SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ২০/০১/২০২২ ০৯:৩৫এ এম

Saraswati Puja: সরস্বতী পূজার শুভসময় ও পূজার নিয়ম

Saraswati Puja: সরস্বতী পূজার শুভসময় ও পূজার নিয়ম
ad image
সরস্বতী হলেন জ্ঞান,সঙ্গীত,শিল্পকলা,বুদ্ধি ও বিদ্যার হিন্দু দেবী। তিনি সরস্বতী-লক্ষ্মী-পার্বতী এই ত্রিদেবীর অন্যতম। এই ত্রিদেবীর কাজ হল ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিবকে যথাক্রমে জগৎ সৃষ্টি পালন করতে সাহায্য করা। সরস্বতীর গায়ের রং শুভ্র(সাদা)। শ্বেতপদ্ম তার আসন। তার এক হাতে পুস্তক ও এক হাতে বীণা। তার হাতে বীণা থাকায় তাকে বীণাপাণি বলা হয়। এছাড়াও তিনি শ্রুতদেবী নামেও কথিত হন। বৈদিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত তিনি হিন্দুধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবী হিসাবে পূজিত হয়ে আসছেন। এই দিনে অনেক ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের হাতেখড়িও হয়ে থাকে।

প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের ৫মী তিথি, শুধু এটুকু শনলেই ছাত্র থেকে কর্মজিবী, শিশু থেকে বৃদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালীর সর্বাঙ্গে জাগে শিহরন, মনে লাগে দোলা, দৃষ্টিতে ভেসে ওঠে কুয়াশা ঘেরা সকাল, আমের পল্লব, দোয়াত কলম, রসময় কুল আর জোড়া সন্দেশ। এর কারন আর বলার অবকাশ রাখে না। এদিন ধরাধামে কৃপাবৃষ্টি বর্ষনের উদ্দেশ্যে মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন শ্বেত শুভ্র বসনা, বেদ প্রসবিনী, হংসবাহিনী দেবী বীনা পানি। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিকে বলা হয় শ্রীপঞ্চমী। শ্রীপঞ্চমীর এই তিথিতে পুজিতা হন আদ্যাশক্তির একাংশ, দেবী স্বরস্বতী। বিদ্যা, বুদ্ধি, সঙ্গীত ও জ্ঞান প্রদায়িনী দেবী তিনি।
আপাতদৃষ্টিতে, শ্রীপঞ্চমীকে শুধু বিদ্যার্থীদের অনুষ্ঠান মনে করা হলেও আবাল বৃদ্ধ বনিতা সব মহলেই তাঁর আগমনকে স্বাগতম জানানো হয় স্বাড়ম্বরে। আমাদেরকে সুর, সঙ্গীত, বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞান প্রদান করার জন্য মর্ত্যলোকে একদিনের জন্য আবির্ভূতা হন তিনি। সঙ্গত কারণেই বিদ্যার্থীদের কাছেই এই পূজার বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও, তিনি আপামর বাঙালীর কাছে পরম পূজ্য।
সরস্বতী পূজার সময়ঃ-
আগামী বাংলা ২২শে মাঘ, ১৪২৮ এবং ইংরেজী ৫ই ফেব্রুয়ারী,২০২২ তারিখ শনিবার সকাল ৭ টা বেজে ৭ মিনিটে শুরু হবে শ্রীপঞ্চমী তিথি এবং শেষ হবে বাংলা ২৩শে মাঘ,১৪২৮ এবং ইংরেজী ৬ই ফেব্রুয়ারী, ২০২২ তারিখ রবিবার সকাল ৭ টা বেজে ৯ মিনিটে। তাই সাধারনভাবে বানী অর্চনা ও সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার। তবে যারা সকল পূজা পার্বণ ও ব্রতানুষ্ঠান পরবর্তী তিথি যুক্ত দিনে করে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে রবিবার। উল্লেখ্য, এখানে উল্লিখিত সময় ভারতীয় স্টান্ডার্ড টাইমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পূজার সময় ও তিথি নির্ধারন করার ক্ষেত্রে এ সময়ের সাথে ৩০ মিনিট বা আধা ঘন্টা সময় যুক্ত করতে হবে।

সরস্বতী পূজা পূজা পদ্ধতিঃ-
(১) দেবতা জাগ্রতকরণঃ-
উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ শ্রীগুরো ত্যজ নিদ্রাং কৃপাময়।
উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ গৌরাঙ্গ জহি নিদ্রাং মহাপ্রভো।
শুভদৃষ্টিপ্রদানেন ত্রৈলোক্যমঙ্গলং কুরু ॥
ঈশ্বর শ্রীহরে কৃষ্ণ দেবকীনন্দন প্রভো।
নিদ্রাং মুঞ্চ জগন্নাথ প্রভাতসময়ো ভবেৎ ॥
উত্তিষ্ঠোত্তিষ্ঠ গোবিন্দ উত্তিষ্ঠ পরমেশ্বর।
উত্তিষ্ঠ কমলাকান্ত ত্রৈলোক্যংমঙ্গলং কুরু ॥
(২) গঙ্গা প্রণামঃ-
ওঁ বিষ্ণুপাদার্ঘ্যসম্ভূতে গঙ্গে ত্রিপথগামিনি।
ধর্মদ্রবীতি বিখ্যাতে পাপং মে হর জাহ্নবি॥
শ্রদ্ধয়া ভক্তি সম্পন্নে শ্রীমাতর্দেবী জাহ্নবি।
অমৃতেনাম্বুনা তব ভাগীরথি পুণীহি মাম্ ॥

(৩) অগ্নি প্রজ্বলন এবং জল শুদ্ধিঃ-
ওঁ-কারস্য ব্রহ্ম ঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দেগ্নির্দেবতা সর্বকর্মারম্ভে বিনিয়োগ।
ওঁ সপ্তব্যাপহৃতিনাং প্রজাপতিঋষি গায়ত্রী-
উষ্ণিগনুষ্টুপ-বৃহতি পংক্তিত্রিষ্টুপজগত্যশ্ছন্দাংসি অগ্নির্বায়ু সূর্যবরুণ বৃহস্পতিন্দ্র বিশ্বেদেবা দেবতা।।
(৪) প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ। গায়ত্র্যাঃ বিশ্বামিত্রঋষির্গায়ত্রিচ্ছন্দঃ সবিতা দেবতা প্রাণায়মে বিনিয়োগঃ॥
গায়ত্রী শিরস প্রজাপতিঋষির্ব্রহ্মবায়ু অগ্নি সূর্যাশ্চতস্রোদেবতাঃ প্রাণায়ামে বিনিয়োগঃ॥

(৫) আসন শুদ্ধিমন্ত্রঃ-
ওঁ অস্য আসনমন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠঋষি সুতলং ছন্দঃ।
কূর্মো দেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ॥ ১
ওঁ পৃথ্বিত্বয়া ধৃত্বা লোকা দেবিত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।
ত্বং চ ধারায় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরুচাসনম্॥ ২
বামে- গুরুভ্যো নমঃ, ডানে- গণেশায় নমঃ, ঊর্ধ্বে- ব্রহ্মণে নমঃ নিচে-অনন্তায় নমঃ,সামনে-শিবায় নমঃ।
(৬) সরস্বতী পূজার আচমনঃ
(জল হাতে রেখে)
ওঁ শং নো দেবীরভিষ্টয় আপোভবন্তু পীতয়ে।
শংযোরভিস্রবন্তু ন ॥ ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু । বলে জল দ্বারা ৩ বার মুখ মার্জনা।
হাত জোড় করে ওঁ তদবিষ্ণু পরমং পদম্ সদা পশ্যন্তি সুরয়ঃ।
দিবীব চক্ষুরাততম ॥
ওঁ শঙ্খচক্রধরং বিষ্ণুং দ্বিভূজং পীতবাসসম্।
প্রারম্ভে কর্মণ কর্তা পাবনং তং স্মরেদ্ধরিম ॥
ওঁ মাধবো মাধবো বাচি মাধবো মাধবো হৃদি।
স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকর্মসু মাধবম্ ॥
ওঁ অপবিত্র পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তÍÍরঃ শুচি॥
(বৃ.ভক্তিতত্ত্বসার)
(৭) তুলসী প্রণামমন্ত্রঃ-
‘ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসীদেবৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥
(৮) তিলক ধারণঃ-
কেশবানন্ত গোবিন্দ বরাহ পুরুষোত্তম।
পুণ্য যশস্যমায়ুষ্যং তিলকং মে প্রসাদ তু ॥
(৯) চন্দন তিলকঃ
কান্তিং লক্ষ্মী ধৃতিং সৌম্যং সৌভাগ্যমতুলং।
দদাতু চন্দনং নিত্যং সততং ধারয়াম্যহম্ ॥
ক. ললাটে কেশবায় নমঃ
খ. কণ্ঠে পুরুষোত্তমায় নমঃ

(১০) লক্ষ্মী গায়ত্রীমন্ত্রঃ
মহালক্ষ্ম্যৈ বিদ্মহে মহাশ্রিয়ৈ ধীমহি তন্নঃ শ্রীঃ প্রচোদয়াৎ।
(১১) সরস্বতী ধ্যানমন্ত্রঃ
ওঁ তরুণ-শকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভরণমিতাঙ্গী সন্নিষণা সিতাজে।
নিজকর কমলোদ্যল্লেখনী পুস্তকশ্রীঃ
সকল বিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্দেবতা নমঃ॥
মন্ত্র : ওঁ সরস্বতৈ নমঃ।

(১২) সরস্বতী পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রঃ
ওঁ সরস্বতৈ নমো নিত্যং ভদ্রকাল্লৈ নমো নমঃ।
বেদ- বেদাঙ্গ বেদান্তÍ বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ স্বাহা ॥
এষ স চন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলিঃ ওঁ সরস্বতৈ নমঃ ॥

(১৩) সরস্বতী প্রণামমন্ত্রঃ
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচরসারে। কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতী দেবী নমস্তে ॥
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে ॥

(১৪) সরস্বতী গায়ত্রীমন্ত্রঃ ওঁ বাগদেব্যৈ বিদ্মহে কামরাজায় ধীমহি তনো দেবী প্রচোদয়াৎ ওঁ।

(১৫) লোকনাথ প্রণামমন্ত্রঃ
নমস্তে আর্তত্রাণায় সর্বসিদ্ধি প্রদায়িণে।
নমস্তে লোকনাথায় ব্রহ্মত্মনে নমো নমঃ ॥

(১৬) দেবদেবী বীজমন্ত্র জপের মন্ত্র প্রণাম/উৎসর্গের মন্ত্রঃ
কৃষ্ণ ওঁ ক্লীং ওঁ ক্লীং কৃষ্ণঃ ওঁ ক্লীং কৃষ্ণায় নমঃ স্বাহা
বিষ্ণু ওঁ ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণবে নমঃ স্বাহা
নারায়ণ ওঁ ওঁ নারায়ণঃ ওঁ নারায়ণায় নমঃ স্বাহা
গণেশ ওঁ গং ওঁ গং গণেশ ওঁ গং গণেশায় নমঃ স্বাহা
লক্ষ্মী ওঁ শ্রীং ওঁ শ্রীং লক্ষ্মী ওঁ শ্রীং লক্ষ্মী দেব্যৈ নমঃ স্বাহা
সরস্বতী ওঁ ঐঁং ওঁ ঐং সরস্বতী ওঁ ঐং সরস্বতী দেবৈ নমঃ স্বাহা
শিব ওঁ ওঁ শিবঃ ওঁ শিবায় নমঃ স্বাহা
দুর্গা ওঁ হ্রীং দুর্গাঃ ওঁ হ্রীং দুর্গাঃ ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ স্বাহা
কালী ওঁ হ্রীং ওঁ হ্রীং কালী ওঁ হ্রীং কালীকায়ৈ নমঃ স্বাহা
রাম ওঁ রাং ওঁ রাং রাম ওঁ রাং রামচন্দ্রায় নমঃ স্বাহা
চণ্ডী ওঁ হ্রীং ওঁ হ্রীং চণ্ডী ওঁ হ্রীং নমশ্চণ্ডীকায়ৈ স্বাহা
গুরু ওঁ ঐং ওঁ ঐং (অমুক) গুরু ওঁ ঐং (অমুক) গুরবে নমঃ স্বাহা
কার্তিক ওঁ কাং ওঁ কাং কার্তিক ওঁ কাং কার্তিকেয়ায় নমঃ স্বাহা
বনদুর্গা ওঁ হ্রীং ওঁ হ্রীং বনদুর্গা ওঁ হ্রীং বনদুর্গায়ৈ নমঃ স্বাহা
মঙ্গলচণ্ডী ওঁ হ্রীং ওঁ হ্রীং মঙ্গলচণ্ডী ওঁ হ্রীং মঙ্গলচণ্ডিকায়ৈ নমঃ স্বাহা
শীতলা ওঁ হ্রীং ওঁ হ্রীং শীতলা ওঁ হ্রীং শ্রী শীতলায়ৈ নমঃ স্বাহা
সর্বদেবদেবী ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং ওঁ ওঁ ঐং হ্রীং ক্লীং নমঃ স্বাহা

(১৭) শান্তিপাঠঃ
মধুবাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরন্তি সিন্ধব।
মাধ্বীর্ণ সন্তোষধীঃ॥
মধু নক্তমুতোষসো মধুমৎ পার্থিবং রজঃ। মধু দ্যৌরস্তু নঃ পিতা॥
মধুমান্নো বনস্পতি মধুমান্নোনস্তু সূর্যঃ। মাধ্বী গার্বো ভবন্তু। (ঋগে¦দ-১/৯০/৬-৮)

ওঁ দ্যৌঃ শান্তিরন্তরিক্ষং শান্তিঃ
পৃথিবী শান্তিরাপঃ শান্তি রোষধয়ঃ শান্তিঃ॥
বনস্পতয়ঃ শান্তির্বিশ্বেদেবাঃ শান্তি ব্রহ্ম শান্তিঃ
সর্বং শান্তিঃ শান্তিরেব শান্তিঃ সা মা শান্তিরেধি॥ (শুক্ল যজুর্বেদ ৩৬/১৭)
ওঁ অসতো মা সদ্গময় তমসো মা জ্যোতির্গময়
মৃত্যুর্মাহমৃতংগময় আবিরাবি র্ম এধি।

ওঁ সর্বেষাং মঙ্গলাং ভুয়াৎ সর্বে সুখিনঃ ভবন্তু
সর্বে সন্তু নিরাময়া সর্বে ভদ্রাণী পশন্তু
মা কশ্চিদ্ দুঃখ ভাক্ ভবেৎ ॥ (বৃহদারণ্যক উপনিষদ)

ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ।
স্বস্তি ন-স্তার্ক্ষ্যােরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু ॥ ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি ॥ (অথর্ববেদীয় শান্তিমন্ত্র)

ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যৎ ভবেৎ।
পূর্ণং ভবতু তৎ প্রসাদাৎ জনার্দন ॥
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি ॥ (শুক্ল যজুর্বেদ)

(১৮) ভোগ নিবেদনঃ
ভোগ নিবেদন পাত্রে একটি করে তুলসী পাতা দিতে হবে। ভোগ নিবেদন পাত্রের পাশে গ্লাসে জল দিতে হবে, কর্পূর দিতে পারলে ভাল হয়। ভোগ নিবেদনে আপনার গুরু প্রদত্ত দীক্ষামন্ত্র/পঞ্চতত্ত্ব/হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কমপক্ষে ১০ বার (প্রতি পাত্রের জন্য) জপ করুন এবং পূর্বের মতো বীজমন্ত্র উচ্চারণ করে ফুল,জল অর্পণ করুন।
(১৯) নিবেদনের প্রণাম মন্ত্রঃ
সমানায় স্বাহা উপানায় স্বাহা
অপানায় স্বাহা ব্যানানায় স্বাহা
পস্তুরমসি স্বাহা
ভূ পতয়ে নমঃ ভূব পতয়ে নমঃ
স্ব পতয়ে নমঃ ভূভূর্বস্ব পতয়ে নমঃ
নারায়ণ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ।
এতৎ সোপকরণামান্ননৈবেদ্যং ওঁ শ্রীশ্রীদেব /শ্রীশ্রীদেব্যৈ নমঃ (নৈবেদ্যে ফুল দিতে হবে)।
ভোগ নিবেদনের পর : বিগ্রহের বীজমন্ত্রে ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী ধ্যান করতে হবে (কমপক্ষে ১০ বার)।

(২০) পঞ্চতত্ত্ব বন্দনাঃ
জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ॥
(২১) মহামন্ত্র :
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

(২২) লক্ষ্মীর পাঁচালীঃ
আরতী:
ক. ধূপ। খ.পঞ্চদীপ। গ. কর্পূরদীপ। ঘ. জলশঙ্খ। ঙ. রুমাল/পাখা (শীতে পাখা বন্ধ)। চ. পুষ্পচন্দন।

ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যৎ ভবেৎ।
পূর্ণং ভবতু তৎ প্রসাদাৎ জনার্দন ॥
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি ॥ (শুক্ল যজুর্বেদ)

(২৩) কালী প্রণামমন্ত্রঃ
ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রাকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী স্বাহা সদা নমোহস্তুতে ॥
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে॥ (শ্রীশ্রীচণ্ডী-১১/১০)
(২৪) তুলসী চয়নমন্ত্রঃ
ওঁ তুলস্যমৃতনামামি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়ে।
কেশবার্থে চিনোমি ত্বাং বরদা ভব শোভন্ ে॥
সরস্বতী পূজার আরতী তত্ত্বঃ
ক.ধূপ (ক্ষিতিতত্ত্ব) দেহের প্রতীক তথা দেহ সমর্পণ।
খ.পঞ্চদীপ (তেজতত্ত্ব) পঞ্চপ্রাণের প্রতীক তথা পঞ্চপ্রাণ সমর্পণ।
গ. কর্পূরদীপ (বায়ুতত্ত্ব) মন বুদ্ধির প্রতীক তথা মনসমর্পণ।
ঘ. জলশঙ্খ (জলতত্ত্ব) স্নেহ, প্রীতির প্রতীক, হৃদয় পবিত্রতার তথা প্রীতিসমর্পণ।
ঙ. বস্ত্র/রুমাল (আকাশতত্ত্ব) লজ্জা,ভয়াদির প্রতীক-হৃদয়পাত্র ভরা তথা প্রীতি সমর্পণ।
চ. পুষ্পচন্দন (ভক্তিমাখা) আত্মসমর্পণ তথা সর্বতোভাবে নিজেকে দান।
ছ. পাখা/চামর (অহংকার তত্ত্ব) তথা অহংসত্ত্বা ঈশ্বরে মিলিয়ে দেয়া।
(ওঁ-কার আকৃতিতে আরতী করতে হয়। শ্রীমুখে ৩ বার, বুকে ১ বার, নাভিতে ১ বার, চরণে ২ বার সর্বাঙ্গে ৭ বার মোট ১৪ বার। ১৪ বারের কম নয়, বেশি যত খুশি)
(২৫) রাধাকৃষ্ণ শয়নমন্ত্রঃ
আগচ্ছ শয়নস্থানং প্রিয়াভিঃ সহ কেশব।
দিভ্য পুষ্পাঢ্য শয্যায়াং সুখং বিহর মাধব॥
পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্রঃ (৩ বার পাঠসহ)
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে,ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।
(২৬) সরস্বতী পূজা প্রনাম মন্ত্রঃ
নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে,ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

(২৭) দেবী সরস্বতীর স্তবঃ
শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা।।
শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা।
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারব‌ভূষিতা
বন্দিতা সিদ্ধগন্ধর্ব্বৈর্চ্চিতা দেবদানবৈঃ।
পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা।।
স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্।
যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ং সর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ