Verified MD. MIRAZUL-AL- MISHKAT
প্রকাশ ০৪/০১/২০২২ ০৩:৩২পি এম

হাবিপ্রবিতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে এগিয়ে মেয়েরা

হাবিপ্রবিতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে এগিয়ে মেয়েরা
ad image
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মনোনীত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ পাচ্ছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৪ ও ১৫ সেশনের ৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থী ৫ জন ও ছেলে শিক্ষার্থী ৩ জন।

সোমবার (৩রা জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে হাবিপ্রবির সংশ্লিষ্ট ডিন অফিস।

মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ধারী শিক্ষার্থীরা এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তবে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই ব্যাচের (হাবিপ্রবির ১৪ ও ১৫ ব্যাচ ) ফলাফল ২০১৯ সালে প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে প্রার্থী নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী পদক প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী আল জান্নাতুন নূর ( হাবিপ্রবির ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ) সিজিপিএ-৩.৯১ অর্জন করে এগিয়ে রয়েছেন। পক্ষান্তরে রিয়াজ আহমেদ ও মতিউর রহমান তারেক ( হাবিপ্রবির ১৫ ব্যাচ শিক্ষার্থী ) এর সিজিপিএ-৩.৮৩।

উক্ত বিষয়ে জটিলতা থাকায় তিন শিক্ষার্থীর সব তথ্য ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অফিস।

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন ফিনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত আফরিন (সিজিপিএ-৩.৯২),ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন জাকিউল হাসান জিহাদ (সিজিপিএ- ৩.৯০), মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন ফারজানা খানম (সিজিপিএ- ৩.৯৬)। বর্তমানে তিনি মাস্টার্স ইন ফিসারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগে অধ্যয়নরত।

অন্যদিকে সোস্যাল সায়েন্স এ্যান্ড হিউম্যানিটিস অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বাবর আহমদ (সিজিপিএ - ৩.৭৮), কৃষি অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করার রেকর্ড গড়েছেন মোছা. অনন্যা খাতুন (সিজিপিএ- ৩.৯৬)

আবার, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজা সুলতানা (সিজিপিএ - ৩.৯১) এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের রেকর্ড গড়েন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রিসাত হোসাইন ( সিজিপিএ-৩.৯৯)।

প্রধানমন্ত্রী পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোছা: অনন্যা খাতুন বলেন, '
প্রধানমন্ত্রী স্বর্নপদক পাওয়া আমার জীবনে অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। এরকম একটি মঞ্চে নিজেকে দাঁড় করাতে পারব এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্রতিনিধিত্ব করবো ভাবতেই খুব ভালো লাগছে। আমার জন্য সকলেই দোয়া করবেন যাতে দেশ ও দশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি '।


বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রিসাত হোসাইন বলেন, " ভবিষ্যতে একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে চাই। আমি এতদূর যে মানুষ গুলোর অবদানের জন্য আসতে পেরেছি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন পিতা-মাতা ও সম্মানীত শিক্ষকগণের প্রতি "।

শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো: ফজলুল হক বলেন, 'শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আমি খুবই খুশি। তাদের সাফল্য কামনা করছি। আশা করি শিক্ষার্থীরা এ ফলাফল আগামীতেও ধরে রাখবে'।

ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট এন্ড পাবলিকেশন ডিভিশনের পরিচালক মো: কামাল হোসেন বলেন, 'করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার স্বাভাবিকভাবে সব কাজে সময় বেশি লাগছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী পদকের জন্য প্রায় অধিকাংশ কাজ শেষ করেছি। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা অনুষ্ঠনটি দ্রুতই করতে পারবো বলে আশা করছি। মূলত সব কাজ শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আমরা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে চাই '।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান শুরু করে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ