Abdul majid
প্রকাশ ২৬/০১/২০২২ ১২:১৫পি এম

Zafar Iqbal: তোমরা যে দাবিতে আন্দোলন করছো তোমরাদের এ দাবি যৌক্তিক

Zafar Iqbal: তোমরা যে দাবিতে আন্দোলন করছো তোমরাদের এ দাবি যৌক্তিক
ad image
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করায় সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর ৪টায় ক্যাম্পাসে অনশনকারীদের অনশন ভাঙাতে এসে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে নগদ ১০হাজার টাকা দিয়ে বলেন, ‌‘তোমরা যে দাবিতে আন্দোলন করছো তোমরাদের এ দাবি যৌক্তিক।

যে ভিসির বাসভবনের সামনে এতোগুলো শিক্ষার্থী না খেয়ে শুয়ে আছে, অথচ তিনি একবারও এসে দেখলেন না। তিনি কখনো ভিসি হতে পারে না। আমিও তোমাদেরকে টাকা দিলাম। তাহলে আমাকেও গ্রেফতার করা হোক। ’
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে কথা দেওয়া হয়েছে সকল মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকেই হয়রানি করা হবে না। আজকে তাদেরকে কোর্টে উঠানো হবে এবং তাদেরকে আর কখনো থানায় আসতে হবে না। আমাকে উচ্চ মহলের ব্যক্তিরা কথা দিয়েছেন। '

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি সিরাজুন্নেছা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফরিন লিজার পদত্যাগ দাবিতে শুরু হয় ছাত্রী আন্দোলন। এ দাবিতে ১৬ জানুয়ারি আইআইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সন্ধ্যায় ঘটে তুলকালাম কান্ড। ওই সময় উপাচার্যের উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন অর্ধশত শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা ও পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হন। এর পর থেকেই শুরু হয় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন। গণস্বাক্ষরগ্রহণ করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি বরাবর খোলা চিঠি দেওয়া হয়। পরে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় অনশন।

অনশনের প্রথম দিন থেকে দফায় দফায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর মধ্যে শিক্ষকদের একাংশ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে করেন মানববন্ধন। তবে সোমবার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আলোচনা চেষ্টা শুরু করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

মঙ্গলবার রাতে বুধবার ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় আমরন অনশনের ঘোষণা দেয় তারা। উপাচার্য পদত্যাগ না করায় বুধবার বেলা ২টা ৫০মিনিটে আমরণ অনশন শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে শুক্রবার ২০ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আলোচনার বার্তা নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ওইদিন বিকাল ৩টায় মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের আলাপ করিয়ে দেন নাদেল। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন৷ শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্থাবে প্রথমে সম্মত হলেও পরে ঢাকায় না এসে অনলাইনে আলোচনার আহ্বান জানান।

পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় না আসলেও শুক্রবার রাতে শাবিপ্রবি শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষকদের বৈঠকের পর ওই দিন রাত ১টায় অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আলোচনা হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। এর প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে ফের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের আলোচোনায় বসার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। এর মধ্যেই শনিবার রাতে গণঅনশনের ঘোষণা দেন আন্দোলকারীরা। এতে আরও পাঁচ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ