সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১
MD Ariful Islam Shahin - (Dhaka)
প্রকাশ ২৪/১১/২০২১ ১১:৪৭এ এম

Air pollution: সাভারে বেড়েই চলেছে বায়ু দূষণের মাত্রা

Air pollution: সাভারে বেড়েই চলেছে বায়ু দূষণের মাত্রা
সাভার- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। সাভার বাংলাদেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ন উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি। জনসংখ্যা অত্যধিক বেশি হওয়ায় দিন দিন এই অঞ্চল ক্রমাগত দুষিত ও বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়ছে। সাভারে জনসংখ্যা ১৫ লক্ষাধিক।

প্রচুর গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান থাকায় পরিবেশও দুষিত হচ্ছে দ্রুত। এছাড়াও রয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং রাস্তার ধুলোবালি। অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া এবং ধূলোবালির কারণে সামাজিক জনজীবন দূর্বিস্বহ হয়ে পড়েছে। জনমানুষ রাস্তা-ঘাটে বের হলে শ্বাসকষ্ট সহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।শিল্প- কলকারখানার বর্জ্য এবং গাড়ির কালো ধোয়ার কারনে সাভারের বায়ু অতি দ্রুত দূষিত হচ্ছে।

সাভারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধীরে ধীরে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে, মহাসড়কের দু'পাশে ময়লা ফেলা নিষেধ থাকলেও কিছু অসাধু মানুষ তা মানছেন না। সাভার জিরানী বাজার থেকে শুরু করে সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত লক্ষ্য করে দেখা গেছে - রাস্তার দু'পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে ক্ষতিকর মশা মাছি উৎপন্ন হওয়া সহ এসকল ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং বায়ু দূষিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জনসাধারনের সাথে কথোপকথন হলে তারা অভিযোগ করে বলেন বর্তমানে খুব কষ্টসাধ্যে এই শহরে বসবাস করছেন। তারা বলেন ধীরে ধীরে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে, রাস্তাঘাট যাতায়াতের জন্য অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে, দূষিত বায়ুর কারণে প্রতিনিয়তই শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্কুল কলেজে যাতায়াতরত ছাত্র-ছাত্রীরাও রয়েছে স্বাস্থ্য জটিলতায়।

রাস্তার ধুলোবালি এবং বায়ু দূষিত হওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এরকম বৈরী পরিবেশে বের হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জনসাধারণেরা এসব সমস্যার সমাধান না পাওয়়ায় তারা হতাশাগ্রস্থ।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মোঃ সায়েমুল হুদা জানান, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, লেড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও প্রলম্বিত বস্তু কণার কারণে বায়ুদূষিত হয়।বায়ুদুষণের ফলে মানুষের শ্বাসযন্ত্র, হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া বাযুদূষণ মাতৃগর্ভে ভ্রূণের ক্ষতিসাধনসহ শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকাশ ব্যাহত করে।

স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ বিবেচনায় বায়ুমান মানমাত্রার পরিমাণ শূন্য থেকে ৫০ হলে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মধ্যম, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সাবধানতা/সতর্কীকরণ, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর ও ৩০১ থেকে ৫০০ পর্যন্ত অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
বায়ুমানের হিসাবে সাভারের স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের স্থান সাবধানতা/সতর্কীকরণ লেবেলে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন- মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পরিবেশ রক্ষার্থে সরকার ও জনসাধারণ সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ সহ সচেতনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল গনি আইনিউজবিডি-কে জানান জনসচেতনতা তৈরির জন্য আমরা নানারকম কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিন তৈরি করাসহ যে সকল খোলা স্থানে ময়লা ফেলা হতো সে সকল স্থানে ময়লা না ফেলানোর জন্য নির্দেশক্রমক সাইনবোর্ড /ব্যানার লাগানো হয়েছে। সাভারের পরিবেশের ভারসাম্য এবং সমৃদ্ধতা বজায় রাখার জন্য আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি।

সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, ফোন রিসিভ না হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো মতামত জানা যায়নি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ