SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ২৫/১২/২০২১ ০৪:১৫এ এম

Mobile Technology: নিরাপত্তার দিক দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নাকি ইমো এগিয়ে?

Mobile Technology: নিরাপত্তার দিক দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নাকি ইমো এগিয়ে?
ad image
হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার সংক্ষেপে হোয়াটসঅ্যাপ সর্বাধিক জনপ্রিয় মেসেজিং এপ ও ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল পরিষেবা । প্রায় ৫ বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে এই এপস-টির যা বর্তমানকালের সমধর্মী অন্য কোনো এপস-এর থেকে বেশি।

বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনে এই মেসেঞ্জার ব্যবহার করা যায়। শুধু চ্যাটই নয়, এ মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছবি আদান-প্রদান, ভিডিও ও অডিও মিডিয়া বার্তাও আদান-প্রদান করা যায়। মেসেঞ্জারটি অ্যাপলের আইওএস, ব্ল্যাকবেরি, অ্যান্ড্রয়েড, সিমবিয়ান ও উইন্ডোজ ফোনে ব্যবহার করা যায়।

ব্যবহারকারীর ফোনে থাকা ফোন নম্বর তালিকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর সিংকক্রোনাইজ করে নেয়। ফলে আলাদা করে আইডি যোগ করার প্রয়োজন হয় না। স্মার্টফোনে বিনা মূল্যে ব্যবহারের উপযোগী মেসেঞ্জারটিতে ব্যক্তিগত হালনাগাদ, ব্যবহারকারী যেখান থেকে চ্যাট করছেন সে এলাকা, গ্রুপ তৈরি, গ্রুপের জন্য আলাদা আইকন তৈরি করা যায়। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটিতে ভিডিও কল সুবিধা চালু রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এর হিসাব অনুযায়ী ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫০ কোটিরও অধিক।

২০০৯ সালে ইয়াহুর সাবেক কর্মী ব্রায়ান অ্যাক্টন ও জান কউম মিলে হোয়াটসঅ্যাপ তৈরি করেন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৫ জন কর্মী রয়েছেন। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ কেনার সময় ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ জানান,প্রতিদিন ১০ লাখ এর অধিক মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ডাউনলোড করছেন এবং এই অ্যাপটির ৪৫ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছেন।

ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপ রেটিংঃ- দুইটিই মেসেজিং অ্যাপ হলেও দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। প্লে স্টোরে ইমো অ্যাপটির রেটিং ৩.৯,যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এর রেটিং ৪.৩। 
ইন্টারফেসঃ- মেসেজিং অ্যাপ হওয়া সত্বেও ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ এর ইন্টারফেস এর মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। ইমো’র ইউজার ইন্টারফেস কিছুটা জটিল, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এর ইউজার ইন্টারফেস অপেক্ষাকৃত সরল।

হোয়াটসঅ্যাপ এর প্রতিটি ফিচার অপেক্ষাকৃত গোছানো এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। ইমোর ইন্টারফেস একটু অগোছালো ধরনের হওয়ায় ফিচারগুলো খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয় ব্যবহারকারীদের।ইমো অ্যাপে এখন পর্যন্ত কোনো ডার্ক মোড নেই, তবে হোয়াটসঅ্যাপ বেশ কয়েক মাস আগেই ডার্ক মোড চালু করেছে।
মেসেজিং ও কলিংঃ-
টেক্সট মেসেজিং এর পাশাপাশি অডিও কলিং ও ভিডিও কলিং এর ফিচার আছে উভয় অ্যাপেই। ইমোতে যখন কেউ আপনাকে মেসেজ করতে যাবে, তখন মেসেজ লেখার সময় ওই ব্যাক্তি কি লিখছে সেটিও আপনি রিয়েল টাইমে দেখতে পারবেন। এটি একটি মজার ফিচার বলা যেতে পারে। তবে আপনি চাইলে প্রাইভেসি সেটিংস থেকে এই ফিচারটি বন্ধ রাখতে পারেন।

উভয় অ্যাপের কল কোয়ালিটিই ভাল। তবে স্লো ইন্টারনেটেও ইমো’র কল পারফর্মেন্স অপেক্ষাকৃত ভাল। এজন্যই বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জেও অনেকেই ধীরগতির ইন্টারনেটে অডিও-ভিডিও কল করার জন্য ইমো অ্যাপটি বেছে নেন।

এক্টিভ স্ট্যাটাসঃ-হোয়াটসঅ্যাপ এ চাইলে আপনি লাস্ট সিন স্ট্যাটাস হাইড করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি লাস্ট কবে হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন ছিলেন, সেটা চাইলেই গোপন করতে পারবেন। তবে আপনি এই ফিচারটি ব্যবহার করেন, অন্যদের লাস্ট সিন স্ট্যাটাস ও আপনি দেখতে পারবেন না। অন্যদিকে ইমো অ্যাপ এ থাকছেনা এই লাস্ট সিন গোপন করার ফিচারটি।

কন্টাক্ট এডিংঃ ইমোর সবচেয়ে বিরক্তিকর একটি বিষয় হল এটি যেকেউ চাইলে আপনাকে কন্টাক্ট লিস্টে এড করে মেসেজ করতে পারে। এই ফিচার এর কারণে অপরিচিত মানুষের মেসেজ দ্বারা লাঞ্চিত হন অনেকেই। তবে ভালো ব্যাপার হল হোয়াটসঅ্যাপ এ এই ধরনের কোনো ফিচার নেই। হোয়াটসঅ্যাপে কন্টাক্ট লিস্টে না থাকা কোনো ব্যাক্তি মেসেজ করলে তা ফিল্টার হয়ে আসে এবং আলাদাভাবে দেখায়।

লোকেশন শেয়ারিংঃ- ইমো অ্যাপে ব্যবহারকারী তার লোকেশন অন্যজনের সাথে শেয়ার করতে পারেনা। তবে হোয়াটসঅ্যাপ এ এই সুবিধাটি বিদ্যমান। আপনার হোয়াটসঅ্যাপ কন্টাক্ট এর সাথে শেয়ার করতে পারবেন আপনার বর্তমান লোকেশন।

ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপঃ-ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপঃ-দুইটি অ্যাপেই গ্রুপ তৈরী করার ফিচার রয়েছে। অর্থাৎ চাইলেই আপনার সব বন্ধুদের এক গ্রুপে নিয়ে এসে আড্ডা মারতে পারবেন। এমনকি ভিডিও কিংবা অডিও কলে কথাও বলতে পারবেন সবাই একসাথে। কিন্তু ইমোতে আপনাকে যে কেউ বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত করে বিরক্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয়।
ফাইল শেয়ারিংঃ-হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ফাইল,যেমন;ডকুমেন্ট, ভিডিও, মিউজিক ইত্যাদি পাঠানো সম্ভব। তবে ইমো অ্যাপ এ এত সুবিধা থাকছেনা। ইমোতে টেক্সট এর পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও পাঠানো সম্ভব।
অ্যাড ও নোটিফিকেশনঃ-হোয়াটসঅ্যাপ সম্পূর্ণ অ্যাড মুক্ত একটি মেসেজিং অ্যাপ। অন্যদিকে ইমো অ্যাপ অ্যাড শো করে। অ্যাপ এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিরক্তিকর নোটিফিকেশনও প্রদান করে ইমো। ইমো অ্যাপে দেখানো এসব অশোভন বিজ্ঞাপন ও নোটিফিকেশনের জন্য অনেকেই এই অ্যাপটিকে অপছন্দ করেন। এইজন্য হয়ত অ্যাপ স্টোরগুলোতে অ্যাপটির রেটিং অপেক্ষাকৃত কমের দিকে।

হোয়াটসঅ্যাপ এর নিরাপত্তায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন:- হোয়াটসঅ্যাপ এ মেসেজগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা যেসব মেসেজ পাঠায়, সেগুলো শুধু তাদের মধ্যেও আসা যাওয়া করে। হোয়াটসঅ্যাপ কতৃপক্ষ কোনো মেসেজ দেখতে পায়না। ইমোর এন্ড্রয়েড অ্যাপ লিস্টিংয়ে এনক্রিপশনের কথা বলা নেই। তবে আইফোন ভার্সনের জন্য এনক্রিপশন থাকার কথা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে বলা আছে।
অ্যাপের ভাষা:-বর্তমানে ৩৩টি ভাষায় ব্যবহার করা যায় হোয়াটসঅ্যাপ। অন্যদিকে ইমো ও ব্যবহার করা যায় ৩৩টি ভাষায়।

ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রাইভেসি:-
হোয়াটসঅ্যাপ এ আপনার প্রাইভেসির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকে। তবে ইমোতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রাইভেসির উপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখেননা। ইমো কতৃপক্ষও এই ব্যাপারটি দেখাশোনা করে। এছাড়া ইমো ইউজাররা অনেক অযাচিত মেসেজ ইনভাইটেশন পেয়ে থাকেন যা অনেকেই তাদের প্রাইভেসির জন্য হুমকি হিসেবে মনে করেন। অপরদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এসব অভিযোগ থেকে অনেকটাই মুক্ত।
পারসোনালাইজেশনঃ-হোয়াটসঅ্যাপ এর অনেকগুলো ফিচারই আপনি নিজের মত করে কাষ্টমাইজ নিতে পারবেন। চ্যাট কালার থেকে শুরু করে চ্যাট ওয়ালপেপার পর্যন্ত সেট করা সম্ভব হোয়াটসঅ্যাপে। তবে এইদিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে ইমো। ইমোতে কাস্টমাইজেশন এর তেমন একটা সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ মূল ডিজাইনই ইমোর ইউজারদের শেষ ভরসা।

WhatsApp-এ নিরাপত্তা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ডিএনএ-তে রয়েছে প্রথম থেকেই WhatsApp কতৃপক্ষ তৈরি করেছে সহজে ও নিরাপদভাবে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে,প্রাকৃতির দূর্যোগেরসময়ে জরুরি তথ্য শেয়ার করতে,বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করতে বা আরও ভাল জীবনের উদ্দেশ্যে। আপনি WhatsApp-এর মাধ্যমে আপনার অত্যন্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যের সাথে শেয়ার করেন,এজন্য হোয়াটসঅ্যাপ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন তৈরি করেছে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড থাকলে আপনার মেসেজ, ফটো, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ, ডকুমেন্ট ও কল ক্ষতির হাত থেকে নিরাপদ থাকবে,এমনকি কেউ সহজে হ্যাক করতেও পারবেনা।

নিয়ন্ত্রণ আপনারই হাতেঃ-আপনার মেসেজের ক্ষেত্রে কি ঘটছে সে বিষয়ে আপনি অবহিত আছেন কিনা WhatsApp তা নিশ্চিত হতে চায়। আপনি যদি কোনও ব্যক্তি বা বিজনেসের কাছ থেকে মেসেজ গ্রহণ করতে না চান, তাহলে আপনি যেকোনও সময় তাদেরকে সরাসরি চ্যাট থেকে ব্লক করে দিতে পারবেন অথবা নিজের পরিচিতি তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপ চায় যে কীভাবে আপনার মেসেজ পরিচালনা করা হচ্ছে সেটি আপনি জানুন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনার কাছে প্রয়োজনীয় বিকল্পগুলি থাকুক।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ