Motior Rahman Sumon - (Mymensingh)
প্রকাশ ২৫/১২/২০২১ ১১:১১পি এম

গল্প- হাসিমুখ-লেখক এম. আর. সুমন

গল্প- হাসিমুখ-লেখক এম. আর. সুমন
ad image
তখন মধ্য দুপুর, আকাশে কিঞ্চিৎ মেঘ করেছে, বৃষ্টি হবে কি হবেনা নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছেনা। এ বুঝি শ্রাবণ মাসের নৈমিত্তিক ঘটনা।হুঠহাঠ আকাশকোণে মেঘ জমে।এই দেখাগেল সকাল থেকে প্রচণ্ড রোদ, হঠাৎ মধ্য দুপুরে ঝুমবৃষ্টি। মানুষের জীবনের উত্থান পতনের মত কখন কার কী হয় কিছুই বলা যায়না।

গতকালকের পত্রিকায় দেখলাম বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহেদ সাহেব করোনার মিথ্যে সার্টিফিকেট বিক্রি করার অভিযোগে গ্রেফতার, উনার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে জালিয়াতের আরো অনেক অভিযোগ। সমাজসেবার আড়ালে সমাজদ্রোহী, সাহেদ আজ আকাশ থেকে মাটিতে, সাহেব থেকে ঘৃণারপাত্রে।

সুমনের মনটা আজ ভালো নেই। সামনে আসছে কুরবানির ইদ, চারমাস যাবত ঘরে বসা, হাতে নেই কোন টাকা পয়সা। চারপাশে করোনার বিষাদ। দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষের আজ কী যে দুর্দশা। এর মাঝেও শুনতে হয় ত্রাণের মাল হয়ে যায় লুট, করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রিতে চলছে রমরমা ব্যবসা।
গত তিনদিন ছিল একটানা বৃষ্টি। একদিকে করোনায় মানুষ গৃহবন্দি, অন্যদিকে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র-পদ্মা-যমুনার পাড়ের মানুষ বন্যায় কবলিত।
সুমনের স্বেচ্ছাসেবী মনটা ভিষণ কাঁদে। হঠাত তার মাথায় আসে "হাসিমুখ"(স্বেচ্ছাসেবী)সংগঠনের কথা। সবাই মিলে কাজ করলে অনেক বড় দুর্যোগও মোকাবেলা করা যায় এক নিমিষে। হাসিমুখের তরুণ সব স্বেচ্ছাসেবিদের যৌথ উদ্যোগে, সম্মানিত স্যারদের এবং সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগিতায় তাদের সমর্থ হয় জামালপুরের একটি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে কিছুদিনের কষ্ট লাঘব করতে। অন্যান্য অঞ্চল গুলোতে কী হবে? সুমন আনমনেই ভাবতে থাকে প্রত্যেকটি অঞ্চলে অঞ্চলে যদি হাসিমুখের মত স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন গড়ে উঠত, যারা যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াবে, কতই না ভালো হত।
ভাবতে ভাবতেই মাথার পাশে রাখা ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠে।
নেত্রকোনা থেকে বন্ধু হারুন ফোন দিয়েছে।ওদের বাড়িঘর সব পানিতে তলিয়ে গেছে।সুমনের খুব লজ্জা হল। তার নিজেরই উচিত ছিল ফোন দিয়ে বন্যার্ত অঞ্চলে বসবাসরত বন্ধুদের খোঁজ খবর নেওয়া।

একবার সুমন ভার্সিটির বন্ধুদের নিয়ে নেত্রকোনার চিনামাটির পাহাড় দেখতে গিয়েছিলো। সেই সুযোগে হারুনদের বাসাতেও গিয়েছিলো সেদিন। হারুনদের বাসার পাশেই একটা এতিমখানা আছে। সেখানে প্রায় ১৫০জন ছাত্রের আবাস। হারুনদের বাসা পানিতে তলিয়ে গিয়েছে তাহলে এতিমখানাটাও নিশ্চয়..না সুমন ভাবতে পারছেনা। কী করতে পারে সে?সে মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান, মন আছে কিন্তু সাধ্য কোথায়।
সুমনের বাবা বাইরে থেকে ডাকতেছে- কইরে সুমন সারাদিন কী করস? ষাঁড় টারে কিছু ঘাস কেটে দে। বাজার থেকে আনার পর গোরুটা এখন পর্যন্ত কিচ্ছু খায়নাই।
আচমকা সুমনের ভাবনায় আসল দেশের এই দুঃসময়ে ইদ টা বন্যার্ত অসহায় মানুষদের সাথে করলে কেমন হয়।
অনেক অনিয়ে বিনিয়ে বাবাকে রাজি করাল সে।ইদের আগেরদিন ষাঁড় নিয়ে সুমন এবং তার বাবা চলে গেলেন নেত্রকোনার সেই এতিমখানায়। বন্ধু হারুণ এবং তার প্রতিবেশিদের সাথে নিয়ে এতিমখানার অসহায় শিশুদের সঙ্গে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি হবে।
এক সাথে নামাজ আদায় করে, গোরু কুরবানি দেওয়া হল।এতিম বাচ্চাদের নিয়ে গোস্ত কেটে রান্না করে খাওয়া হল। এমন আনন্দ এত ভালো লাগা আর কোনো দিন কাজ করেনি সুমনের।

আজ বৃদ্ধ বয়সে এসেও বাচ্চাদের সেই হাসিমাখা মুখ গুলো চোখের সামনে ভাসে। সত্তর বছরের এই জীবনে শ্রেষ্ঠ ইদ ছিল সেটিই। আজ তারুণ্য নেই, তবে মনটা তরুণদের মতই ছুটে চলে অসহায় মানুষের জন্য। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে সুমন সাহেব ভাবছেন সেদিনটির কথা।

আজ ১৪ ই শ্রাবণ, মধ্যদুপুরে আকাশে কিঞ্চিৎ মেঘ করেছে।
সুমন সাহেবের জানাজার নামাজ পড়ালেন এতিম শিশুদের একজন যে আজ দেশের নামকরা প্রখ্যাত বক্তা।

সৃষ্টি হোক মনুষ্যত্বের, জাগ্রত হোক বিবেক, ইদ হোক সকলের সাথে আনন্দের, কুরবানি ফিরিয়ে আনবে অসহায় এতিম শিশুদের হাসিমুখ।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ

MD hedaetul Islam - (Sirajganj)
প্রকাশ ২৭/০২/২০২২ ০৪:৫৫পি এম
MD hedaetul Islam - (Sirajganj)
প্রকাশ ০১/০৩/২০২২ ০৪:৪৩পি এম