Ali Ashraf - (Rajshahi)
প্রকাশ ২০/১১/২০২১ ০১:০৬এ এম

Politeness: ভদ্রতার মাঝে অভদ্রতার স্বভাব থাকাটা কি খারাপ

Politeness: ভদ্রতার মাঝে অভদ্রতার স্বভাব থাকাটা কি খারাপ
ad image
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নিতান্তই ভদ্র। যাদের এই অতিমাত্রায় ভদ্রতার সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ নির-অপরাধ বা যোগ্য ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে বাধ্য করে। আবার কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ, ভদ্রতা মুখোশ পড়ে আছে।

যারা অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার, অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েও অতিমাত্রায় ভদ্র মানুষের সাহায্যে নিজেকে আড়াল করে রাখছে। যা থেকে সাধারণ মানুষ তার অধিকার, ন্যায়-বিচার অন্যান্য অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হয়। এজন্য সমাজে ভদ্রতার মাঝে অভদ্র হওয়া আবশ্যক।

ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা তুলে দৃশ্যমান করা যাক

আমি যেহেতু খেলাধুলা পছন্দ করি, তাই খেলার মাঠের ঘটনা দিয়ে সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বর্ণনা করব। রাজনৈতিক আলোচনাগুলো দৃশ্যমান করব না।

ক্রিকেটারদের দাবিঃ

সাকিব আল হাসান বলেন, "ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ম্যাচ ফি হওয়া উচিৎ এক লাখ, স্যালারি ৫০ শতাংশ বাড়তি প্রয়োজন।"

তিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং আবাসন ভাতা বাড়ানোরও দাবি জানান। বিবিসি নিউজ বাংলা

ক্রিকেটারদের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা দাবিগুলো তুলে ধরার মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন সাকিব আল হাসান এটা কি অভদ্রতা?


ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি আসলেই অভদ্র খেলোয়াড়?

ফুটবল বিশ্বে সি আর সেভেন খ্যাত পর্তুগিজ ফুটবলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০০৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ও নানান দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোতে পায়ের জাদু দেখিয়ে যাচ্ছে। ২০০৪ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়। ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১৪ বার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।


যা শুনে যেকোনো ফুটবলপ্রেমী বলতেই পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একজন অভদ্র খেলোয়াড়। রোনালদোর ফুটবল খেলার কোন যোগ্যতা নেই। আসলেই কি তাই? আসলেই কি রোনালদো যৌক্তিকভাবে ১৪ বার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বের হতে হয়েছে।

রোনালদোর যে প্রথম লাল কার্ড লাল কার্ড এস্টন ভিলা বনাম ম্যানইউ ম্যাচে প্রথমে যে হলুদ কার্ড দেখেন সেখানে আপনি দেখবেন রোনালদো আসলে কোন দোষ করেনি এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ড দেখেন সেখানে দেখবেন ডি-বক্সের ভিতর রেফারি অফ সাইডের বাশি দেওয়ার পরও বল জালে পাঠালে রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখান আসলে তিনি এরকম অন্যায়েরও প্রতিবাদ করেনি।

এটা রোনালদোর দূর্বলতা বলবেন? তৃতীয় যে লাল কার্ড দেখেন সেখানে খেয়াল করলে দেখবেন কর্নার কিক নিয়েছিল ম্যানইউ সেই সময় বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় হঠাৎই জার্সি টেনে ধরলে রোনালদো প্রতিবাদ করে ফলে একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয় রেফারি এসে রোনালদোকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেয়। সেই প্রতিবাদের কারণে কি রোনালদোকে লাল কার্ড দেখতে হয়, না দোষ শতভাগ ছিল? এসব করলে যদি অভদ্রতা হয় তাহলে বলতে হয়, "দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তাহলে দাগই ভালো।"

আবাহনী বনাম মোহামেডান ম্যাচে সাকিবঃ

পঞ্চম ওভারে সাকিবের করা বল ঠিক মতো ব্যাটে বলে করতে পারেনি মুশফিকুর রহিম। সরাসরি মুশফিকের প্যাডে আঘাত করে বল। সঙ্গে সঙ্গে এলবির আবেদন করেন সাকিবসহ অন্যান্য ক্রিকেটাররা। খালি চোখে দেখে আউটই মনে হয়েছিল। কিন্তু সাকিবদের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সাড়া না পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে স্টাম্পে লাথি মেরে বসেন মোহামেডানের অধিনায়ক সাকিব।

এরপর আম্পায়ার ইমরান পারভেজের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সতীর্থরা তাকে শান্ত করে পরিস্থিতি সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে আবাহনীর সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে ২১ রান। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই আম্পায়ার গ্রাউন্ডসম্যানদের ডেকে বসেন।

ঐ সময় মিডঅফে ছিলেন সাকিব আল হাসান। মুহূর্তের মধ্যে দৌড়ে এসে তিনটি স্টাম্প তুলে আছাড় মারেন মোহামেডান অধিনায়ক। আম্পায়ারের সঙ্গে ফের তর্কে জড়িয়ে যান তিনি। আবাহনীর ড্রেসিং রুমের দিকে গিয়েও কিছু বলতে দেখা যায়। সাকিবের কাহিনী দেখে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদও সাকিবের দিকে তেড়ে আসেন। তাকে গিয়ে শান্ত করেন মোহামেডান ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ। সতীর্থরা এসে শান্ত করেন সাকিবকে। তাহলে সিউর এলবির আবেদন ও বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই গ্রাউন্ডসম্যানদের ডেকে খেলা বন্ধ করে দেওয়া যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়। তবে এরকম অভদ্র সাকিব ঘরে ঘরে জন্ম নিলে স্বজনপ্রীতি হয়তো সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব হবে।

মাশরাফির ২০১১ এর বিশ্বকাপঃ

ফিজিও'র ভুলে ২০১১ বিশ্বকাপ মিস করায় সেই রেকর্ডটি করতে পারেননি। দেশের মাটিতে একমাত্র বিশ্বকাপও মিস করেছেন। ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ায় একাডেমী মাঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। তামিমের ফেসবুক লাইভ আড্ডায় ফিজিও'র সেই ভুলের কথাই জানিয়েছেন মাশরাফি।

২০১১ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মাটিতে হবে। বাংলাদেশের হয়ে খেলব। এই স্বপ্ন ছিল। বিশ্বকাপের ক'দিন আগে ইনজুরিতে পড়লাম। লিগামেন্ট পুরোপুরি ছিড়ে যায়নি। শ্রীলংকায় তখন ছিলেন ডা. ডেভিড ইয়াং,তার কাছে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি রিক্স নিয়ে খেলতে পার। তবে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। আমি তার পরও রাজি হচ্ছিলাম। যখন ডেভিড ইয়াং রিপোর্টটা পাঠিয়েছিল আমাদের তখনকার ফিজিও মাইকেল হেনরির কাছে। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ও যেটা লিখে পাঠায় তখন পুরো মেইলটা ওর (হেনরি) কাছে আসেনি। মেইলটা যখন আসছে রিড মোর অপশন থাকে সে ঐ অপশনে সে যায়নি। ও উপরেরটুকু দেখেই ওটা নির্বাচকদের কাছে লিখে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর আমি ডাক্তারের (ডেভিড ইয়াং) সাথে ফোনে কথা বলি যে, তুমি তো বললা অপশনটা আমার হাতে। আমি খেলতে পারব, তবে খেলতে গিয়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে পুরো দায়ভার আমার। সেখানে মেইলে এমন কিছু আসেনি কেন?ডেভিড ইংয়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট পুরোটা না পড়েই ফিজিও মাইকেল হেনরি সেটা নির্বাচকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি পুরোটা পড়ে যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে বলেছিল, নাহ, আমি তো পুরোটাই লিখে পাঠিয়েছি। তখন আমি হেনরিকে বললাম, তুমি মেইল চেক করে দেখো। পরে আমি যেটা দেখলাম, সে (হেনরি) আর নিচে যে রিড মোর অপশন থাকে, সেখানে যায়নি। প্রথমটুকু পড়েই নির্বাচকদের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। এরপর সে আমাকে সরি বলেছে। ওর সঙ্গে তখন আর ঝামেলা করে তো লাভ নেই। সেদিনের কান্নাই কি মাশরাফির নিরব প্রতিবাদ ছিল? সেদিন মাশরাফি যদি প্রতিবাদ করতেন তাহলে তিনি অভদ্র হয়ে যেতেন। না, মাশরাফি সোচ্চার হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ হতে পারত! সূত্রঃ নিউজ জি ২৪

জিদান ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডঃ

২০০৬ বিশ্বকাপের কথা শুনলে ফাইনালে জিদান ও মাতেরাজ্জির ঘটনা ছোখ আড়াল করতে পারবেন না। ইতালির মাতেরাজ্জির সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর এগিয়ে গিয়ে তাঁর বুকে ঢুঁসো মেরেছিলেন জিনেদিন জিদান। তারপর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ফরাসি তারকা।

২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিস্মিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। ইতালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমাটা পেলেও এই ঘটনার জন্য মানুষ ধিক্কার দিতে এক সেকেন্ডও চিন্তা করবে না।

মাতেরাজ্জি বলেছন, ‘‌মনে বড় আঘাত পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করুন, এই ধরনের কথা আমি কখনও বলতে চাইনি। তারপর কখনও বলিওনি। জিদানকে আটকাতে না পারার জন্য গাটুসোর থেকে ধমক খাচ্ছিলাম। তাই জিদানকে আটকাতে শার্ট ধরে বেশ কয়েকবার টানাটানি করি। ভেবেছিলাম ঠান্ডা মাথায় জিদান খেলে যাবে। কিন্তু আমার ফাঁদে যে পা দেবে তা ভাবিনি। একবার শার্ট ধরে টানায় আমাকে বলে বসল, তুমি কি আমার শার্টটা নিতে চাইছ? আমি মাথা গরম করে বলে বসি, তোমার শার্ট নয়, চাইছি তোমার বোনকে।’‌

ইতালিয়ান মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি মাতেরাজ্জির। তবে মাতেরাজ্জি পরে স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, ‘‌ঝামেলা হোক চাইছিলাম। প্রত্যেকে চায় প্রতিপক্ষকে হারাতে। শান্ত থাকার কথা সকলেই বলে। কিন্তু করে দেখানোর কাজটা সত্যিই কঠিন। ম্যাচের পরে সকলে জয়ের আনন্দে ভেসে গিয়েছিলাম। সেবার আমাদের দলটার কথা ভাবুন। পিরলো, গাটুসোর মতো ফুটবলার দলে ছিল। পিরলোকে খুব শান্ত মনে হয়। আসলে প্রচন্ড বুদ্ধিমান।’‌

তবে মাতেরাজ্জিকে এখনও আঘাত করে স্টেডিয়ামে দর্শকদের আচরণ। তাঁর কথায়, ‘‌বহুবার দেখেছি স্টেডিয়ামে আমাকে ও বালোতেলিকে নিয়ে প্রচুর গালিগালাজ চলে। কখনও আমাকে ডাকা হয়েছে ডাইনির ছেলে। কেন? নাপোলির কাউকে বললে দেখবেন ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যাবে। এরকম ঘটনায় রেফারিরা শক্ত হতে পারতেন।’‌ সূত্রঃ দৈনিক আজকাল

একটা বিষয় একজন খেলোয়াড় এক ওভারে কতগুলো বল করেন? উত্তর ৬ টি ওয়াইড নো বলসহ ভারি জোর ৮-৯টি বল করেন ঠিক আছে। কিন্তু একজন বোলার ৯ বল করে কিভাবে ৬৯ রান দিতে পারে। এটা কি সম্ভব পাড়ার ক্রিকেটেও কখনও হয়েছে আমার জানা নেই তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ডিভিশন লিগে হয়েছিল বেশ কিছু বছর আগে।

আমাদের দেশের প্রতিটি সমাজে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কি প্রতিটি ক্ষেত্রে এরকম কিছু অঙ্গসংগঠনের নেতারা স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ বা সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য এমন প্যানেল তৈরি করে যেখানে ন্যায় বলে কিছু থাকে না। সকল অন্যায়গুলো ন্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। যার ফলে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুব-সমাজ বা সঠিক পরিচর্যা না পেয়ে ঝড়ে যাচ্ছে আমাদের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

আলী আশরাফ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
aliashrafashu23@gmail.com

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ