Md. Tariqul Islam( - (Jhenaidah))
প্রকাশ ২১/১১/২০২১ ০৬:৩০এ এম
মতিন সাহেব একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা (চীফ ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে চাকুরী করেছেন বিভিন্ন প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে। করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই গৃহবন্দি ছিলেন। এরই মধ্যে অবসরে গিয়ে নাতি-নাতনীদের নিয়ে সময় কাটান।

হেমন্তের আসন্ন শীতের সকালে বাসার ছাদে সবাই রোদ পোহাচ্ছে। মতিন সাহেব তখন গল্প শুরু করলেন। চাকুরী জীবনে কোথায় কোথায় থেকেছেন, কি কি কাজ করতেন সেসব নিয়ে গল্প শুনতে মশগুল সবাই। তখন নাতি-নাতনীরা (লুনা, লিকু, মিশু ও শিমু) জানতে চাইলো তাদের দাদু কোন ধরনের যন্ত্র নিয়ে কাজ করতেন।

মতিন সাহেব জবাব দিলেন, “আমি বিভিন্ন ধরনের কম্প্রেসর নিয়ে কাজ করেছি। আমরা প্রতিটি কাজ টিম নিয়ে করতাম। আমার নির্দেশনায় সহযোগীরা সুন্দর করে যন্ত্রপাতি পরিচালনা করতো।”
তখন লুনা বললো, “আচ্ছা দাদু, কম্প্রেসর কি? আমাদের দেখাও না”

মতিন সাহেব বলেন, “কম্প্রেসর এমন একটি মেকানিক্যাল ডিভাইস যা বর্ধিত চাপ সৃষ্টি করে কোন বায়ু কিংবা তরল ও গ্যাসীয় পদার্থকে স্বল্প আয়তনে নিয়ে আসে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের কম্প্রেসর ব্যবহার করি।” এরপর মতিন সাহেব কিছু যন্ত্রপাতি দেখালেন...।

লিকু বললো, “আচ্ছা দাদু, আমরা কি কি কম্প্রেসর ব্যবহার করি ?”
মতিন সাহেব জবাব দিলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি রেসিপ্রোকেটিং কম্প্রেসর। এছাড়াও সেন্ট্রিফিউগ্যাল কম্প্রেসর, রোটারি কম্প্রেসর বিভিন্ন কাজে লাগে। রেসিপ্রোকেটিং কম্প্রেসর কাজ করে পিস্টনের সাহায্যে, সেন্ট্রিফিউগ্যাল কম্প্রেসর কাজ করে ইমপেলারের সাহায্যে আর রোটারি কম্প্রেসর কাজ করে পিস্টন জাতীয় রোটরের সাহায্যে”।

মিশু বললো, “দাদু, রেসিপ্রোকেটিং কম্প্রেসর আমরা বেশি ব্যবহার করি আর এটি কাজ করে পিস্টনের সাহায্যে। তাহলে পিস্টন কিভাবে কাজ করে আমাদের বোঝাও না”।
তখন মতিন সাহেব সবার মনোযোগ আকর্ষন করে বলতে লাগলেন, “পিস্টন হচ্ছে রেসিপ্রোকেটিং ইঞ্জিন, রেসিপ্রোকেটিং পাম্প, গ্যাস কম্প্রেসার, হাইড্রোলিক সিলিন্ডার এবং একই ধরনের কাজ করা যন্ত্রগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিস্টনের অবস্থান সিলিন্ডারের ভেতরে এবং পিস্টন রিং এর সাহায্যে এটি বায়ুরোধী করা হয়। ইঞ্জিনের মধ্যে এটার কাজ হচ্ছে, সিলিন্ডারের মধ্যে প্রসারণশীল গ্যাস হতে পিস্টন রড এবং কানেক্টিং রডের মাধ্যমে ক্রাংক শ্যাফট-এ বল প্রদান করা। পাম্পের মধ্যে এর ফাংশন পুরোপুরি উল্টো। পাম্প-এ ক্রাংক শ্যাফট থেকে পিস্টনে বল প্রদান করে সিলিন্ডারের ভেতরের ফ্লুইডকে চাপ প্রদান করে বের করে দেওয়া হয়। আবার কিছু কিছু ইঞ্জিনে পিস্টনকে ভালভ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সোজা কথায় বলতে গেলে পিস্টন এমন একটি মেকানিক্যাল ডিভাইস যা অনেক মেশিনের ও ইঞ্জিনের কর্ম সম্পাদন করতে ব্যবহার করা হয়।”

মতিন সাহেবের কথা শেষ হলে সবাই একটু দম নিলো। তারপর শিমু বললো, “আচ্ছা দাদু, তুমি বললে সিলিন্ডারের ভেতরে পিস্টন রিং এর সাহায্যে বায়ুরোধী করতে হয়। তাহলে বায়ুরোধী করতে কি কি পিস্টন রিং ব্যবহার করা হয়?”

মতিন সাহেব বললেন, “তাহলে শোন, দুই ধরণের পিস্টন রিং ব্যবহার হয়। সেগুলো হলো কম্প্রেশন রিং আর অয়েল রিং। কম্প্রেশন রিং কম্বাশন চেম্বার হতে কম্প্রেশন লিকেজে বাধা দেয় আর অয়েল রিং পিস্টনের মুভমেন্ট যেন সুষমভাবে হয় তার জন্য অয়েল রিং এর মাধ্যমে অয়েল ফিল্ম তৈরি করা হয়।” মতিন সাহেব আরও বলতে লাগলেন, “পিস্টন সাধারণত এক ধরনের এ্যালুমিনিয়াম এলয় দিয়ে তৈরি করা হয়। এ্যালুমিনিয়াম হালকা ধাতু এবং তাপ সুপরিবাহী পদার্থ। এছাড়া ঘনত্ব কম, উচ্চ রিলায়াবিলিটি এবং পুনঃব্যবহার যোগ্য বলে পিস্টন তৈরি করতে এ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যবহার করা হয়।”

পিস্টনের গল্প বলতে বলতে রোদ বাড়তে লাগলো। নাতি-নাতনীরা মতিন সাহেবের কাছে গল্প শুনে মুগ্ধ হলো। তারাও দাদুর মতো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রতিজ্ঞা করলো। এরপর স্কুলে যাবে বলে সবাই প্রস্তুতি নিতে চলে গেলো। মতিন সাহেবও নাতি-নাতনীদে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলে বিদায় জানালেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ