ম.ম.রবি ডাকুয়া
প্রকাশ ২৩/০১/২০২২ ০৮:২০এ এম

Mongla port: মোংলা বন্দরের সকল উন্নয়ন-আধুনিকতা ভেস্তে যাবে নাব্যতা রক্ষা করতে না পারলে

Mongla port: মোংলা বন্দরের সকল উন্নয়ন-আধুনিকতা ভেস্তে যাবে নাব্যতা রক্ষা করতে না পারলে
ad image
মোংলা বন্দরের সকল আধুনিকতা ও উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে এর নাব্যতা সংকট।শুকনো মৌসুম এলে এর তীব্রতা আরো ঘনিভুত হয়।বন্দরের প্রবেশ চ্যানেলে ভরাট হয়ে যাওয়া সহ অসংখ্য ডুবোচর এ যেন যুগ যুগ ধরে অভিশাপের মত বন্দরের কাঁধে চেপে বসেছে।

এর থেকে পরিত্রানের টেকসই পথ খুঁজতে হবে।বন্দরচ্যানেল ড্রেজিং ও তা দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়া থেকে মু্ক্তি পেতে আরো আধুনিক নিরাময় ব্যবস্থা খুঁজতে হবে। এছাড়াও বন্দরের চ্যানেলে ডুবন্ত নৌযানের দ্রুত অপসান না করায় জেগে ওঠা অসংখ্য ডুবোচর যেন আর এক গুপ্ত ঘাতক।

সেই স্বাধীনতা পরবর্তী মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া থেকে শুরু করে বন্দর চ্যানেল অভিমুখে অসংখ্য জাহাজ ডুবির কোন পরিসংখ্যান না থাকায় এবং বড় ধরনের ক্যাপিটাল ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকট দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ে আছে যুগ যুগ ব্যাপি, কখনো কিছু ড্রেজিং করা হলেও তা অপ্রতুল এবং তা বন্দরের নব্যতা সংকট দূরিকরণে যথেষ্ট নয়।বন্দরের চ্যানেলগুলো পর্যাপ্ত ড্রেজিং না করে যতই আধুনিকায়নের আওতায় আনা হোক না কেন তা কোন কাঙ্খিত সাফল্য বয়ে আনবেনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত এক বছরে বন্দরে বেশ কয়েকটি নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটেছে,যাতে মালামাল সহ প্রণহানি হয়েছে ব্যপক। বন্দর চ্যানেলেরও ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। তেল সহ তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হয়ে নদী ও এর আশ পাশের পরিবেশ দূষিত হয়েছে। যার অধিকাংশই ডুবোচরের কারনে এবং কিছু হয়েছে আন ফিটনেস নৌযানের কারনেও ।

এই ডুবোচরের অভিশাপ মোংলা বন্দরের দীর্ঘদিনের । পরিবেশবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে বন্দরে যৎসামান্ন ড্রেজিংই এর জন্য দায়ি। নদীর মূল তলদেশ অবধি না পৌছে ড্রেজিং করার ফলে অসংখ্য ডুবন্ত জাহাজ লুকানো থাকতে পারে যার কারনে আবার চরের সৃষ্টি হচ্ছে।এভাবে বছরের পর বছর এ ড্রেজিং যেন ঘাটে বেঁধে নৌকা বাওয়ার মতই কোনদিই যার কিনারায় পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না।

মোংলা বন্দর এখন বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে অর্থনীতির দিক দিয়ে এটা দেশের অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভুমিকা রাখছে যেহেতু সেহেতু এর দিকে সরকারকে বিশেষ নজর দেয়া উচিৎ। বন্দরে পন্য পরিবহন করা নৌযান গুলো যেন ফিটনেস বিহীন না হয়।চালক যেন দক্ষ হয়। এছাড়াও বন্দরের নিজস্ব পাইলট যারা বিদেশী জাহাজকে দেশের বন্দরমুখে প্রবেশ করান তাদেরকেও আরো দক্ষ করে তুলতে হবে।অনেক সময় এদের অদক্ষতার দরুনও দূর্ঘটনা ও অঘটন ঘটেতে দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক একটি বন্দর হিসেবে মোংলা বন্দরের সুনাম প্রায় ৭০ বছরের অধিক কাল ব্যপী। এ বন্দরের কারনে দক্ষিণাঞ্চলের তথা বাংলাদেশের ব্যবসা বানিজ্যে ব্যপক প্রসার লাভ করেছে। বিশেষ করে এর তীরবর্তী তেল গ্যাস সহ নানান কল কারখানা ইপিজেড এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসাকে সহ করে তুলেছে। বিশেষ করে খুলনা-যশোরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ বন্দরকে আরো বেগবান ও দ্রুত পণ্য খালাসের প্রকৃয়ার সকল অন্তরায়কে ত্বরান্বিত করতে এর দিকে নজর দিতে হবে সরকার সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকেও।

সরকারী একের পর এক প্রকল্প হাতে নেয়া ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেয়া হলেও মূল বন্দরের প্রাণ নদীর নাব্যতা সংকট দূর করতে না পারলে সকল উন্নযনই ফিকে হয়ে যাবে। তাই বন্দরের নব্যতা সংকট সহ জাহাজ ভেড়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে আগে। তাহলেই বন্দরের প্রকৃত উন্নয় প্রকৃয়া কাজে ব্যবহারের ফল লাভ করতে পারবে। মোংলা বন্দরকে গতিশীল ও শক্তিশালি অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় সমবেত করতে এর নাব্যতা সংকট দূর করতে হবে আগে। সে ক্ষেত্রে বন্দরের নদী খনন সহ পুরনো ডুবন্ত নৌযানকে দ্রুত অপসারনের সকল আধুনিক ব্যবস্থা থাকতে হবে সর্বাগ্রে। তা না হলে সকল আধুনিকতা ভেস্তে যাবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ