বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২৫/১০/২০২১ ০৫:২৭পি এম

Pasta: আজ বিশ্ব পাস্তা দিবস

Pasta: আজ বিশ্ব পাস্তা দিবস
পাস্তা নামটি আসে দুরুম গমের ময়দা থেকে তৈরি ‘প্যাস্টি’ নাম থেকে। পুরো বিশ্বেই জনপ্রিয় খাবার পাস্তা । এটি জার্মানি ও হাঙ্গেরির অন্যতম প্রধান খাবার । পাস্তার উৎপত্তি ইতালি থেকেই ।

তবে উত্তর ইতালিতে খামির বানাতে ময়দা ও ডিম ব্যবহৃত হয়। আবার দক্ষিণ ইতালিতে ব্যবহৃত হয় উৎকৃষ্ট মানের সুজি, পানির মিশ্রণ। ইতালির সবচেয়ে ভালো মানের পাস্তা তৈরি হয় এমিলিয়া রোম্যাগনা অঞ্চলে।

বিশ্বে ২০০টির বেশি ভিন্ন আকৃতির পাস্তা রয়েছে। পাস্তা মূলত দুই প্রকার। শুকনো ও তাজা। শুকনো পাস্তা বাজার থেকেই কেনা হয়, তাজা পাস্তা ঘরেই তৈরি করা হয়। ইতালি ভাষা আলদান্তের অর্থ হলো রান্নার পর বেশি শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না। চিবানোর সময় একটু শক্ত লাগবে বা কচকচ করে চিবানো যাবে।

ফলে পাস্তা হজম হতে সময় নেয়, সেই সঙ্গে পেটও ভরা থাকে অনেকক্ষণ। ম্যাকারনি, স্প্যাগেটি, মিলিনি, রাফিওলি, রিগাটনি বিভিন্ন রকম শুকনা পাস্তা আলদান্তে করে খাওয়া যায়।

ঘরে তৈরি পাস্তার প্রণালি হলো ময়দার সঙ্গে ডিম মিশিয়ে খামির তৈরি করে বিভিন্ন আকারে তৈরি করে সেদ্ধ করা হয়। এই তাজা পাস্তা শুকনা পাস্তার চেয়ে কোমল ও অর্ধেক সময়ে তৈরি হয়।

একেক রকম পাস্তার ব্যবহার একেক রকমের হয়ে থাকে। সাধারণত পাস্তা তিনভাবে রান্না হয়ে থাকে। প্রথম পদ্ধতিতে পাস্তা আসকিটা বা পাস্তসিচুটা সস কিংবা মসলার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। আকার, আকৃতি ও ওজন অনুসারে একেক রকম পাস্তা একেক রকম সসের সঙ্গে জুটি বাঁধে।

কিছু পাস্তা আছে, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু সসের সঙ্গে খেতে ভালো লাগে। বড়, চ্যাপ্টা কিংবা নলাকার আকৃতির পাস্তা সাদা সসের সঙ্গে খেতে ভালো লাগে। সাদা সস তৈরি করতে লাগে মাখন, ময়দা, দুধ আর সাদা গোলমরিচের গুঁড়া। টমেটো সসের সঙ্গে ভালো লাগে কাপুন্তি (ফাঁকা মটরশুঁটির খোসার মতো)।

স্প্যাগেটি (নুডলসের মতো লম্বা তবে ভারী), ম্যাকারনি, ক্যাজারেচ্চে (ইংরেজি এস আকৃতির), ক্যাভাতেল্লি (খেজুরের বিচির মতো), সেনসিওনি (পাপড়ির মতো), কনচিগ্লি (সামুদ্রিক শামুকের খোলের মতো) এই আকারের পাস্তাগুলো টমেটো সসের সঙ্গে খেতে ভালো লাগে।

সেই সঙ্গে দিতে পারেন মাশরুম, সসেজ, বেকন, পালংশাক, মুরগি কিংবা সবজি। পাস্তা সস তৈরি করতে লাগে টমেটো পেস্ট, জলপাই তেল, পেঁয়াজ, রসুন, অরিগানো, কালো গোলমরিচের গুঁড়া। পাস্তার আকার ভারী হলে ঘন সস আর পাস্তার আকার পাতলা হলে পাতলা সস পাস্তার স্বাদ সঠিক রাখে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ব্রোডেতে পাস্তা যা স্যুপের মতো তৈরি করা হয়। ছোট আকারের পাস্তা যেমন অরজো, বুকো, র‌্যাভিওলি, রোটিনি, টর্টেলিনি প্রভৃতি এই রকম পাস্তাগুলো এ পদ্ধতিতে খেতে ভালো লাগে। যেসব পাস্তা ঘরে তৈরি হয়, সে রকম পাস্তাগুলোই স্যুপের মতো খেতে বেশি মজা।

চিকেন কিমার পুরে ডাম্পলিঙের মতো ছোট ছোট পাস্তার স্যুপ খেতে দারুণ লাগে। তৃতীয় পদ্ধতিতে আল ফোরনো যা একটি বেকিং ডিশে ছড়িয়ে মসলা, চিজ ও সসের মিশ্রণে বেক করা হয়। রিগাটোনি, ফুসিলি, ক্যাভাতাপিস লাসানিয়া, জিটি এ ধরনের পাস্তাগুলো এ পদ্ধতিতে খাওয়া হয়।

এ ছাড়া পাস্তা সালাদ হিসেবেও খাওয়া হয়। এতে সেদ্ধ পাস্তার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন রকম সালাদ-সবজি, যেমন শসা, টমেটো, সবুজ মটর, জলপাই টুকরা আর সঙ্গে থাকে জলপাই তেল, বেসিল, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা। প্রতিদিন পাস্তা খেলে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয়।

সেই সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের পর্যাপ্ত উৎসের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এই পাস্তা তাই ভাতের বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*