mukramin khan - (Kishoreganj)
প্রকাশ ২৪/০১/২০২২ ১১:০২এ এম

দ্রুত গতিতে চলছে ৪০দিনের কর্মসূচির ভেকু মেশিন দিয়ে

দ্রুত গতিতে চলছে ৪০দিনের কর্মসূচির ভেকু মেশিন দিয়ে
ad image
কিশোরগঞ্জ তাড়াইল উপজেলা ৫ ইউনিয়ন এর ৫ টি প্রকল্পে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে কাজ করানো হচ্ছে ভেকু নামক রোবট মেশিন দিয়ে।

সরকারি রোল মোতাবেক বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বন্ধের দিনেই চুপে চাপে মাটি কেটে দ্রুত কমপ্লিট করা হচ্ছে রাস্তা ,যেখানে সরকারি রোল মানতে নারাজ জাতীয় পার্টীর নবনির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রতন ও ইউপি সদস্য এরিয়া প্রজেক্ট সভাপতি জানু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। এই প্রজেক্ট এর সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য করিম মিয়া বলেন চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তারই আত্মীয়র ভেকু মেশিন লাগিয়েছি ,

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বোড়গাঁও চৌরাস্তা থেকে বোরগাঁও আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা পর্যন্ত পূনঃরাস্তা মেরামতের জন্যে ৭০ জন শ্রমিক লাগানোর কথা বরাদ্দের পরিমান ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ,নামমাত্র মাটি ফেলে কোনরকম লেভেল করাচ্ছেন।এই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আজিজুল হক মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন চেয়ারম্যান এর অনুমতি নিয়েই আমরা ভেকু মেশিন লাগিয়েছি তাছাড়া শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে যা বাজেট আছে তার চেয়ে ডাবল টাকা লাগবে।

আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা পর্যন্ত কমপ্লিট না করেই , চলচে আর আরেকটির কাজ ,এলাকাবাসীর দাবি কোনরকম মাটি চিটিয়ে কাজ দেখিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন, তালিকা অনুযায়ী বেলংকা পাকা রাস্তা থেকে মাটি কাটা শুরু করার কথা কিন্তু ,শুরু করেছেন নগরকুল মাঠের সীমানা যা প্রায় আধা কিলোমিটার সমান বন্নি ফেরিঘাট পর্যন্ত রাস্তা পুনঃ মেরামত ভাবত সরকারি বরাদ্দের পরিমান ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা , একই কাজটি ৬৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও সেটিও করা হচ্ছে ভেকু নামক রোবট মেশিন দিয়ে ।

রতনপুর ফাইজুলের বাড়ি থেকে আতাবুরের জমি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃ নির্মাণ সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাড়াইল উপজেলা জাওয়ার ইউনিয়ন পরিষদ নবনির্বাচিত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রতন বলেন এই প্রজেক্ট আমি ইউপি সদস্যদের কে ভাগ করে দিয়ে দিয়েছি তাছাড়া আপনারা সাংবাদিক সমন্য করেই আমরা এই কাজ গুলো করবো আপনাদের আইডি কার্ড, এবং কোন পত্রিকায় কাজ করেন, নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার সহ আমার কাছে দিয়েন। জাওয়ার ইউনিয়নের ৪০ দিনের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান এর বাৎসরিক একটি প্রকল্পের অপেক্ষায় থাকেন সাধারণ হতদরিদ্র মানুষ সরকারি কাজ করাটাই যেন তাদের ক্ষমতার বাইরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা বলেন বিল উঠানোর জন্য ইউপি সদস্যদের নিজস্ব লোকদের শ্রমিক সাজিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করেন । সরকারি জাওয়ার ইউনিয়নের একটি বরাদ্দের পরিমান ৩২লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা ।

অথচ এ প্রকল্পে অতিদরিদ্রদের দিয়ে কাজ করানোর কথা। সরেজমিনে গেলে সামান্য কিছু মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণের কাজ দেখানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার দায়িত্বে থাকা প্রকল্পের ট্রেক অফিসার আনিসুজ্জামান খান বলেন চারবছর গত হয়ে গেছে এমন বিরল ঘটনা আর ঘটেনি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে অথচ আমি অবগত নই এটা আমার সই ছাড়া কাজ শুরু করার কথাই না ।অথচ কি করে সম্ভব আমি অবগত নই ।

অনিয়মের বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পি আই ও শহিদউল্লাহ্ বলেন আমরা মিটিংয়ে চেয়ারম্যানদের শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটানোর জন্য স্পষ্ট বলে দিয়েছি উনারা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটলে সরকার মেশিনকে বিল দিব না আমরা বিল দিব প্রকৃত শ্রমিককে ।

৪০ দিনের অতিদরিদ্রদের কর্মসূচি কার ভেকু মেশিনের নাকি শ্রমিকের সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও লুবনা শারমীন বলেন অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি একমাত্র অতিদরিদ্রর জন্য।আগামীকাল থেকে সকল ট্রেক অফিসার মনিটরিং করবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ,এবং পুনরায় শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটানো হবে । এমন সময় পিআইওকে চেয়ারম্যানদের কে নিয়ে মিটিং জন্য শহীদউল্লাহ নির্দেশ দেন।আরো বলেন নির্বাচনের জন্য একটু সময় বিলম্ব হয়েছে তারপরও যথেষ্ট সময় আছে শ্রমিক দিয়ে

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ