Sifat Al Saad
প্রকাশ ১৫/১২/২০২১ ১১:০৫পি এম
পঞ্চাশের বাংলাদেশের গল্পটা সংগ্রামের তবে একই সাথে সফলতারও। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জন্ম নেয়া দেশটা পৃথিবীর বুকে বিস্ময়। রপ্তানি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সকল সামাজিক সূচকে উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামোর বিস্তারে নতুন এক বাংলাদেশকে চিনেছে বিশ্ব। বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর ৩৭তম বৃহত্তম অর্থনীতি, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে ২,৫৫৪ মার্কিন ডলারে। কোভিড সংকটের মাঝেও বার্ষিক রপ্তানি আয় বেড়ে হয়েছে ৩৮.৭৫বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উপরের অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যুরো অব এডুকেশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স এর তথ্য অনুযায়ী এ মুহূর্তে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ কোটি, শিক্ষক রয়েছেন ১ কোটির বেশি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ লক্ষ। ফলে এটি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি শিক্ষাব্যবস্থা।

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি-২০১৯ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করার হার ৮২.১০ শতাংশ যেখানে এখন ৯৯.৭৫ শতাংশ ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ১৯৭৪ সালে শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল মাত্র ৩.৪ শতাংশ। এই বাধা ভাঙতে বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। একইসাথে, তৈরি পোশাক এবং কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো ক্ষেত্রগুলো, যেগুলোতে নারীরা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে - সেইসকল খাতগুলোতে তাদের দক্ষতা আরো বৃদ্ধির সাথে সাথে বেশি বেশি কাজে লাগানোর প্রয়াসও অব্যাহত রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো আছে বাস্তবায়নের পথে। বিজয়ের ৫০ বছরে দেশের সবাই যাতে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সুবিধা উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে চালু হয়েছে ফাইভজি সেবা। সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

বিজয় এসেছিলো বাংলার আপামর জনতার বুকের রক্তের বিনিময়ে, বিজয়ে ছিলো না কোনো বিভাজন। আসুন বিজয়ের এই অসাম্প্রদায়িকতা আমরা ধারণ করি হৃদয়ে আর পূর্ণতা দেই আমাদের বিজয়কে।দেশকে দূর্নীতিমুক্ত করার নতুন শপথ নিয়ে জীবনে স্বচ্ছতা নিয়ে আসি।
বিজয়ের সুবর্ন জয়ন্তীতে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

লেখাঃ সিফাত আল সাদ
ইংরেজি বিভাগ,
বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি,
কুমিল্লা সেনানিবাস

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ