এসএম হাসান আলী বাচ্চু - (Satkhira)
প্রকাশ ০৯/০১/২০২২ ০৮:৫১এ এম

satkhira: ফের বেপরোয়া তালার জাল আবুল,ধরেছেন নতুন কৌশল

satkhira: ফের বেপরোয়া তালার জাল আবুল,ধরেছেন নতুন কৌশল
ad image
অভিনব কৌশলে জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও পুনরায় সক্রিয় হতে শুরু করেছেন তালার জাল টাকার চিহ্নিত হোতা আবুল হোসেন। সর্বশেষ জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে বড় পরিসরে জাল টাকার ব্যবসা শুরু করছেন সে। নিত্য নতুন অভিনব প্রতারনার ফাঁদে ফেলে গ্রামের নিরীহ নারী-পুরুষদের কাছ হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের মৃত ইমান আলী বিশ্বাসের ছেলে আবুল হোসেন এক সময়ের জাল টাকার চিহ্নিত কারবারী ।জাল টাকার কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার পরে বছর কয়েক আগে বাড়ি ফিরেছে জাল আবুল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার খন্ড খন্ড অভিযোগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জানা-অজানা চ্যাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায়, তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের চরগ্রামের নাজিম উদ্দীন শেখের ছেলে আলম শেখ পেশায় একজন ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কের জের ধরে জাল টাকার হোতা আবুল হোসেন প্রথমে তার কাছ থেকে এক সপ্তাহ পরে ফেরৎ দেওয়ার সত্ব মোতাবেক কিস্তিতে ৮০ হাজার টাকা ধার নেয়। টাকা ধার নেওয়ার পরে কয়েক সপ্তাহ পার হলেও আবুলের সপ্তাহ আর আসেনা। টাকা ফেরৎ চাইলে নানান তালবাহানার এক পর্যায়ে টাকা বাধ্য হয়ে আলম শেখের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে বাকী টাকা আরো এক মাস পরে ফেরৎ দেবে বলে সময় নেয়।

তবে এরই মধ্যে আবার অভিনব কৌশল অবলম্বন করে জাল টাকার হোতা আবুল হোসেন ফের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আলম শেখকে। তার সামনে নানা অপকৌশলে একশ টাকায় ৩টি একশ’ টাকার নোট তৈরী করে দেখিয়ে বলে আরো ৮০ হাজার টাকা চায়।বলা হয় এই কৌশলে তিনগুণ টাকা বানিয়ে এক সপ্তাহের মধ্য সমুদয় টাকা ফেরৎ দেবে।

আবুল এই অভিনব কৌশলের তাকে শর্ত দেয় যে, একটি টিনের হাড়িতে ঐ টাকা ভরে ঘরের কোণায় ৩ দিন ঢেকে রেখে উঠাতে হবে তবেই নাকি সেখান থেকে ৩ গুণ টাকা বেরুবে। তার আগে টাকা ভর্তি হাড়ি আবুলের কাছে দিতে হবে ফুফু দেওয়া জন্য ২ দিন। আবুল হাড়ি ফেরৎ দিলে ওই পন্থা অবলম্বন করতে হবে হাড়ি না খুলে। কথা মত আলম নিজের ভাড়াই চালিত মোটর সাইকেলটি বিক্রি করে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার পর ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখেন হাড়ির ভেতর ৩ বান্ডিল টাকার সাইজের ৩ বান্ডিল সাদা কাগজ। এরপর থেকে আবুলকে ফোন দিলে সে নানা টালবাহানা শুরু করে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরকে জানালে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। সর্বশেষ সর্বস্ব হারিয়ে আলমের এখন পাগল প্রায় অবস্থা।

এমনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তালা উপজেলার মাগুরার ঢুলন্ডা গ্রামের হাজিরা বেগম। আবুল প্রথমে তার সাথে ধর্ম বোনের সম্পর্ক গড়ে তার কাছ থেকে লাভজনক ব্যবসার কথা বলে নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৫ শত টাকা ও দুটি স্বর্ণের চুরি হাতিয়ে নেয়। তবে সেসব টাকা ফেরৎ চাইলে বিভিন্ন সময় নানা টালবাহানার এক পর্যায়ে ৩ নভেম্বর তাকে মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে বলে বাকি টাকা ইচ্ছা মত দেবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে হত্যার হুমকি য়ে আবুল। একই গ্রামের বন্দনা দাশের সাথে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে চাতুরিতার আশ্রয় নিয়ে একশ টাকায় ৩ শ’ টাকা তৈরী করে দেখিয়ে ৩ গুণ টাকা তৈরী করে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈকা মহিলার বাড়িতে মাস ছয়েক আগে রাতে আশ্রয় নিয়ে নানা ছলা-কলায় ভুলিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। পরে সেসব টাকা ফেরৎ চাইলে নানা হুমকির মুখে পিছু হটেন ঐ মহিলা।

একই প্রতারণার শিকার হয়েছেন পাইকগাছার কাশিমনগর গ্রামের মুক্তার শেখ। তিনি তার দ্বারা প্রতারিত হয়ে ৪০ হাজার টাকা ,চরগ্রামের তারাপদ খাঁর মেয়ে বিজলী রাণী অনুরুপ তার প্রতারণার শিকার হয়ে ৪০ হাজার টাকা খুঁইয়েছেন। এমনি প্রতারণার শিকার বহু নর-নারী সর্বস্ব খুঁইয়ে এখন পথে বসেছেন।

সূত্র জানায়,জাল টাকার তৈরীর হোতা আবুল জেল হতে বের হয়ে তার প্রতারণার স্টাইল পরিবর্তন করে অভিনব কৌশল ধরেছেন। এবার সে আর জাল টাকার ব্যবসা নয়। জাল টাকার তৈরী ছন্দে ছদ্দবেশ ধরে নিত্য নতুন কৌশলে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে আকৃষ্ঠ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তার খপ্পরে পড়ে অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে এখন পথের ফকির বনে গেছে। অনেকে সংসার বিবাগী হয়েছেন। ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

প্রতারক আবুল হোসের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে সদর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,তিনি এলাকায় চিটার আবুল নামেই পরিচিত।এমনকি না চিনার কারণে আবুলের বড় ছেলে আঃ রশিদের নিকট আবুলের বাড়ীর ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি উল্টো এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন কোন আবুলের বাড়ী খুজছেন।এ গ্রামে তিনটা আবুল আছে।তখন বাধ্য হয়ে এলাকায় পরিচিত নাম ধরে বললেই তিনি আবুলের বাড়ীটি দেখিয়ে দেন।

এ বিষয়ে আবুল হোসেন বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে প্রতিবেদকের সাথে সাথে কোন প্রকার কথা বলতে রাজী হননি।

এমন প্রতারক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ