Harunur Rashid - (Rajbari)
প্রকাশ ০৮/০১/২০২২ ০৩:৪০এ এম

Kill Sagar Rooney: বিচার পেতে কি সবাইকে প্রধানমন্ত্রী হতে হবে?

Kill Sagar Rooney: বিচার পেতে কি সবাইকে প্রধানমন্ত্রী হতে হবে?
ad image
গত তের বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার দেশে এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন গুলে তারা যেখানে চেয়েছেন সেখানেই করেছেন।যেমন তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন,যুদ্ধাপরাধীদের ও ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন।বিশ্ব ব্যাংক কে এক হাত দেখিয়ে পদ্মাসেতু করেছেন।রাজধানী ঢাকায় অনেক বড় বড় ফ্লাইওভার করেছেন,মেট্রোরেল করেছেন।শেখ হাসিনা সরকারের এ কাজ গুলো অস্বীকার কারার কোন উপায় নেই!

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কি হতো?এটি মিলিয়ন ডলারের কোয়েশ্চন!তার কারন পঁচাত্তর থেকে ছিয়ানব্বই পর্যন্ত কেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি হিমাঘরে পড়েছিল?শেখ হাসিনা ছিয়ানব্বই তে প্রথমে ক্ষমতায় এসে মামলাটির আইনি বাধ্যবাধকতা দূর করেছেন অতঃপর বিচারের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।অবশেষে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের চুড়ান্ত রায় এবং তার বাস্তবায়ন করেছেন যদি এখন অবধি ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি বিদেশে পলাতক রয়েছেন।

শেখ হাসিনার চোখের সামনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ঘটনা না ঘটলে ও ২০১২ সালে ৪ বছরের একটি শিশুর চোখের সামনে তার সাংবাদিক দম্পতি মা বাবাকে খুন করা হয়।অবাক করা বিষয় হলো গত দশ বছরে ও সাগর রুনি হত্যার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা যায়নি।এ পর্যন্ত ৮৪ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা? একটা মামলার তদন্ত রিপোর্ট দিতে কি ৮৪ বছর লাগবে?সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ কে কি তার বাবা মার হত্যার বিচারের জন্য তাকে ও প্রধানমন্ত্রী হতে হবে?কি আশ্চর্য বিষয়?নিচে দেখুন সাগর রুনি হত্যার ঘটনা নিয়ে আমাদের হোম মিনিস্টাররা কে কি বলেছিলেন?

২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন।

এরপর ৯ অক্টোবর ‘চমক দেওয়া’ সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরা হয়, কিন্তু ঘটনার রহস্য আর উন্মোচিত হয়নি।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলার তদন্তভার পায়। দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে।

গত ৩ মার্চ অগ্রগতি প্রতিবেদনে র‌্যাব আদালতকে জানায়, ‘ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী সাগরকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট হতে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষণে প্রতীয়মান হয় উক্ত হত্যাকাণ্ডে কমপক্ষে দুজন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিল।’ এ অপরিচিত অপরাধী শনাক্তকল্পে ডিএনএ পরীক্ষাকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

তাহলে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাল ছেড়ে দেবে? ডিবি তো বলেই দিয়েছিল, তারা এটি পারবে না। এরপর হাইকোর্ট বলেছেন র‌্যাবকে তদন্ত করতে। র‌্যাব বিষয়টি নিয়ে বিব্রত, এটি ধারণা করা যায়। কারণ সাংবাদিকেরা যখন বিষয়টি নিয়ে র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিব্রত ও বিরক্ত হন।

র‌্যাব যদি এই তদন্ত শেষ না করতে পারে, তাহলে হাইকোর্টকে তা জানাতে পারে। দেশে আরও তদন্ত সংস্থা রয়েছে। পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থা উল্লেখযোগ্য তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তারাও চেষ্টা করে দেখতে পারে। আর যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয় যুক্ত থাকে, সেটিও বলে দেওয়া ভালো। তবে হত্যার বিচার একমাত্র খুনিরা ছাড়া রাষ্ট্র, সরকার ও প্রত্যেক নাগরিক চাইবে।

এটা বিশ্বাস করতে চাই না যে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত খুনিদের খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে কোনো ঘটনাই আড়াল করে রাখা যায় না। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সদিচ্ছা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার পাশাপাশি প্রযুক্তিই কিন্তু পথ দেখিয়েছে। সেই সদিচ্ছা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে সাগর-রুনি হত্যার তদন্তও দ্রুত শেষ হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ