SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ০২/০১/২০২২ ০৯:২৮এ এম

Open column: নিজস্ব জাতিসত্তাবোধ ও অন্যায় নয়

Open column: নিজস্ব জাতিসত্তাবোধ ও অন্যায় নয়
ad image
উমায়রা ইসলাম(এডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট)

নিজস্বতা,নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা ও ধারণ অবশ্যই স্বাতন্ত্রবোধ জাগ্রত করে। নিজস্ব জাতিসত্তাবোধ ও অন্যায় নয়,বরং এটাও অধিকার। কিন্তু জাতিসত্তাবোধ সৃষ্টিতে জোর জবরদস্তি কেন? আপনারাইতো গনতন্ত্রের পূজারী,আবার এও দাবী করেন যে ইসলাম নাকি গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এক্ষেত্রে গনমানুষের কাছে যা গ্রহনীয়, তাই তারা গ্রহণ করবে,শরীয়া প্রয়োগে ফোর্স কেন? আবার ধরেন ইসলামী শরীয়া ফোর্স করেই প্রয়োগ করা সুন্নত কখনো কখনো ফরজ। তা যদি হয়, তবে ইসলাম কিভাবে গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করলো? ইসলামের মধ্যে এত স্ববিরোধিতা কারা ঢুকালো?

পবিত্র কুরআন নিজেই বলছে;
(ক) দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই(সূরা বাকারাহ)।
(খ) বিধর্মীদের সাথে সংঘর্ষ না করতে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে (সুরা কাফিরূন)।তাদের দেব দেবীকে গালি দিওনা,আবার সেই পবিত্র কুরআন বলা আছে তাদের ধর্মের প্রতি দাওয়াত করো। আসলে এই দাওয়াতটা কেমন,একটু আক্কেল না খাটালে নিজেই স্ববিরোধিতায় জড়িয়ে পড়বেন। রাসূল মুহাম্মাদ সাঃ কি কাউকে জোর করেছিলেন, ইসলাম গ্রহণ করতে?
যুদ্ধ কি ধর্মবিশ্বাস চাপাতে হয়েছিল,নাকি রাজনৈতিক কারনে হয়েছিল?
রাসূল কি নিজে কখনো কাউকে মেরেছেন?,,,,,,,, উত্তরঃ না না এবং না।
তবে এধরনের সুন্নত প্রতিষ্ঠা হলো কেমনে? এগুলো কি আদৌ রাসুলের সুন্নত?

যারা জানেন না,তাদেরকে বলছি;
রাসুল মুহাম্মাদ সাঃ নিজেই খ্রিস্টাব্দ অনুসরণ করতেন। হিজরি সালের প্রবর্তন তিনি করেন নাই, করেছেন মহান খলিফা উমর রাঃ। তাও কোন দিন থেকে হিসাব শুরু হয়েছে?যেদিন রাসূল মদীনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন,যেদিনটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন ছিল,তিনি তাঁর জন্মভূমি হতে বিতারিত হয়েছেন। সেই দিন কাদের খুব প্রিয় দিন, জানেন? যারা তাঁকে বিতারিত করেছিল, সেই কুরাইশ সর্দার ও অভিজাতদের। ওমর রাঃ তো এদেরই একজন। কেন মক্কা বিজয়ের দিনথেকে নতুন সাল পয়দা হয়নি? কারণ ঐদিন এসব মুনাফেকদের দুঃখের দিন, যদিও রাসুলের ও রাসূলপ্রেমীদের জন্য এদিনটি খুশীর দিন, সফলতার দিন, অর্জনের দিন।

আমার নেতৃ শেখ হাসিনার দাপটে যেমন জামাত, বিএনপির অনেক সদস্য আজকাল নিজেকে আওয়ামী লীগ বলে পরিচয় দেয়,পাকিস্তানের দাপটে যেভাবে আলবদর বাহিনী তৈরি হয়েছে, মাহাতির মুহাম্মাদ এর দাপটে যেমন তার প্রতিপক্ষ সমঝোতায় এসেছিলেন, ইতিহাস সাক্ষী, আবু সুফিয়ান, উমর, ওসমানরা এভাবেই মুসলিম হয়েছিলেন। তারা না ছিলেন আনসার, না ছিলেন মুহাজির। রাসুলের পাশে তারা থাকলে রাসুলকে মদীনায় পালাতে হতোনা,এত যুদ্ধের দরকার হতোনা।

হিজরী সালের প্রবর্তন একটি বিশাল মুনাফেকির সাক্ষী। আমরা খ্রিস্টাব্দ পালন করলে ধর্ম ছুটে পালাবেনা। কিভাবে পালন করবেন এটা নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।

আর পহেলা বৈশাখ প্রবর্তন করেছে মুঘলরা, এটাও সনাতনী নয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ষড়ঋতুর সাথে মিলিয়ে বঙ্গাব্দ প্রচলন করা হয়েছে। এখানে ধর্ম খুঁজলে ভুল করবেন। সকলে ভালো থাকবেন ও অন্যদেরও ভালো রাখার দায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ