এমন কিছু আবদার করি নি যার জন্য তার মন খারাপ হবে। কোন বন্ধুর প্রতি এমন কোনো অভিযোগ নেই যে বন্ধু আমাকে কোন কিছু দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায় নাই।

আসলে আমি তাদের কাছে আগে যেমন ছিলাম তেমনি থাকতে চাই এটাই আমার ইচ্ছা।
হয়তো অজানার মাঝে পরিচিত হয়ে বেঁচে থাকবো। এই অচেনা মানুষ আমাকে এই বাংলায় অমর করে রাখবে পৃথিবীর সব দেশে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ

MD hedaetul Islam - (Sirajganj)
প্রকাশ ২৭/০২/২০২২ ০৪:৫৫পি এম
MD hedaetul Islam - (Sirajganj)
প্রকাশ ০১/০৩/২০২২ ০৪:৪৩পি এম
ismail Hossain - (Dhaka)
প্রকাশ ২২/০২/২০২২ ১২:১৬পি এম
Md. Anondo Mia - (Jamalpur)
প্রকাশ ২১/০২/২০২২ ১২:৪৬পি এম