Sifat Al Saad
প্রকাশ ২৪/০১/২০২২ ০৪:১৯এ এম

Mass coup: আজ ২৪ জানুয়ারী গনঅভ্যুত্থান দিবস

Mass coup: আজ ২৪ জানুয়ারী গনঅভ্যুত্থান দিবস
ad image
ইতিহাস সেতো বইয়ের পাতাতেই বন্দী। কেউ মনে রাখে আবার কেউ বা দিনের বদলে ভুলে যায়। কিছু কিছু জীবনের প্রতিদান ঠিক এক একটি পোড়ামাটি একত্রিত করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার মতো। সকলে আমরা প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিপ্রস্তরটি দেখতে পাই, তবে খুজে দেখি না এর পেছনে পোড়ামাটির আত্ম ত্যাগের গল্প। ১৯৪৮,১৯৫২,১৯৫৪,১৯৬৬,১৯৬৮,১৯৬৯,১৯৭০ এর ত্যাগ আমাদের বাঙালীকে এনে দিয়েছিল এই স্বাধীনতা। হ্যাঁ, আজ ঐতিহাসিক গনঅভ্যুত্থান দিবস।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। এতে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্রতর হয়।

পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে।এ মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দুর্বার ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে তোলে। ৪ঠা জানুয়ারি ততকালীন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি পেশ করেন।৭ ও ৮ জানুয়ারি,১৯৬৯ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রাজনৈতিক ঐক্য ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি বা ড্যাক (DAC) গঠিত হয়।

পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা স্বৈরাচারী আইয়ুব দমন-পীড়নের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।২০ জানুয়ারি ঢাকাতে সাধারণ ছাত্রদের মিছিল এবং এই মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনায় নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান।

আসাদের আত্মদানের পর তার রক্তামাখা শার্ট নিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিলে বের করে ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ছাত্ররা। শুরু তীব্র আন্দোলন। ২১, ২২, ২৩ জানুয়ারি শোক পালন করে সারা দেশ।২৪ জানুয়ারি,১৯৬৯ সচিবালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নবকুমার ইন্সটিটিউটের কিশোর ছাত্র মতিয়ুর রহমান ,রুস্তম আলী ও ময়মনসিংহে ছাত্র আলমগীর মনসুর এবং চট্টগ্রামে শ্রমিক হাসানুজ্জামান ও জানু মিঞা।আন্দোলন পরিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানে রুপ নেয়।

তুমুল প্রতিবাদে সংগ্রামী জনতা সেদিন সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে শহীদের এই তালিকা অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে।বিক্ষুব্ধ জনগণ আইয়ুব মোনায়েম চক্রের দালাল, মন্ত্রী, এমপিদের বাড়িতে এবং তাদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান মর্নিং নিউজে আগুন লাগিয়ে দেয়। জনগণ আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট নামকরণ করে।

তবে এই আন্দোলনে মাঝেই ততকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে তীব্র প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে স্বায়ত্ত্বশাসনের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।

বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের মতে দিনটি বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতন্ত্রের মর্যাদা ও দমনমূলক নীতির প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে এবং স্বাধীনতার পথকে সুগম করে। গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।

লেখাঃ সিফাত আল সাদ,
শিক্ষার্থী,
ইংরেজি বিভাগ,
বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি,কুমিল্লা সেনানিবাস।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ