Rumman Ahmad - (Sylhet)
প্রকাশ ১৪/০১/২০২২ ০৪:৫৫পি এম

টিএসসিতে কাওয়ালী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক

টিএসসিতে কাওয়ালী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক
ad image
কাওয়ালী বা সেমা নিয়ে কথা আছে,দ্বন্দ্ব আছে, মত-দ্বিমত আছে,জায়েজ-নাজায়েজ ফতোয়া আছে । এটা ফরজ কিছু না যে এটা নিয়ে কড়াকড়ি করতে হবে। তবে, ক্ষেত্রবিশেষে তা আত্মার খোরাক। টিএসসিতে কাওয়ালী প্রোগ্রাম আয়োজন করতে পারাটা সাহসের ব্যাপার। এই সাহস সবার থাকে না। আর সাহস থাকলেও ভালো সম্পর্ক না থাকায় এরকম যায়গাগুলোতে বাইরের কেউ প্রোগ্রাম করা অনেক কঠিম। ভালোমতো যোগাযোগ না থাকলে ও হয় না।

যদি শরয়ী উসুলে আসেন তাহলে বড়জোর জায়েজ বলতে পারবেন। এর বেশী কিছু না৷ সেমার আয়োজন করতে পারাটা সফলতা। যারা আয়োজন করেছেন তাদের উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করলে দু'টি বিষয় সামনে আসে। এর উদ্দেশ্য মহৎ। সুফিবাদী বা ইসলামী। যদি না কোন এজেন্ডা থাকে। পিছনে কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের ইচ্ছা থাকলে ভিন্ন। অর্থাৎ শুধু ভালো উদ্দেশ্যে সুফিবাদের প্রচার নাকি কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন!

কিন্তু! যারা হামলা করেছে তাদের জ্বলেছে কেন?
সুফিবাদ /ইসলাম শুনেই? তারা কি ইসলামি কোন আয়োজন করা হোক এটা চায় না? ইসলামফোবিয়ার কারণেই কি এ আক্রমণ? এর আগে তারা মুহিব খানের একটা প্রোগ্রাম হতে দেয় নি। কবি মুহিব খানের ব্যাপারে দু'টি ভয় থাকতে পারে। ১/ ইসলামপন্থীদের জাগরণ। ২/ জুলুমবাজদের বিরোধিতাপূর্ণ লেখা যা ক্ষমতাসীনদের উপরে পড়ে যায়।
ইসলামী বা সুফিবাদী নাম শুনেই যদি আক্রমণ করে দমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে এটা আমাদের জন্য চিন্তা,ভয়ের কারণ এবং হতাশাব্যাঞ্জক।
(যদিও এই প্রোগ্রাম কতটুকু ইসলাম-সম্মত সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে বেশী।) ইসলামী হোক বা না হোক এটাতে ইসলামী গাণ গাওয়া হবে এটা একটা বিষয়।
প্রোগামের শুদ্ধতা নিয়ে দ্বিধা আছে। কারণ, এতে শরয়ী মান রক্ষা হয়তো হয়নি। তাছাড়া যারা কাওয়ালী জায়েজ বলেছেন তারাও জায়েজ হওয়ায় যে শর্ত দিয়েছেন তা একটা পাবলিক প্রোগ্রামে রক্ষা করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার৷ বিশ্ববিদ্যালয় আঙ্গিনায় তো প্রায় অসম্ভব।

আর যদি ভাষার প্রতি আক্রোশপ্রসূত আক্রমন হয় তাহলে এটা ছোটমনের পরিচয়। ভাষা হিসাবে উর্দু, আরবি, হিন্দী সব সমান। যেখানে আমাদের ক্যান্টনমেন্টগুলোতে মাইকে হিন্দী গান বাজানো হয় সেখানে একটা ভাষা হিসাবে উর্দু গান দেশের যেকোনো যায়গায় চলতে পারে। এতে আক্রমণ করার ঘটনা ন্যক্কারজনক। উর্দু নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতে হবে কেন? ভাষা হিসাবে পৃথিবীর যে কেউ এটা ব্যবহার করতে পারে।আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ হলে বলতে চাই, অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে দেখতে পাবেন ভারত সফরে গিয়ে খাজাবাবার মাজার এলাকায় বঙ্গবন্ধুও কাওয়ালী শুনেছেন এবং তাতে খুব প্রীত হয়েছেন৷

টিএসসিতে কাওয়ালী অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ঢাকার নবার পরিবারের আত্মীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির ক্ষেত্রে নবাব পরিবারের অসামান্য অবদান রয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তারাই একটা অনুষ্ঠানের আয়োজনে বাধার সম্মুখীন হলেন এটা দুঃখজনক।
আমি কাওয়ালী পক্ষে কথা বলছি না। বলছি সসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে৷ যারা সাধারণ আয়োজন স্তব্ধ করে দিতে চায়। যারা পরমতসহিষ্ণু নয় তাদের বিরুদ্ধে।
কাওয়ালী সম্পর্কে আমার তেমন শক্ত ধারণা নেই। কিন্তু এই ঘটনা স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধা দেয়ার মত।
কাওয়ালী অনুষ্ঠানে আক্রমণ করে দমিয়ে দেয়া যায় নি। উলটো এখন সারাদেশে কাওয়ালী আয়োজন বাড়বে। লক্ষ হৃদয়ে যে সুর বেজেছে তা চলতে থাকবে৷
মানুষ কাওয়ালীর দিকে আরো ঝুকবে।

হুজুগ ছেড়ে বাস্তবতার আলোকে চলতে হবে৷ প্রতিহিংসা ছেড়ে সহনশীলতার চর্চা করতে হবে নয়তো পশু আর মানুষে পার্থক্য থাকবে না৷

মনসুরপুর,জকিগঞ্জ,সিলেট

আমি কাওয়ালী প্রেমী না এর সম্পর্কে তেমন ধারণাও রাখি না৷

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*