রফিকুল ইসলাম - (Joypurhat)
প্রকাশ ২৭/১২/২০২১ ০১:২৯এ এম

Plum cultivation: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি কালাইয়ে বাণিজ্যিক ভাবে বরই চাষ করছে নূর

Plum cultivation: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি কালাইয়ে বাণিজ্যিক ভাবে বরই চাষ করছে নূর
ad image
বরেন্দ অঞ্চল হিসেবে খ্যাতি এবং ধান ও আলুর উৎপাদনের জন্য জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা বিখ্যাত প্রাচীনকাল থেকেই। তবে নতুন ভাবে ও নতুন করে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক ভাবে বরই চাষের সম্ভবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন উপজেলার ঝামুটপুর গ্রামের শিক্ষিত তরুণ নূর ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সময় যেন কাটছিল না নুরের। সহপাঠী-বন্ধুরা যখন অলস সময় পার করছিলেন, তখন তিনি বাড়িতে এসে পড়ালেখার পাশাপাশি বরই চাষে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তিনি নিজস্ব উদ্যেগে তিন বিঘা বন্যামুক্ত উচু জমিতে উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই ও উন্নত জাতের বিদেশী বল সুন্দরী, কাশ্মীরী বরই চাষ করেন।

ইতমধ্যে তার নিবেদিত শ্রম,সততা আর ঘামের প্রতিফলন সুরভিত হয়ে তার বাগান থেকে কাঙ্খিত বরই বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি শুরু করেছেন। কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বরই উৎপাদন করায় তিনি ফল ও দামও ভলো পাচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, কালাই সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার উত্তর দিকে উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের ঝামুটপুর গ্রাম। সেই গ্রামের পাকা রাস্তার সংলগ্ন শিক্ষিত তরুণ বরই চাষি নূর ইসলাম “সখের বরই বাগান” নামে প্রায় তিন বিঘা বন্যামূক্ত উচু জমির উপর বাণিজ্যিক ভাবে উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই ও উন্নত জাতের বিদেশী বল সুন্দরী, কাশ্মীরী বরই চাষ করেছেন।

এই ফলের বাগানে গত ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে কলমের উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই গাছ প্রায় ৫০টি ও উন্নত জাতের বিদেশী বল সুন্দরী বরই গাছ প্রায় তিনশটি, কাশ্মীরী বরই গাছ প্রায় ৫০টি চারা রোপোন করেন। তার নিবেদিত শ্রমে ও ঘামে প্রতিফলন সুরভিত হয়ে বাগানে বর্তমান কাঙ্খিত বরইগুলো বড় হয়ে গাছে গাছে বাতাসে বাতাসে ঝুলছে।

তার বাগানে এখন ভরপুর ফল এসেছে। তার বাগানের যেদিকে চোখ যাচ্ছে বরইয়ের দৃশ্য। এছাড়ও তার বাগানে গোল্ডেন-৮ জাতের পেয়ারা একশটি, উন্নত জাতের বারি মাল্টা একশটি, সিডলেস লেবু ১০০ টি ও উন্নত জাতের পেঁপে একশটি গাছ রয়েছে।

বর্তমান তিনি বাণিজ্যিক ভাবে উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই প্রায় ৩০হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আর ঐ বরই আগামী জানুয়ারী মাস পর্যন্ত বিক্রি হবে। আর উন্নত জাতের বিদেশী বল সুন্দরী বরই ও কাশ্মীরী বরই বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি শুরু হবে আগামী ফেব্রæয়ারি মাস থেকে। অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্চার কারণে তার বাগানে বরই বাম্পার ফলন হয়েছে। তার এই “সখের বরই বাগান” এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন এলাকার কৃষক, বৃক্ষপ্রেমি ও ফল চাষিরা আসেন। ওই দৃষ্টি নন্দীত বরই বাগান এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

উপজেলার ঝামুটপুর গ্রামের সফল বরই চাষি নূর ইসলাম বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমার সময় কাটছিল না। তখন আমি গ্রামের বাড়িতে এসে কি করা যায় সে চিন্তায় ছিলাম। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বরই উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারে বরই ভালো দাম থাকার কারণে নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম বরই চাষ করবো।

ইউটিউবে বিভিন্ন বরই চাষের উদ্যোক্তা বিষয়ক ভিডিও দেখার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা নিয়ে সরাসরি কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর বরই বাগান পরিদর্শন করে মনের মধ্যে ইচ্ছে জাগে বাগান করার। আমার পড়ালেখার খরচের টাকা থেকে কিছু বাচিয়ে ও বাবার কাছ থেকে বাকি টাকা ধার নিয়ে বাড়ির পাসে উঁচু জমিতে তেমন কোন ফসল উৎপাদন হতো না, সেখানে প্রায় তিন বিঘা জমিতে গত ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে বরইয়ের বাগান তৈরী করি।

পরে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর এর একটি বাগান থেকে কলমের উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই গাছ প্রায় ৫০টি ও উন্নত জাতের বিদেশী বল সুন্দরী বরই গাছ প্রায় তিনশটি, কাশ্মীরী বরই গাছ প্রায় ৫০টি চারা এনে রোপন করি। বাগানটি সরাসরি নিজেই তদারকি করছি। এই বাগানটি করতে মোট খরচ হয় প্রায় ৮০হাজার টাকা। আমার বাগানে এখন ভরপুর ফল এসেছে। ইতোমধ্যে উন্নত জাতের দেশী আগাম টক বরই প্রায় ৩০হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এবরই আগামী জানুয়ারী মাস পর্যন্ত বিক্রি হবে।

আগামী ফেব্রæয়ারি মাস থেকে বল সুন্দর বরই ৩শ টি গাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা এবং কাশ্মীরী বরই গাছ প্রায় ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ফলন পাবো বলে আশা করছি। এছাড়া বরই গাছের পাশাপাশি এই বাগানে গোল্ডেন-৮ জাতের পেয়ারা একশটি, বারি মাল্টা একশটি, সিডলেস লেবু ১শ টি ও উন্নত জাতের পেঁপে একশটি গাছ রয়েছে।

আশা বাদি আগামী এপ্রিল-মে মাস থেকে গোল্ডেন-৮ জাতের পেয়ারার একশটি গাছ থেকে প্রায় ৪০হাজার টাকা, উন্নত জাতের বারি মাল্টা একশটি গাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা এবং বিদেশী সিডলেস জাতের লেবু ১শ টি গাছ থেকে প্রায় ২০হাজার টাকার ফলন পাবো। এ বাগান থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।

সেখানে নূরের বরই বাগান দেখতে আসা মুনিরুল ইসলাম স্বপন ও এনামুল হক জানান, শিক্ষিত তরুণ নূর ইসলাম-এর বরই বাগান এলাকাতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার বয়সে অনেক ছেলেরা অকারনে ঘোড়া-ঘুড়ি করে সময় কাটায়। নূর বরই বাগান করেছে শুনে তার বাগন দেখার জন্য তারা এসেছেন। আগামীতে এধরণে বরই বাগান করবেন বলে তারা জানান।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, এই এলাকার কৃষকেরা ধান ও আলুর চাষ করতে বেশী অগ্রহী হয়। ঐসব চাষাবাদ ছাড়াও অনেক ধরনে ফল বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করে আধিক লাভবান হওয়া যায়, এলাকার কৃষকেরা তা বুঝতে চাইনা। তবে তরুণ নূর ইসলাম বরই বাগান করায় আমরা খুশি। তার বরইয়ের বাগানের পাশাপাশি তিনি মিশ্র বাগান হিসাবে পেয়ারা, মাল্টা, লেবু ও পেঁপের গাছও রোপণ করেন। আমরা তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছি। এছাড়াও নিয়মিত তার বাগানের খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি, তার বাগান নিয়মিত পরিচর্যা করেন, তাহলে সময়মতো ভালো ফলন পাবেন এবং দামও ভালো পাবেন। সেই সঙ্গে তিনি আর্থিক ভাবে অনেক লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ