শান্ মুক্তাদির আল আমিন হোসেন - (Dhaka)
প্রকাশ ১৪/১১/২০২১ ০৬:৩৩এ এম

Asaduzzaman Kamal: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ছুটে গেলেন এক আবেগময় শিশুর বাসায়

Asaduzzaman Kamal: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ছুটে গেলেন এক আবেগময় শিশুর বাসায়
ad image
শাহ্ শেখ আলফ-ই-সিয়াম। বয়স সাত বছর। রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন সোনালীবাগ এলাকার চাঁন বেকারী গলিতে যুদ্ধাহত মুক্তিযাদ্ধা নানা, একমাত্র বড় ভাই ও মা-বাবা’র সাথে থাকে।

রমনা এলাকায় অবস্থিত সেন্ট মেরি ইনটারন্যাশনাল স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড টু’তে পড়ে সিয়াম। প্রতিদিন বাবা’র হাত ধরে পায়ে হেটে স্কুলে যায়। সিয়ামের বাবা ছেলেকে স্কুলে দিয়ে স্কুলের বাইরে অপেক্ষায় থাকেন কখন ছুটি হবে ছেলের স্কুল। স্কুল ছুটি হলে আবার বাবার হাত ধরে পায়ে হেটে বাসায় ফেরে সিয়াম।

সিয়ামের বাবা শেখ মোহাম্মদ খায়রুজজামান পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ছেলেকে স্কুল থেকে বাসায় দিয়েই বেরিয়ে পড়েন প্রতিদিন। জীবিকার তাগিদে। মগবাজার এলাকায় তার ক্ষুদ্র ব্যবসা।
সামান্য উপার্জনেই পাঁচ সদস্যের সংসার চলে তার। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা।

তবে মাগরিবের আযান হওয়ার পর এক মিনিটও তাকে আর দোকানে রাখা যাবে না। সমস্ত ব্যবসা-পত্র গুটিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

আর্থিক অনটনে ছেলের জন্য গৃহ-শিক্ষক দিতে পারেন নি। তবে নিজের যে সামান্য পড়াশুনা, তার সবটুকু উজার করে নিজেই পড়ান সিয়ামকে। নিজে না বুঝলে, সিয়ামকে ক্লাসে দিয়ে তার শিক্ষকের কাছে বুঝে নেন। তারপর ছেলেকে বুঝিয়ে দেন।

শত টানাটানির মাঝেও ছেলেকে বুঝতে দেন নি অভাব। দামী দামী খেলনা বা পোশাক দিতে না পারলেও সিয়ামকে টিফিনে’র জন্য সাধ্যমতো টাকা দিতে চেষ্টা করেন তিনি।

অভাবের কারণে নিজে বেশিদূর পড়তে না পারলেও তার স্বপ্ন- ‘ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে হাল ধরবে সংসারের। থাকবে না কোন অভাব অনটন’।

সিয়াম বরাবরই পড়াশোনায় ভালো। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, বক্তৃতা, শারীরিক কসরত ও অভিনয়েও সে ক্লাসের সেরা। বংগবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন অবিকল বংগবন্ধুর স্টাইল ও বাচনভংগিতে শুনিয়ে বিমুগ্ধ করে দর্শক শ্রোতাদেরকে।

অবসরে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস সিয়ামের।প্রতিদিন পত্রিকা কেনার সামর্থ নেই তাদের। বাবার ব্যবসার জন্য ওজন দরে কেনা পুরাতন পত্রিকাই পড়ে সে।

আট-নয় মাস আগে একটি সংবাদ শিরোনামে চোখ আটকে যায় তার। সংবাদের বিষয় বসতু ছিল: বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্ন-সমর্পন। সেই পত্রিকায় ছাপানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে বাবা-মা’র কাছে তাঁর সম্পর্কে জানতে চায় সিয়াম।

তার মা জানায়, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল হলেন বাংলার সেই সিপাহসালার যিনি সমগ্র দেশকে চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জলদস্যু, জঙ্গী, মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করেন’।

সেই থেকে শুরু। ছোট্র সিয়ামের মনের সবটুকু জায়গা দখল করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পত্র-পত্রিকায় তাঁর কোন সংবাদ বা ছবি দেখামাত্রই তা কেটে সংরক্ষণ করতে শুরু করে সিয়াম।
মা’র কাছে সিয়াম আবদার করে একটি মাটির ব্যাংক কিনে দেওয়ার জন্য। তার মা মাটির ব্যাংক কিনে দেন।

প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় বাবা টিফিনের জন্য যে টাকা দিতো সিয়ামকে, সেই টাকা খরচ না করে সে গোপনে জমাতে শুরু করে মাটির ব্যাংকে। উদ্দেশ্য যদি কখনো দেখা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজজামান খাঁন কামালের সাথে, তাহলে মাটির ব্যাংকে জমানো সমস্ত টাকা তাঁকে দিয়ে দিবে সিয়াম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল যাতে নিজের প্রয়োজনে ওর জমানো টাকা খরচ করতে পারেন।

স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে সিয়ামকে নিয়ে কোথাও বের না হলেও ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে সিয়ামকে নিয়ে ঘুরতে বের হন তার মা-বাবা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো। সিয়ামের সেই পরিচিত মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মাইকে ভেসে আসছে তাঁর নাম। মানুষের মুখে মুখে তাঁর নাম।

আট-নয় মাস থেকে পত্রিকায় ছাপানো যাঁর সংবাদ ও ছবি কেটে সংরক্ষণ করে বাসায় ছোট্র যাদুঘর বানিয়েছে সিয়াম। স্কুলের টিফিনে টাকা খরচ না করে মাটির ব্যাংকে জমিয়েছে যাঁকে দেওয়ার জন্য।

সিয়াম মা-বাবার কাছে বায়না ধরে বিজয় দিবসে কোথাও গেলে সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকেই দেখতে যাবে। অন্য কোথাও নয়।

সিয়াম ভাবে পোস্টার ছাপানো, মাইকিং এসবের জন্য তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টাকা দরকার। মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা তাঁকে দেওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

মা-বাবাকে জানায় মাটির ব্যাংকে জমানো টাকাসহ সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে দেখা করবে। অন্যথায় কোথাও যাবে না, কিছু খাবেও না।

ছেলের জিদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন মা-বাবা।

বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলা বন্ধ করে দেয় সিয়াম। নিরুপায় মা-বাবা এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিবেশীদের সাথে।

নিজের প্রতি সাত বছর বয়সী সিয়ামের এই নিষ্পাপ ভালোবাসার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানতে পারেন পরদিন। সোনালীবাগ এলাকার লোকজনের মুখে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।তাৎক্ষনিকভাবে তিনি ছুটে যান সিয়ামের বাসায়। হাতিরঝিল থানাধীন সোনালীবাগ এলাকার চাঁন বেকারী গলিতে।

নিজেদের ছোট্র বাসায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন সিয়ামের মা-বাবা। আট-নয় মাস ধরে টিফিনে জন্য বাবার দেওয়া টাকায় টিফিনটা করে মাটির ব্যাংকে জমিয়েছে যে মানুষটিকে দেওয়ার জন্য, সেই মানুষটি আজ সিয়ামের সামনে। তাদের ছোট্র বাসায় অগোছালো কক্ষে।

পরম স্নেহে সিয়ামকে কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি। সিয়ামের হাতে দেন চকোলেট ও বিভিন্ন গিফট।

মাটির ব্যাংকটি সিয়াম তুলে দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে। পরম যত্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাতে নেন তাঁর প্রতি সাত বছর বয়সী সিয়ামের নিষ্পাপ ভালোবাসার এই মাটির ব্যাংকটিকে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ