Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২০/১০/২০২১ ০৬:৩৮এ এম

Chin pain on the left side of the chest: বুকের বাম পাশে চিন চিন ব্যাথা! হার্টের অসুখ নাকি অন্যকিছু?

Chin pain on the left side of the chest: বুকের বাম পাশে চিন চিন ব্যাথা! হার্টের অসুখ নাকি অন্যকিছু?
ব্যস্ততা বাড়ছে। কাজের চাপের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে চাপা টেনশন। মাঝে মধ্যেই অনুভব করছেন বুকে ব্যথা। তবে বুকে ব্যথা মানেই যে হার্টের সমস্যা-এমনটা কিন্তু মনে করার কোনো কারণ নেই।

মানসিক চাপের কারণেও হতে পারে বুকের ব্যথা। ঋতুস্রাবের আগে কিংবা ভারি কিছু ওঠানোর কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। আবার প্রচণ্ড ভয় কিংবা মানসিক অস্বস্তি থেকেও এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। কীভাবে বুঝবেন আপনার ব্যথার ভাষা?

আসুন জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কী কী কারণে হতে পারে বুকে ব্যথা :

১. অতিরিক্ত ভয় পেলে : প্রচণ্ড ভয় পাওয়ার পর বুকের ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার কারণটা নিঃসন্দেহে মানসিক। চিকিৎসকদের মতে, একজন রোগী প্রচণ্ড বুকে ব্যথা নিয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে তার বুকে ব্যথার পেছনের হৃদযন্ত্রের কোনো ভূমিকা নেই।

২. ভার্টিগো প্রবণতা থাকলে : মানসিক কারণ থেকে হওয়া বুক ব্যথার উপসর্গগুলো ভয় পাওয়ার উপসর্গের সঙ্গে মিলে যায়, যেমন–বুক ব্যথার সঙ্গে রোগীর প্রচণ্ড ঘাম হবে, শরীরে কাঁপুনি দেখা দেবে, দম আটকে যাওয়ার জোগার হবে। আর দেখা দিতে পারে পেটের গোলমাল, বমিভাব, শারীরিক ভারসাম্য হারানো ইত্যাদি।

৩. মানসিক কারণে হওয়া বুক ব্যথা বুকেই অনুভূত হয় : ভয় বা মানসিক চাপ থেকে হওয়া ব্যথা বুকে শুরু হয় এবং তা যতক্ষণ স্থায়ী হয় ততক্ষণ একই স্থানে অনুভুত হয়। তবে হৃদরোগজনীত ব্যথা শুরু হয় বুকে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন-চোয়াল, কাঁধ, হাত ইত্যাদি।

৪. বুকের অনান্য জায়গায় ব্যথা : হৃদযন্ত্র থাকে শরীরের বাম পাশে। তাই হৃদরোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেওয়া ব্যথা বাম পাশেই অনুভুত হয়। কালেভদ্রে বুকের মাঝখানেও ব্যথা হতে দেখা গেছে। তবে বুকের অন্য যেকোনো অংশে ব্যথা হলে তার নেপথ্যের কারণটা মানসিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বুকের বাম পাশে ব্যাথার কারণ-

বুকের বাম পাশে ব্যাথার অনেক কারণ রয়েছে, তার মধ্যে খুব সাধারণ চারটা কারণ উল্লেখযোগ্য যেমন-

১. IHD বা হার্টের রক্তনালিতে চর্বি জমাজনিত কারণ

২. হার্ট অ্যাটাক

৩. প্যানিক অ্যাটাক

৪. গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটি সমস্যা

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ যেভাবে বুঝবেন-

সাধারণত আমরা হৃদরোগ বলতে যা বুঝি, তা মূলত ইশকেমিক হার্ট ডিজিজকেই বুঝাই। এই রোগে হার্টের মধ্যে যে রক্তনালিগুলি আছে তাতে চর্বি জমে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় তাই ব্যাথা অনুভব হয়।

সাধারণত এই রোগ ৪০ বছরের আগে হয় না এবং যাদের এই রোগ থাকে তাদের অধিকাংশেরই হাই ব্লাড প্রেশার থাকে, তাই কারো যদি বয়স ৪০ এর অধিক হয় এবং বুকে চিনচিন ব্যাথা করে এবং তার হাইপ্রেশার থাকে তাহলে হৃদরোগের কথা মাথায় রাখতে হবে।

এইক্ষেত্রে কিছুক্ষণ ভারি কাজকর্ম করলে কিংবা একটু হাঁটাহাঁটি করলে কিংবা সিড়ি দিয়ে উপরে নিচে উঠা নামা করলে বুকে চিনচিন ব্যাথা শুরু হয় এবং সাথে হাঁপিয়ে উঠে, শ্বাস নিতে ব্যাথা অনুভব হয়, বুক ধরপর করে, ব্যাথা বাম বাহু ও ঘাড়ের দিকেও যেতে পারে এবং সাথে শরীর ঘামিয়েও যেতে পারে।

কিছুক্ষণ পর আবার এই ব্যাথা চলে যায়, এইরকম দুই একদিন পরপর হতে পারে, আবার খাবার বেশি খেলেও চিন চিন ব্যাথা শুরু হয়, কারণ খাবারের পর কিংবা ভারি কাজকর্ম করলে কিংবা হাঁটাহাঁটি করলে হার্টের অধিক পরিমান রক্তের দরকার হয়। তবে যাদের ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ রয়েছে তাদের রক্ত সঞ্চালন কম হয় তাই এই ব্যাথা হয়।

সুস্থ্য থাকতে যা যা করণীয়-
জরুরি হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা কার্ডিওলজিস্ট দেখাতে হবে। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তে চর্বির পরিমান দেখতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করতে হবে। যদি প্রেশার বেশি থাকে এবং তা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য মেডিসিন খেতে হবে এবং হার্টের উপর কাজের চাপ কমানোর জন্য ঔষধ খেতে হবে।

কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ এবং রক্ত চলাচল সচল রাখার ঔষধ খাওয়া লাগতে পারে এবং ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত ঔষধ কখনো বন্ধ করা যাবে না। সাথে চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ, ধুমপান অ্যালকোহল ইত্যাদি পরিহার করে চলতে হবে। তাছাড়া লাইফ স্টাইল নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*