Sifat Al Saad
প্রকাশ ২৭/০১/২০২২ ০৫:৩৬এ এম

ছোট গল্পে ভালোবাসা

ছোট গল্পে ভালোবাসা
ad image
বিষয় যখন ভালোবাসা তখন এই শব্দের বিশ্লেষণ সাহিত্যের ভাষায় কষ্টসাধ্য। প্রেম আর ভালোবাসার মাঝের তফাৎ আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। তবে নীলিমা ও নবনীলের প্রেম কাহিনী নিজচোখে দেখেছি। নীলিমা আমার বন্ধু। মেয়ে হিসেবে যথেষ্ট সিধে, যাকে বলা যায় সরল। দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্কুল – কলেজে আমরা একটু দুষ্ট প্রকৃতির থাকলেও সে ছিল বড্ড শান্ত স্বভাবের। কৈশর জীবনের হাওয়া বইছে মনে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন , একটু স্বাধীনতা আর যুগের হাওয়া তার জীবনে নবনীলকে নিয়ে আসে। নীলিমা আর নবনীলের গল্পের শুরুটা একটু ভিন্নরূপের ছিলো। নবনীল ছিল নীলিমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেনী উপরে পড়ুয়া। নবনীলের জীবনের একটা ভয়ংকর অতীত আছে। সে একটা মেয়েকে বড্ড ভালোবাসতো। মেয়েটির নাম ছিল চন্দ্রীমা। চন্দ্রীমা ও নবনীলের সম্পর্ক ছিল কলেজ জীবন থেকে । তিন বছরের সম্পর্কে চন্দ্রীমা সবসময়ই নবনীলকে আবদ্ধ করে রাখতে চাইত। আর নবনীল সে তো মুক্ত পাখির মতো স্বাধীন মনোভাবের। আবদ্ধতা থেকে বেড়িয়ে আসার প্রয়াস থেকে তার প্রেম হলো নীলিমার সঙ্গে। নবনীলের কাছে তার জীবনের পিছনের তিনটি বছর ছিল তার সব থেকে কালো অধ্যায়। সেসব কথাই সে নীলিমাকে খোলাখুলি বলে; নীলিমাও তা মেনে নিয়ে নবনীলের হাত ধরে নেয়। কারণ নীলিমার কাছে মনে হয়, জীবনে সঠিক মানুষ আসলে এবং সে আগলে রাখলে; শুধু প্রাক্তন কেনো! পুরো অতীতকেই ভুলে যাওয়া সম্ভব। নারীরা তার সর্বশেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়। দিনগুলো নবনীলের জন্য সুখের হলেও , নবনীলের অতীত নীলিমার জন্য হয়ে ওঠে বিষাক্ত।
কথায় আছে, অতীত মানুষের পিছু ছাড়ে না। কারণ অতীতটা তার অভ্যাস হয়ে আছে। যে মানুষ তোমার সম্পূর্ণ অতীত জেনে তোমার হাতটা ধরবে তার হাতটা তার থেকেও দশ গুন বেশি শক্ত করে ধরতে হয়। নবনীল , নীলিমাকে পেয়েও তার অতীতের পিছুটান ছাড়তে পারলো না। সে প্রতিটি মূহুর্তে নীলিমাকে চন্দ্রীমার সম্পর্কে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। নীলিমা ভাবতে লাগলো হয়তো কিছুদিন পরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিনের পর দিন নবনীলের আসক্তি চন্দ্রীমার প্রতি তার আকৃষ্টতাকে বাড়িয়ে তোলে। চলতি পথে নীলিমাকে ছেড়ে সে চলে যায়। পুরোনো প্রেম প্রলয়ে লিপ্ত হয় চন্দ্রীমা – নবনীল। আর শেষমেশ একবুক অভিমান নিয়ে নীলিমা বলে,
“কিছু কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা না পাওয়াই শ্রেয়। আমি চাইনা আমি না থাকলে আমার কথা মনে করে তোমার চোখের কোণে জল জমুক; আমি চাই তুমি আকাশের পানে তাকিয়ে অন্তত একবারামার কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলো –কেউ ছিল যার মনে আমার জন্যে এক আকাশ সমান ভালোবাসা ছিল।”
নীলিমা –নবনীলের সম্পর্ক ইতি টানলো এখানেই। নীলিমার বিয়ে হয়ে গেছে আজ দু’বছর। স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছে। নীলিমার স্বামী এখন সরকারের অনেক বড় কর্তা ; গাড়ি আছে, বাড়ি আছে।
আর নবনীল – নীলিমার সম্পর্কের বিচ্ছেদের আজ পাঁচ বছর । নবনীল দেশের নামকরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম একজন । আজ আমি নবনীলের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় যুক্ত হয়েছিলাম রমনার বটবৃক্ষের নিচে। চা খেতে খেতে নবনীল বলে ছিল,
‘’জীবনে এমন কাউকে হারিয়েছি ,যে আমায় এই আকাশের মতো সীমাহীন ভালোবাসা দিতে চেয়েছিলো। অনেক অভিমান নিয়ে আমার হাত ছেড়ে দিয়েছে ; ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটা পর্যন্ত পেলাম না।‘’
যদিও আজ নবনীল অনেক একা। আড্ডা শেষ করে যথার্থ সান্ত্বনা সরূপ বলে এসেছি ,
“আল্লাহ যা করেন , ভালোর জন্যই করেন।”
অনুতাপ মানুষের জীবনে আসে , তবে যখন আসে তখন অনুতপ্ত হয়ে কোনো ফলাফলই পাওয়া যায় না। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে যে অনুতাপে আমরা ভুগি , তার অর্ধেকটা ভালোবাসা যদি তাকে দেয়া হতো তবে নবনীল-নীলিমার গল্প আজ পূর্ণতা পেতো। মরীচিকার পিছনে না ছুটে, নিজের মানুষটাকে নিজের করে রাখতে পারলে হয়ত বিচ্ছেদ আসতো না। প্রতিটি সম্পর্কে সম্মান আর মূল্যায়ন অনেক মূল্যবান।
“পূর্ণতা পাক সকল ভালোবাসা” -এই প্রার্থণা রাখছি ঈশ্বরের কাছে।
লেখাঃ সিফাত আল সাদ
শিক্ষার্থী,
ইংরেজি বিভাগ,
বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি,
কুমিল্লা সেনানিবাস।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ