Abu Sadek Muhammad Nayeem - (Chattogram)
প্রকাশ ২২/০১/২০২২ ০৭:১৬এ এম

Land digital: ভূমির ডিজিটাল সেবায় মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে?

Land digital: ভূমির ডিজিটাল সেবায় মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে?
ad image
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সরকার অন্যান্য সেবার মত ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সকল সেবাকেও ডিজিটালাইজড করে।
যাতে এই সেবা পেতে মানুষকে আর হয়রানি না হতে হয় কিন্তু, ডিজিটালাইজড হওয়ার পর ভূমি সেবার দুর্নীতি আর হয়রানি কতটুকু কমেছে? নাকি খোলস পাল্টিয়ে আগের মতই রয়ে গেল?
বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ার বাসিন্দা রানী দাশ গত বছরে ভূমি সেবা অনলাইনে পর্চা খতিয়ানের জন্য আবেদন করেছিলেন।

আবেদনের জন্যে অনলাইন ফী ও ডাকযোগে প্রেরণ বাবদ তাকে ৩৫০ টাকা বিকাশে দিতে হয়েছিলো। সাতদিন পর তার অস্থায়ী ঠিকানায় পর্চা খতিয়ান পৌঁছে যাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি পাননি। পরে তিনি ৩৩৩ নম্বরে কল করে তার এই বিষয় সম্বন্ধে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "তারা আমাকে বলেছিলো আমি কষ্ট করে হলেও যেন আমার এলাকার ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করি। যোগাযোগ করলে তারা আমাকে দিয়ে দিবে এর জন্য শুধু অনলাইন আবেদনের ট্র্যাক নম্বর দেখালে চলবে।"

তিনি পরে সেখানে যোগাযোগ করে তা পেয়েছিলেন কি? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, "অনেক হয়রানি পর বাবু আমি পেয়েছি কিন্তু, এর জন্য তাদেরকে বকশিস সহ আরো ২০০০ টাকা দিতে হয়েছে। গরিব মানুষের কপালে সুখ নাই! ৩৫০ টাকাও দিলাম সাথে আরো ২০০০ টাকাও দিলাম।"

একই সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন চট্টগ্রাম জেলার আরেক বাসিন্দা জিন্নাত আরা তার পৈত্রিক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জে। পারিবারিকভাবে সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ না পাওয়ায় তিনি অস্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে থাকেন। সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি পর্চা খতিয়ানের জন্যে আবেদন করেছিলেন। রানী দাশের মত একই কথা তিনি জানালেন।

তিনি বলেন, "যদি একটি পর্চা খতিয়ানের জন্য এত টাকা ব্যয় করতে হয় তাহলে আরো যে সকল ভূমি সেবা রয়েছে সেগুলোর পিছনে কত টাকা খরচ করতে হবে চিন্তা করে দেখুন! একজন পুলিশ পরিবারের হয়েও একথা বলতে লজ্জা হচ্ছে। পারিবারিক পেনশন ও টিউশনি দিয়ে কোনমত দিনাতিপাত করছি। ন্যায্য অধিকার পেতে এত হয়রানি আর ভোগান্তি কবে শেষ হবে?"

এর জন্য তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগীতা পেতে পারতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এগুলো সব মিডিয়ার শোকজ ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবতা আলাদা। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগীতা চেয়েও তিনি তেমন কোন সুবিধা পাননি।"

রানী দাশ ও জিন্নাত আরার মত এরকম অনেকই ডিজিটাল ভূমি সেবায় প্রয়োজনীয় সেবা পেতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভূমির বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় যেমন সম্পত্তি সুষ্ঠু বন্টন, ভূমির বেদখল ইত্যাদির জন্যে গরিব অসহায় মানুষ বিশেষ করে এতিমদের সম্পত্তি প্রাপ্যতার জন্য পর্চা খতিয়ানের প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু হওয়ায় এসকল হতদরিদ্র মানুষ কিছুটা আশান্তিত ছিল। সামান্য পর্চা খতিয়ানের জন্যে এত ভোগান্তি এসকল অসহায় মানুষকে আরো অসহায় করে তুলেছে। সরকারের উচিত ভূমির এসকল বিষয়ে আরো নজরদারি করা যাতে এসকল সাধরাণ মানুষ আরো উপকৃত হয়।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ