Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ২২/১০/২০২১ ০৬:১৬পি এম

Open column: স্পষ্টভাষী হ'তে পারিনা কেন

Open column: স্পষ্টভাষী হ'তে পারিনা  কেন
আসল সত্যকে গোপন করে- মিথ্যাকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে লোক সমাজে উপস্থাপিত করার পর - সমাজে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় - সেই মিথ্যা উচ্চারণের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করাটাকেই " উচিত কথা " বলে আমরা অভিহিত করি। আমরা যতটুকু জানি - তার চেয়ে বেশী নিজকে জাহির করতে অথবা পাণ্ডিত্য দেখাতে চেষ্টা করি ।

আমাদের চারিপাশে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পৈত্রিক প্রভাব এবং বংশীয় প্রভাব দেখিয়ে স্হানীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে হউক আর সামাজিক কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেই হউক, নিজের মতামতের পক্ষে বিপক্ষে মিথ্যা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করি ।

এতে ন্যায় - অন্যায়ের বাছ- বিচার করি না। ফলাফলে যে জটিলতার সৃষ্টি হয় তাতে সমাজে দুই পক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিভাজন সৃষ্টি হয়। আমরা কখনো ভাবি না - আমাদের অতীত কেমন ছিল ? আমাদের নীতি নৈতিকতার চরিত্র কেমন ছিলো ?

সেটা না ভেবে , বর্তমানে আমাদের অবস্থান কতটুকু হাইফাই - কতটা চাকচিক্যপূর্ন - সেটাই প্রকাশ করতে বেশী আগ্রহী হয়ে পড়ি। এতে সুশীল সমাজের সভ্য মানুষরা লজ্জিত হন । মতামত প্রদানে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে দ্বিধাবিভক্তি হয়ে যান।

প্রয়োজন মাফিক পরস্পরের মধ্যে কোন যৌক্তিক আলোচনা না করে নিশ্চুপ থেকে - দূরে দাড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করেন । তাদের এই নীরবতা ঐসব " সবজান্তা শমসের " মার্কা পণ্ডিতদের অপকর্ম করতে উত্সাহিত করে ।

তেমনি এক জটিল পরিস্থিতিতে একজন বড়ভাইকে জিগ্যেস করেছিলাম - আপনারা যদি সঠিক সময়ে সত্য কথা বা উচিত কথা তুলে ধরতেন তবে এই সাংঘর্ষিক সমস্যার সৃষ্টি হতো না ।

তিনি আমার প্রশ্নের উত্তরে বল্লেন ---

" আগে বাবা মা'র কাছ থেকে শিখেছি মিথ্যাচার করলে পাপ হয় - বড়দের সাথে মুখে মুখে তর্ক করলে গুনাহ্ হয় আর এখন সমাজের কাছ থেকে শিখেছি সত্য বললে - উচিত কথা বল্লে নিজের বিপদ হয় সমাজের চলাফেরায় অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়।

অতএব এ কারণে, আমি কেন উপযাচক হয়ে তোমার জন্য বিপদে পড়তে যাবো ? আমার একটা সঠিক সাহসী উচ্চারণ তোমাকে সুবিধা করে দিবে। তুমি পার পেয়ে যাবে। আমার লাভটা কী ? আমিই কেনইবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে যাবো ?

আমার বিপদের সময় তোমাকে ডাকলেতো পাওয়াই যাবে না "। সুতরাং চুপচাপ থাকা ছাড়া আমার কী আর কিছু করার থাকতে পারে ?

কথাগুলো শুনে মর্মাহত হলাম , ভেবে দেখলাম আসলেই বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে কথাগুলো বাস্তবতায় সত্য । যেখানে একজন মানুষ সত্য বল্লে তাকে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে ঝামেলা পোহাতে হয় ! সেখানে ইতিবাচক কথায় সমাজের চলাফেরায় কতটুকু নিরাপত্তা বহন করে ?

বছর ত্রিশ আগের সমাজ ব্যবস্থা আর এখনকার সামাজিক রীতিনীতির ব্যবস্থা বিস্তর ফারাক রয়েছে । আর্তসামাজিক স্তরে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটলেও নীতি-নৈতিকতার প্রচুর অবক্ষয় ঘটেছে । সৃষ্টি হয়েছে অন্যায় চাহিদা। এই চাহিদা যে যার মত করে আদায় করছে। কেউ কিছু বলার দায়িত্ব নেই।

এভাবে যদি সুশীল সমাজের জ্ঞানী ব্যক্তিরা অপ্রীতিকর ,অন্যায়ের বিরুদ্ধে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সোচ্চার না হন একসময় দেখা যাবে বুদ্ধিজীবিদের সমাজে কোনঠাসা হয়ে গেছেন।

মিথ্যার জয়জয়কারে সকল অনিয়মের বেড়াজালে সামাজিক ভাবে বিবেকের প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঘটছে। অসহায়ত্বের কবলে এই প্রজন্ম দিশেহারা হতে হবে বৈকি ?

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*