Md Tarik Hossan - (Rajshahi)
প্রকাশ ২৯/১২/২০২১ ১২:৪৩এ এম

চারঘাটে চলছে কুমড়ো বড়ি তৈরির হিড়িক

চারঘাটে চলছে কুমড়ো বড়ি তৈরির হিড়িক
ad image
দেখতে যেমন সুন্দর, খেতে তার চেয়ে বেশি সুস্বাদ। খুব সহজেই গ্রামের নারীরা তৈরি করে থাকেন। প্রায় প্রতিটি সবজি বা মাছ রান্নায় দিলে বেড়ে যায় স্বাদ। বলা হচ্ছে কুমড়ো বড়ির কথা।

শীতের শুরুতেই এ বড়ি তৈরি শুরু করেন রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং চারঘাটের নারীরা। বাণিজ্যিকভাবে বড়ি বিক্রি করেও অনেকের সংসারে আসছে স্বচ্ছলতা।

সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদানে তৈরি করা হয় এ কুমড়ো বড়ি। গাছপাকা সাদা বর্ণের চালকুমড়া কুচি কুচি করে কাটতে হয়, অনেকে কুড়ে কুড়েও তোলেন।

তারপরে কলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে সেটা বেটে, চালকুমড়া আর কলায়ের ডাল একসঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে ভালো করে মথে (মাখা) বাঁশের চাটাইয়ের ওপরে ছোট ছোট করে বড়ি বিছিয়ে দেওয়া হয়। তারপর দুই-তিন দিন ভালো করে রোদে শুকালেই খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায় সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি।
শীতের আভাস আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের নারীরা বড়ি তৈরি করে থাকেন। সেটা পুরো শীতকাল জুড়েই বিভিন্ন সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয়।
জেলার চারঘাট উপজেলার ফরিদপুর এলাকার মুসলিমা আক্তার প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি কুমড়ো বড়ি তৈরি করেছেন।

তিনি বলেন, শীত আসলেই শীতের জন্য আমরা মজাদার চালকুমড়ার বড়ি তৈরি করি। শীতকালীন সবজির সঙ্গে এ বড়ি রান্না করলে পরিবারের সবাই খুব পছন্দ করে। আলু, বেগুন মাছ আর পালং শাকের সঙ্গে কুমড়ো বড়ি খেতে খুব ভালো লাগে।

বড়ি তৈরি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুসলিমা আক্তার বলেন, শীতের শুরুতেই পাকা চালকুমড়া আমরা কুড়ে নেই। তারপর কাঁচা কলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে বেটে ময়দা মাখানোর মতো করি। খোলা পুকুরে কিংবা নদীর পানিতে ভালো করে সেটা ধুয়ে নিই, যাতে বড়িটার রং ধবধবে সাদা হয়। টিউবওয়েলের পানিতে ধুলে বড়িটা লালচে হয়ে যায়। কুমড়া আর কলাইয়ের ডাল যদি ভালো করে মেশানো না হয়, তাহলে সেটার স্বাদ কমে যায় এবং রান্না হতে দেরি হয়। বাঁশের মইয়ের ওপরে চাটাই বিছিয়ে তার ওপরে ডাল আর কুমড়ার মিশ্রন ছোট ছোট বড়ির মতো করে বসিয়ে রোদে শুকাতে দেই। তারপর তিন-চার দিন রোদে শুকালেই তৈরি হয়ে এ কুমড়ো বড়ি।

সরদহ মাঠপাড়া গ্রামের এক গৃহিণী বলেন বলেন, প্রায় প্রতিটি সবজির সঙ্গেই রান্না করা যায় এ কুমড়ো বড়ি। শীতে উৎসবের আমেজে আমরা বড়ি তৈরি করি। সাধারণত বড়িতে কুমড়ার চেয়ে ডালের পরিমাণ বেশি হলে স্বাদ বেশি হয়। একটা মাঝারি সাইজের কুমড়ার সঙ্গে দুই কেজি কলাই দিলে ভালো হয়।

যারা বাড়িতে বড়ি তৈরি করেন না, তারা শীতে বাজার থেকে এসব বড়ি কিনে থাকেন। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশ ভালো।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ