Abir Ahmed Hamid - (Rangpur)
প্রকাশ ২০/১০/২০২১ ০৩:৪৯পি এম

Payra Bridge: দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতু খুলছে আগামী রবিবার

Payra Bridge: দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতু  খুলছে আগামী রবিবার
স্বপ্নের পায়রা সেতু (লেবুখালী ব্রীজ) অবশেষে আগামী ২৪ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে। রবিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদা স্বাক্ষরিত পত্রসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পায়রা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের (পাগলায়) টোল প্লাজায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিভাগীয়, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনে ব্যস্ত।

২০১৩ সালের ১৯ মার্চ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধন করেন। কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভ্লপমেন্ট (কেএফএইডি), ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভ্লপমেন্ট (ওএফআইডি) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগে ২০১৬ সালে ২৪ জুলাই সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে লেবুখালীস্থ পায়রা নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ৪’শ ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থের এ ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১ হাজার ৪’শ ৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লনজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রীজ কনস্ট্রাকশন দীর্ঘ ৫ বছর ৩ মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজের পর এটি দেশের দ্বিতীয়তম ব্রীজ। যা এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল সিস্টেমে তৈরি করা। ক্যাবল দিয়ে দু’পাশে সংযুক্ত করায় নদীর মাঝখানে একটি মাত্র পিলার ব্যবহার করা হয়েছে । খরস্রোতা পায়রা নদীর দক্ষিণ প্রান্তে ব্রিজের দু’পাশে নদীশাসনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো এ সেতুতে যুক্ত হয়েছে হেল্থ মনিটরিং ও পিয়ার প্রোটেকশন সিস্টেম। ফলে সব ধরনের মাত্রাতিরিক্ত ভারী যান সেতুতে উঠলে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম থেকে সিগ্ন্যাল পাওয়া যাবে। একই ভাবে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সিস্টেম সিগন্যাল দিবে। কোনো কিছুর ধাক্কা থেকে রক্ষায় পিলারের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা পিলার। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে সেতুর স্থায়ীত্ব এতে বৃদ্ধি পাবে। পুরো সেতু সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় অর্ধকোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। লেবুখালীতে পায়রা নদী পারাপারে যাত্রীদের আর দূর্ভোগ পোহাতে হবে না। স্বল্প সময়ে দ্রæতবেগে ব্রীজ পার হয়ে যানবাহন
পৌঁছবে গন্তব্যস্থলে। ব্রিজটি যানচলাচলে উন্মুক্ত হলে পটুয়াখালী-বরগুনা জেলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সৃষ্টি হবে। ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের (এনএইচ-৮) ১৯২ কিলোমিটার এবং বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটারে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ চালু হল। খুলে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সম্ভাবনার দ্বার। পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সারাদেশের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হল।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*