সম্পাদনাঃ শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ১০/০১/২০২২ ১২:১৩পি এম

নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিয়ে যেভাবে ইন্টারনেট এর গতি নামিয়ে দেয়া হয়

নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিয়ে যেভাবে ইন্টারনেট এর গতি নামিয়ে দেয়া হয়
ad image
নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিয়ে যেভাবে ইন্টারনেট এর গতি নামিয়ে দেয়া হয়। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ সোমালিয়া ইথোপিয়া উগান্ডার চেয়েও ইন্টারনেট গতির নিচে আজকের ডিজিটালের বেতাল বাংলাদেশ।

বিটিআরসি এর মহাপরিচালক সুব্রত রায় মৈত্র এর নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের ছোট বড় মাঝারি ক্যাশ সার্ভার।

কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ার ভাটায় তোলপাড় হয়ে ছোট বড় অনেক নদ নদী ভাসিয়ে দিয়েছে সেটাও আমরা বেশ ভালো করে জানি। অথচ ডিজিটাল উন্নয়নের জোয়ারে ইন্টারনেট সংযোগও একটা সফল উন্নয়ন। এই সকল উন্নয়নের যুগে পা রেখে আজ আমরা ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করতে পেরেছি এর পুরো অবদান সরকারের। তার পরেও ডিজিটাল উন্নয়নের স্বাদ গ্রহণ করা বর্তমানের বাংলাদেশ 2G এর নিচেও যদি কোন G থাকে তাহলে মনে করি বাংলাদেশে আজ সেই 0G ভেতরে প্রবেশ করেছে। এই অবদানটাও আমাদের বাংলাদেশ সরকারের। কোথায় যেন শুনেছিলাম ফেসবুক কে এনেছে? ইন্টারনেট কে এনেছে? আর সেটাই বারবার মনে পড়ল 3G কে এনেছে! ফোর জি কে এনেছে! আবার ফাইভ-জি কে আনলো!!! এ এক বড় প্রশ্ন কোন দরকারই ছিল না এসব আনার।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবা কতটা অগ্রগতি হয়েছে সেটা যদি একবার ভেবে দেখেন তাহলে বলতে পারি সোমালিয়া ইথুপিয়ার এমনকি উগান্ডা মতো দরিদ্র দেশেও ইন্টারনেটের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক উপরে। এটা আমার কথা নয় এটা হচ্ছে বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি নেট স্পিড প্রতিষ্ঠান এর জরিপ। টুজি থ্রিজি ফোরজি মধ্যে আবার ফাইভ-জি ঢুকে গেল তার পরেও আবার এখানে নতুন করে আর একটা বিপদ সামনে হাজির হল সেটা আবার কোন বিপদ?

বিপদটা হলো বাংলাদেশে হঠাৎ করেই কারো ভিডিও ফাঁস হচ্ছে কল ফাঁস হচ্ছে লুটপাটের রাজনীতিতে যারা লুটেরা তাদের বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম হুটহাট করে ফাঁস হচ্ছে এটাকে বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যে সমস্ত ছোটখাটো ক্যাশ সার্ভার ছিল সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার তাগিদ অনুভব করা হলো। এবং সেই তাগিদটা অনুভব করার সাথে সাথেই বাংলাদেশের সকল ধরনের ক্যাশ সার্ভার গত 31 শে ডিসেম্বর 2021 বন্ধ করে দেওয়া হয় এটাকেই বলে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এতে করে ঢাকা শহরের মানুষদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে না হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা পড়বে নানা ধরনের বাধার মুখে। এতে করে তাদের অপকর্ম ফাঁস হওয়ার যতটুকু ঝুঁকি ছিল সেটা অনেকাংশে কমে যাবে।

কারণ এই সংস্থাগুলো এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে মানে বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ক্যাশ সার্ভারগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে তারা বেশ ভালোভাবেই সফলতা অর্জন করতেছে এই সফলত সমুদ্র জয়ের চেয়েও বড় কিছু। যেখানে এই কাজটা বন্ধ করতে কোন রক্তপাত হয়নি খুন হয়নি কেউ ধর্ষিত হয়নি। সাধারন পাবলিকের ইন্টারনেট গতির সমস্যা হবে এতে কোনো গভমেন্টের প্রবলেম হওয়ার কথা না। বেশ ভালোভাবেই সফল হয়েছে। এই ক্যাশ সার্ভার না থাকার জন্য বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট সেবা দ্রুত থমকে পড়বে ফেসবুকে কোন ভিডিও দেখা যাবে না ইউটিউবে কোন গান শোনা যাবেনা এবং যদি শোনা যায়ও তবে বাফারিং হবে। আর সেটুকু নিয়েই আপনাকে ফাইভজি এর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গভমেন্ট এর তালিকা ভুক্ত নয় এমন সকল ক্যাশ সার্ভার বন্ধ হওয়ার কারণে ইন্টারনেটের গতি যেভাবে নেমে গেল।

গত 31 শে ডিসেম্বর 2021 সাল থেকে গুগল ফেসবুক ও ইউটিউব সহ বিভিন্ন ক্যাশ সার্ভার। গুগল ফেসবুক ইউটিউব সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ ক্যাশ সার্ভার বন্ধ হয়ে গেল গত শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর)। ইতোমধ্যেই প্রান্তিক গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যবহারে পড়েছেন ভোগান্তিতে। বিটিআরসি বলছে এখন থেকে নির্ধারিত অপারেটর ব্যতীত আর কারো কাছে ক্যাশ সার্ভার থাকবে না। ক্যাশ সার্ভার মূলত গুগল ফেসবুক ইউটিউব এর প্রধান সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত সহযোগী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। বাংলাদেশের কোনো গ্রাহক গুগল, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে তথ্য বা ভিডিও চাইলে প্রথমে প্রধান সার্ভার থেকে সরবরাহ করা হয়। গ্রাহক সংশ্লিষ্ট কনটেন্টটি একবার দেখার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশীয় ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ক্যাশ সার্ভারে জমা হয়। এরপর একই কনটেন্ট অন্য গ্রাহক দেখতে চাইলে স্থানীয় ক্যাশ সার্ভার থেকে মুহূর্তেই সরবরাহ করা হয়।

তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ৩১ ডিসেম্বর অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যে আইআইজি, নিক্স, ন্যাশনওয়াইড আইএসপি এবং মোবাইল অপারেটর ছাড়া ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থাকা ক্যাশ সার্ভার অপসারণের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। গভমেন্টের কিছু অপদার্থ মানুষ রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত ও সামাজিক ভাবে জীবন যাপন করে ও অসামাজিক কাজকর্ম ভেতরে লিপ্ত থাকার জন্য যেভাবে তাদের কল ফাঁস এবং অশ্লীল ভিডিও ফাঁস হচ্ছে মূলত সেটা ঠেকানোর জন্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যাশ সার্ভার গুলোকে বন্ধ করে দেয়া হলো।

এতে তাদের কোন সমস্যা নেই সমস্যা পর্বে প্রান্তিক গ্রাহকরা যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং ফেসবুক-ইউটিউব বা বিভিন্নসার্ভারে গিয়ে সার্চিং এর মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় সমস্যাগুলোকে দূর করে তাদের এই দুরবস্থা তা এতটাই শোচনীয় পর্যায়ে চলে যাবে যে একটা কোন কিছু যদি ডাউনলোড করতে যায় সেটা আগে যদি এক মিনিট লাগত এখন সেটা 20 মিনিট লাগবে আর কোন কিছু যদি তারা খুঁজতে যায় সেটা আরো বেশি সময় লাগবে এমনকি ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে সেটা এরর ও দেখাতে পারে।

এখন আপনি যদি ক্যাশ সার্ভার সম্পর্কে না জানেন তাহলে বুঝে নিতে হবে যে ক্যাশ সার্ভার কি? ক্যাশ সার্ভার হল একটি বা একাধিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন সার্চ ইঞ্জিনের সকল ডাটা সংরক্ষণ করে যা নিকটতম স্থানে খুব দ্রুত সরবরাহ করতে সক্ষম আপনি যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা ইন্টারনেটের সার্চের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন অথবা সন্ধান করে থাকেন। তা দ্রুত সরবরাহের জন্য সেই ক্যাশ সার্ভারগুলো তার গ্রাহকের নিকট দ্রুত পৌঁছে দেন।

ক্যাশ সার্ভার না থাকলে আপনার কি সমস্যা হতে পারে: ক্যাশ সার্ভার না থাকলে আপনি যে মেগাবাইট টি ব্যবহার করছেন সেই মেগাবাইট টা আর আপনার আগের মত কাজ করবে না আপনি যদি কোন কিছু ডাউনলোড করতে যান সেটা এক মিনিটের জায়গায় 10 মিনিট সময় লাগবে। এক ঘন্টার জায়গায় 10 ঘন্টা সময় লাগবে। বাংলাদেশকে সার্ভার যদি না থাকে অথবা আপনার নিকট তম স্থানে যে সকল ক্যাশ সার্ভার রয়েছে সেই ক্যাস্ট সার্ভারগুলো যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে আপনি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে আপনাআপনি বঞ্চিত হবেন।

আপনি যেখানেই যে অবস্থানে থেকেই কিছু যদি সার্চ করেন সার্চ ইঞ্জিনে যেমন গুগোল ফেসবুক ইউটিউব অথবা যেকোন অনলাইন সার্ভারে নিকটস্থ স্থান থেকে ক্যাশ সার্ভার তা অটোমেটিক জমা করে রাখেন। এই ক্যাশ সার্ভারগুলো আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী যে চাওয়া গুলো থাকে তা খুব দ্রুত পূরণ করার জন্য সহায়তা করে এবং আপনাকে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করে।

আপনাকে বোঝানোর জন্য ধরে নেয়া যাক যদি মনে করেন যে ইন্ডিয়াতে একটা নতুন মুভি বের হয়েছে সেই মুভিটি আপনি বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব এর মাধ্যমে ডাউনলোড করবেন বা ওই অ্যাড্রেস অনুযায়ী আপনি আপনার সার্চ ইঞ্জিন থেকে সার্চ করবেন। বাংলাদেশের কোন ক্যাশ সার্ভারে যদি সেই মুভিটি না থাকে তাহলে আপনাকে ইন্ডিয়ার সেই সাইট থেকে ডাউনলোড করতে হবে সে ডাউনলোডের ক্ষেত্রে যদি বলা হয় আপনার ইন্টারনেট সেবা অত্যন্ত ধীরগতিতে রূপান্তরিত হবে কারণ আপনি যখন এই মুভিটি ডাউনলোড করতে যাচ্ছেন তখন অনেক দূরের কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে যদি সেই ওয়েবসাইট টা থাকে তাহলে এই লং ডিস্টেন্স এর জন্য আপনার ডাউনলোড সিস্টেম খুব ধীরগতিতে ডাউনলোড করতে থাকবে যে মুভিটি বাংলাদেশের ক্যাশ সার্ভারের কারনে আপনি 5 মিনিটে ডাউনলোড করতে পারতেন বা দুই মিনিটে ডাউনলোড করতে পারতেন সেই মুভিটি এখন এক ঘন্টায় ডাউনলোড করা লাগবে। অথবা আপনি গুগল সার্ভার গিয়ে যখন কোন একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাবেন তখন গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে সেই প্রশ্নটি যদি থেকে থাকে সেটা যদি বাংলাদেশে না পাওয়া যায় তাহলে আপনাকে দেশের বাইরে থেকে সার্চ করে আপনাকে সেই সেবাটি গুগল দিয়ে দেবে কিন্তু এই সেবা নিতে গিয়ে আপনাকে মিনিমাম 30 সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের বেশি সময় নেবে। এখন সেটা পূর্ববর্তী হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খুঁজে পেতে পারেন। যদি এই গুগল সার্ভারে বাংলাদেশের ক্যাশ সার্ভার থাকতো তাহলে এই সমস্যাটা আপনার তিন সেকেন্ডের ভিতর সমাধান হয়ে যেত। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ফেসবুক ইউটিউব গুগোল সহ বিভিন্ন সাইটের ডাউনলোডিং সিস্টেম বন্ধ হওয়ার দশা প্রান্তিক গ্রাহকরা ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এটা গভঃ কতৃক নির্দেশ নাকি সুব্রত মৈত্র এর নিজস্ব মতামত এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি তবে এটা যদি সুব্রত রায় এর মত হয়ে থাকে বা বন্ধ করার পেছনে তার হাত থাকে তবে বোঝা যাবে এটার থেকে বাংলাদেশে যে লাভবান হতো সে লাভটা ইন্ডিয়ার পক্ষে চলে যাবে কারণ ইন্ডিয়ান দ্রুতই এ বাজারটা দখল করে নেবে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা যেখানে অত্যাধিক সেখানে এর অভাব বোধ করার ক্ষেত্রে প্রকাশ করার স্বাধীনতা না থাকার কারণে এই সব পরিশ্রমের জায়গাটা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। ঠিক এই সুযোগটি ভারত লুফে নেবে যা বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ অনুভব করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে নির্ধারিত অপারেটর ছাড়া আর কারও কাছে ক্যাশ সার্ভার থাকবে না। বন্ধের তালিকায় থাকা সার্ভারগুলো স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ফেসবুক ও গুগলের অসহযোগিতায় তা কাজে লাগানো যায়নি বলে অভিযোগ ইন্টারনেট সেবাদাতাদের। ক্যাশ সার্ভার মূলত Google – Facebook – Youtube এর প্রধান সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত সহযোগী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। বাংলাদেশের কোনো গ্রাহক গুগল, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে তথ্য বা ভিডিও চাইলে প্রথমে প্রধান সার্ভার থেকে সরবরাহ করা হয়। গ্রাহক সংশ্লিষ্ট কনটেন্টটি একবার দেখার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশীয় ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ক্যাশ সার্ভারে জমা হয়। এরপর একই কনটেন্ট অন্য গ্রাহক দেখতে চাইলে স্থানীয় ক্যাশ সার্ভার থেকে মুহূর্তেই সরবরাহ করা হয়।


তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ৩১ ডিসেম্বর অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যে আইআইজি, নিক্স, ন্যাশনওয়াইড আইএসপি এবং মোবাইল অপারেটর ছাড়া ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থাকা ক্যাশ সার্ভার অপসারণের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। ইন্টারনেট সেবাদাতারা বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে Google – Facebook – Youtube এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ১৬০০ সার্ভার রয়েছে। তবে ফেসবুক গুগলের অসহযোগিতায় প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা সাড়ে তিনশ’র মতো সার্ভার এখনো সরানো যায়নি।

এদিকে আইএসপিএবির সভাপতি এমদাদুল হক বলেছেন বিটিআরসি আমাদের এনওসি দিয়ে দিয়েছে কিন্তু গুগোল ইউটিউব ফেসবুক এবং স্থানীয়ভাবে যারা এখানে আছে তাদের আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণে শহরের সমস্যা না হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাহকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তারা ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে সকল ধরনের ইন্টারনেটের সমস্যা ভোগান্তিতে পরবে। যা কিনা ইন্টারনেট সেবা খাতে এক বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি করে।এদিকে আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের যারা ব্যবহারকারীরা আছেন তারা কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ডউইথ পাবে না।

বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, অবশ্যই একটা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। যাদের ছোট আইএসপি তারা অসুবিধার মধ্যে পড়ছে। বিটিআরসি বলছে, অনুমোদন ছাড়া স্থাপন করা গুগল, ফেসবুকের ক্যাশ সার্ভারগুলো নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী মহীউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব এসে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যেটা আমাদের কোনো রেজুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সবকিছু সামনে নিয়ে আমরা ক্যাশ সার্ভারের মূলত রি-অ্যারেঞ্জ বলা যেতে পারে। এর আগে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ক্যাশ সার্ভার অপসারণের নিদের্শ দিলেও সেবাদাতাদের অনুরোধে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি।

অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি দেখা যায় এমন একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট জানুয়ারি মাসে স্পিডটেস্টের একটি গ্লোবাল ইনডেক্স প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে, মোবাইল ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে আফ্রিকার দরিদ্র দেশ বলে পরিচিত ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার চাইতেও খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের।দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চাইতে কম গতির ইন্টারনেট রয়েছে শুধু আফগানিস্তানে। এপ্রিল মাসে চারটি বিভাগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের করা এক জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

তাতে বলা হয়েছে, দেশের সকল মোবাইল ফোন অপারেটরের ফোরজি ইন্টারনেট সেবায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে গতি কম।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ