Md.Arifuzzaman - (Mymensingh)
প্রকাশ ২২/০১/২০২২ ১১:২৮এ এম

US Ambassador: বাংলাদেশের মত অতিথিপরায়ণ,আন্তরিক মানুষ কোন দেশে দেখিনি:বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত

US Ambassador: বাংলাদেশের মত অতিথিপরায়ণ,আন্তরিক মানুষ কোন দেশে দেখিনি:বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ad image
আর্ল রবার্ট মিলার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ২০১৮ সালের ১৩ই নভেম্বর। তিনি এর আগে বতসোয়ানা প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য মিলার ১৯৮৭ সালে পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গসহ ভারত, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং এল সালভাদরে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কাজ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্র্যাজুয়েট এবং সাবেক মেরিন কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অসংখ্য সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে আছে বীরত্বের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর পুরস্কার ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের শিল্ড অব ব্রেভারি পুরস্কার। রাষ্ট্রদূত মিলার ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষা জানেন।

তিন বছর দুই মাসেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিচ্ছেন মিলার।

ঢাকা থেকে বিদায় নেয়ার ঠিক আগে একজন সাংবাদিককে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। এসময় তিনি বলেন:

“আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, গত তিন বছরে বাংলাদেশে আমার সবচেয়ে মধুর স্মৃতি কোনগুলো। সেসব স্মৃতি বর্ণনা করা অসম্ভব।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিন বছরে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তা হচ্ছে,বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা এবং উদারতা। আমি ৩৫ বছর ধরে আমেরিকান কূটনীতিক হিসেবে কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষের মতো এত অতিথিপরায়ণ, চিন্তাশীল এবং আন্তরিক মানুষ অন্য কোনো দেশে দেখিনি যারা এভাবে মানুষকে সাদরে বরণ করে নেয়।

কিন্তু আমি জানি, আমার মনে পড়বে এখানকার রঙিন রিকশা আর এর চালকদের মুখগুলো। পুরনো ঢাকার দালানের ছাদে সুতোর বাঁধনে উড়ন্ত ঘুড়ির নাচন আর সন্ধ্যার আকাশের পাখিরা। গাঁয়ের পথে স্কুলের পোশাক পরা শিশুদের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা। চট্টগ্রামের জাহাজ ভরা নদী। কক্সবাজারের চাঁদের ফালির মতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নৌকাগুলো। সিলেটের গাঢ় সবুজ পাহাড় আর বরিশালের বৈচিত্র্যময় সবুজ। বান্দরবানের পাহাড় ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে ভোরের কুয়াশা, সবকিছু।

গত তিন বছর বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও আনন্দের।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং এটা আরো জোরদার হবে। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন বলেছিলেন, আমেরিকার আসল পররাষ্ট্রনীতি হলো নাগরিকের সাথে নাগরিকের, বন্ধুর সাথে বন্ধুর, এবং মানুষের সাথে মানুষের। আমার মনে হয়, আমি আমাদের দু’দেশের বন্ধুত্বের বন্ধনকে শক্তিশালী করতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছি।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, আমার কার্যভার নেয়ার প্রথম আট মাসে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগ ঘুরে দেখব। সেটা করতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। নিজেকে আরো ভাগ্যবান মনে হয় এই জন্য যে, এই অসাধারণ দেশের এত মানুষের সাথে আমি সাক্ষাৎ করতে পেরেছি এবং অনুভব করেছি তাঁদের হৃদয়ের উষ্ণতা, সৌজন্য ও উদারতা যা বাংলাদেশের মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশের সহৃদয় মানুষদের সব অনুগ্রহের স্মৃতি আমি সযত্নে ধরে রাখবো। এই অসাধারণ দেশে আমি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অতিথি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং কৃতজ্ঞচিত্তে বিদায় নিচ্ছি।

একটা অনুরোধ রাখবো। যখন রাষ্ট্রদূত হাস আসবেন, তাঁকেও আপনারা একই উষ্ণতা ও সহায়তা দেবেন যা আপনারা আন্তরিকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে দিয়েছেন।”

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ