Md.Atikur Rahman Atik
প্রকাশ ১৯/১০/২০২১ ০২:৫৬পি এম

Suicidal terrorism: আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের কৌশলগত যুক্তি -১ম পর্ব

Suicidal terrorism: আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের কৌশলগত যুক্তি -১ম  পর্ব
আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ ব্যাখ্যাবলী আমাদেরকে এর কারণ বুঝতে সাহায্য করেনা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ব্যাখ্যা করেনা কেন শ্রলংকার তামিল টাইগাররা আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের বিশ্বনেতা, যারা মার্কসবাদ/লেনিনবাদের অনুসারী, আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ও চলমান মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৃদ্ধিমান (বর্ধমান) বিষয়টি (বিশেষ) ভালভাবে বোঝার জন্য গবেষণাটি ১৯৮০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে ঘটিত মোট ১৮৮ টি আত্মঘাতী সন্ত্রাসী আক্রমনের তথ্য সংগ্রহ করে। চলমান ব্যাখ্যার সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে।

আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ একটি কৌশলগত যুক্তি অনুসরণ করে, আধুনিক উদার গণতন্ত্রের ভূ-খণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য এটি একটি বিশেষ পরিকল্পনা। অধিকন্তু গত দুই দশক আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ সন্ত্রাসীরা বুঝতে পেরেছে এটি কার্যকারী কৌশল

১৯৮৩ সালে আত্মঘাতী সন্ত্রাসীরা আমেরিকা এবং ফরাসী সামরিক বাহিনীকে লেবানন ছাড়তে, ১৯৮৫ সালে ইজরাইলী সামরিক বাহিনীকে লেবানন ছাড়তে, ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালে ইজরাইলী বাহিনীকে গজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীর ছাড়তে ১৯৯০ সালের পরবর্তীতে শ্রীলংকান সরকারকে স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র গঠন করতে এবং তুর্কী সরকারকে ১৯৯০ এর শেষ দশক কুরদীদের হায়ত্তশাসন ঘোষণা করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। এই সকল ক্ষেত্রেই আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের
রাজনৈতিক প্রাপ্তি অনেক বেশি পূর্বের তুলনায় এই আত্মঘাতী কার্যক্রমে শুধুমাত্র তুরস্কের বিষয়টি ছাড়া।

এভাবে পশ্চিমা গনতন্ত্রের উচিৎ এমন নীতিমালা গ্রহণ করা যা ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঘটিত ঘটনাগুলো
সন্ত্রাসীদের শিক্ষা দেয়, এমন নীতি যা মাতৃভূমির নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয় অপরাধীমূলক সামরিক কার্যক্রমের তুলনায় LTTE বড় ধরণের রাজনৈতিক অর্জনের জন্য সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো আত্মঘাতী আক্রমণের উপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি পাচ্ছে,
উদাহরণস্বরূপ পশ্চিমতীর এবং গাজা থেকে ইজরাইলীদের তাড়ানোর জন্য ফিলিস্তীনীয়দের দৃশ্যমান আত্মঘাতী সন্ত্রাসী আক্রমণ, LTTE কর্তৃক শ্রীলংকান সরকারকে একটি স্বাধীন তামিল ভূখণ্ড ঘোষণার জন্য আক্রমণ, সৌদিআরব উপদ্বীপ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়ানোর জন্য আল্-কাইদা কর্তৃক আক্রমণ৷ অধিকন্তু এমন ধরনের আক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে উভয় স্থান এবং সাম্প্রতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে।

১৯৮০ এর দশকের পূর্বে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ বিরল ছিল তবে অপরিচিত ছিলনা (Lewis 1968; O'Neill 1981; Rapport 1984)। যাহোক ১৯৮৩ সালের বৈরুতের মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর থেকে লেবানন, ইজরাইল, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, আফখানিস্তান, ইয়ামেন, তুরস্ক, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ১৮৮ টি পৃথক আত্মঘাতী সন্ত্রাসী আক্রমন হয়েছে৷ এই আক্রমনের সংখ্যা ১৯৮০ সালের দশকের ৩১ টি থেকে ১৯৯০ সালের দশকে ১০৪ টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, শুধু ২০০০ থেকে ২০০১ সময়ে ৫৩ টি আক্রমন হয়েছে (Pape 2002)। আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের বৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সর্বোচ্চ আক্রমণ হল ১৯৮৭ সালে ৬৬৬ টি এবং ১৯৮৮ সালে ২৭৪ ট (Dept of State 2001)। আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির জন্য কি দায়ী বিশেষ করে ১৯৯০ এর দশকের পর থেকে সূক্ষ্ম সম্প্রসারণ?

আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির ভালো কোন ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই, যদিও দীর্ঘসময় ধরে সন্ত্রাসবাদ আন্তর্জাতিক
রাজনীতির একটি অংশে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত গবেষণায় আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদের একটি কৌশল যা সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে এবং সাম্প্রতিক সময়ের আত্মঘাতী আক্রমনের বিষয় বিশেষ কোন ধারণা দেয়না (Hoffman 1998; Jenkins 1985; Laquer 1987)। অল্পকিছু গবেষণা আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ প্রকাতাকে অযৌক্তিকভাবে আত্মঘাতী সন্ত্রাস আক্রমণকারী ব্যাক্তির প্রেক্ষিতে আলোচনা করছে। ফলে তারা ব্যাক্তিক উদ্দেশ্যকে তুলে ধরছেন হয় ধর্মীয় কর্মসূচির অংশ (বিশেষ করে ইসলামিক ধর্মীয় গোঁড়ামি) অথবা মানসিক সমস্যা যা কোন ব্যক্তিকে আত্মঘাতী বোমা আক্রমণকারী হিসেবে পরিণত করতে পারে (Kramer 1990; Merari 1990, Post 1990)। আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের প্রথম ব্যাখ্যা ১৯৮০ এর দশকে সামনে আসে এবং ঐ সময়কালের তথ্যের সাথে সেটি সংশ্লিষ্ট ছিল। যাহোক যেহেতু আত্মঘাতী
আক্রমণ ১৯৯০ এর দশকের পর থেকে ঊর্ধ্বগতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, একজন ব্যাক্তি আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো কেন আক্রমণের এই পদ্ধতিটা বেছে নিল এই বিষয়ক প্রাথমিক তত্ত্ব ধীরে ধীরে অপর্যাপ্ত হতে ল (Institute for Counter Terrorism 2001)। প্রথমত যদি ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এ বিষয় কাজ করে তবে আধুনিক আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ ধর্মীয় মৌলবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমা গনমাধ্যমে ইসলামিক সংগঠনগুলোকে খুব আলোচনায় আনা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে LTTE নেতৃবৃন্দ তাদের সদস্য নিয়োগ করণ শ্রীলংকার উত্তর পূর্ব এলাকার হিন্দু তামিল সদস্যদের যারা মূলত: মার্কসবাদ লেনিনবাদে বিশ্বাসী, LTTE এককভাবে ১৯৮০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৮৬ টি আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে ৭৫ টি ঘটায় এমনকি ইসলামিক আত্মঘাতী হামলা দল গুলো এই সংখ্যার ১/৩ অংশের জন্য দায়বদ্ধ যারা ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী (Merari 1990; Sprinzak 2000)

দ্বিতীয়তঃ যদিও আত্মঘাতী হামলাকারীদের ব্যাক্তিগত তথ্যের উপর এবং গত দুই দশকে আত্মঘাতী হামলার অধিক সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা থেকে গবেষণা করে দেখা যায় এই দলের কোন সদস্যই একক কোন ব্যাক্তি নয় সাম্প্রতিককালে নেতৃস্থানীয় মনবিশেষজ্ঞগণ আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের অশিক্ষিত বেকার, সমাজবিচ্ছিন্ন অবিবাহিত কিশোর এবং উঠতি যুবক হিসেবে আখ্যা দেয় (Merari 1990; Post 1990)। কিন্তু আমরা বর্তমান জানতে পারলাম বা দেখলাম আত্মঘাতী সন্ত্রাসীরা কলেজের স্নাতক অথবা অশিক্ষিত, বিবাহিত বা অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলা, সমাজ বিচ্ছিন্ন বয়স ১৩-৪৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে (Sprinzak 2000)।

অন্যভাষায়, যদিও ভিন্ন জীবন পদ্ধতি থেকে একটি ছোট অংশ এই আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হয় এবং তাদেরকে অগ্রগামী করা অসম্ভব হতে পারে। প্রথমদিকের ব্যাখ্যার সাথে তুলনা করে দেখা যায় আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ একট কৌশলগত যুক্তি অনুসরণ করে। যদিও অনেক আত্মঘাতী সন্ত্রাসী অযৌক্তিক এবং উগ্র কিন্তু নেতৃবৃন্দ যারা তাদের নিযুক্ত করেন এবং নির্দেশনা দেন তারা তেমন নয়, সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোর প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় তারা সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনা করে থাকে সুনির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার উদ্দেশ্যঃ

কোন সরকারকে তার নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে, আরো সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের উদ্দেশ্যে অথবা উভয় উদ্দেশ্যে, Crenshaw (1981) দেখিয়েছেন/প্রমাণ করেন যে সন্ত্রাসবাদ কৌশলীগত কার্যক্রমের মধ্যে। একটি সেরা বিষয়, আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে ও এট সত্যা Thomas Schelling (1996) বলেন আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ হলো একটি চূড়ান্তরূপ যা অযৌক্তিক্তার যৌক্তিকতা যা দেখা যায় আত্মঘাতী হামলাকারীর কার্যক্রম গস্তান্ত্রিক দর্শকদের দৃষ্টিতে অযৌক্তিক, আধুনিক আত্মঘাতী হামলা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রগুলোর এই ধরণের চাপ সৃষ্টির জন্য আকাশ শক্তি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে (George etal 1972 Pape 1996, 1997) আত্মঘাতী হামলা সন্ত্রাসী দলের নিকট চাপ প্রয়োগের অস্ত্রে প্রয়োগ হচ্ছে, আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের কৌশলগত যুক্তির প্রমানের জন্য এই গবেষনাটি ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলার তথ্য সংগ্রহ করে এবং সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোর এই আক্রমণের কার্যকারীতা এবং চাপ প্রয়োগের সীমানা কিভাবে মূল্যায়ন করে সেটা ব্যাখ্যা করে।

পাঁচটি প্রধান ফলাফল অনুসরণ করে, প্রথমত আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ একটি কৌশলা বৃহৎ আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলাগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি একটি সংগঠিত দলের সুনির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের উদ্দেশ্য একটি দলীয় কার্যক্রমা দলগুলো আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করে তাদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ঘোষণা করে এবং যখন তাদের লক্ষ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক পূর্ণ হয় তখন এই আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করে

দ্বিতীয়ত, আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের যুক্তি মূলত কোন আধুনিক গণতন্ত্রকে জাতীয় বিষয়বলীর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তুলে ধরা হয়। সাধারণভাবে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলাগুলো পরিচালিত হয় রাষ্ট্রীয় কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য।


বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তাদের মাতৃভূমি থেকে অপসারণের জন্য। লেবানন, ইজরাইল, শ্রীলংকা, কাশ্মীর, চেচনিয়ার আত্মঘাতী সন্ত্রাসী কার্যক্রম (১৯৮০-২০০১) সংগঠিত হয় একটি বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা হল তাদের মাতৃভূমি জাতীয় বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারেপ করা এবং শত্রুপক্ষের সামরিক স্থাপনা প্রত্যাহার করা, আরো লক্ষ্যনীয় ১৯৮০ সাল থেকে যতগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়েছে তার সবগুলোই কোন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে
হয়েছে।

তৃতীয়ত, গত ২০ বছর যাবত আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো জানতে পেরেছে এটি কার্যকর পদ্ধতি, আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের দাবি ছিল ১৯৮৩ সালে আমেরিকা এবং ফরাসী সামরিক বাহিনীকে লেবানন ত্যাগ করতে বাধ্য করা, ১৯৮৫ সালে ইসরাইলী বাহিনীকে লেবানন ত্যাগ করতে বাধ্য করা, ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালের ইসরাইলী বাহিনীকে যথাক্রমে গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিমতীর ছাড়াতে বাধ্য করা, ১৯৯০ পরবর্তীতে শ্রলংকান সরকারকে স্বাধীন অমিল রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে বাধ্য করা, এবং ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে তুর্কী সরকারকে কুর্দীদের স্বায়ত্ব শাসন
প্রদানে বাধ্য করা। সন্ত্রাসী দলগুলো সকল ঘটনায় তাদের সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। যাহোক এসকল ঘটনার মধ্যে তুর্কী ঘটনার ক্ষেত্রে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার পর পূর্বের যে কোন সময়ের থেকে বেশি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। সন্ত্রাসী দলগুলোর নেতৃবৃন্দ আত্মঘাতী কার্যক্রমকে এ সকল রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য মূল্যায়ন করেছেন। সন্ত্রাসীদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষ বিশ্লেষক, এবং লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার রাষ্ট্রীয় সরকারী নেতৃবৃদ্ধ এই গবেষণটিকে যে সময় দিয়েছেন তা খুবই মূল্যবান, গত দুই দশক ধরে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী দলগুলো হ্রাসের যে চেষ্টা চলছে, সেটিই সন্ত্রাসী দলগুলোকে আঘাতী সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে বা উচ্চাভিলাসী হতে আরো
উৎসাহ যুগিয়েছে৷

চতুর্থত, যদিও আধুনিক আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ নতুনভাবে হ্রাস করছে সন্ত্রাসবাদ কার্যক্রম এই অধিক উচ্চাভিলাসী আত্মঘাতী সন্ত্রাসী এমন নয় যে এখন বৃহৎ উদ্দেশ্য হাসিল করবে এবং সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হবে। সাধারণভাবে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ নির্ভর করে সাধারণ জনগণের উপর নিম্ন থেকে মধ্যম পর্যায়ের (চাপ) শাস্তি আরোপের হুমকীর উপর অন্যভাবে এই ধরণের (চাপ) শান্তি আধুনিক জাতীরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য পরিত্যাগের ঘটনা বিরল। অংশত আধুনিক জাতীরাষ্ট্র উচ্চ লক্ষমাত্রার জন্য উচ্চ মূল্য দিতে রাজী এবং আধুনিক জাতীরাষ্ট্র প্রায়ই সাধারণ জনগণের ক্ষতিপুরণ অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য উপায়ে সমন্বয় করতে চায়।

আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রে উচ্চ আকাংক্ষার জন্য উচ্চ মূল্য (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়টি পরিবর্তন করেনা, কিন্তু আত্মঘাতী আক্রমণ একটি রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলতে পারে। একইভাবে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ প্রান্তিকভাবে প্রদত্ত শাস্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং রাষ্ট্রের কোন নির্দিষ্ট নীতিকে লক্ষ্য করতে পারে। কিন্তু এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ যেটি সামরিক স্থাপনাকে জাতীয় সম্পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেটি পরিত্যাগে বাধ্য করতে সমর্থ নয়

পরিশেষে, আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের সবথেকে নিবেদিত কৌশল হলো নির্দিষ্ট সমাজে সন্ত্রাসীদের আক্রমন করার বিশ্বাস হ্রাস করা। রাষ্ট্র যে সমস্যার সম্মুখীন সেট হলো আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের উচিৎ যেটি কোন অপরাধমূলক সামরিক আক্রমণ অথবা কার্যক্রম নয়, সেটিকে স্বীকৃতি দেওয়/মেনে নেওয়া ভাল কাজের জন্য এবং সীমানা প্রতিরক্ষার জন্য এবং মাতৃভূমির নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ করা।


আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের যুক্তি

বেশিরভাগ আত্মঘাতী সন্ত্রাসবান ঘটে থাকে নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সাধারণত এটি কোন যুক্তিহীন কোন মানুষ বা কোন অন্ধবিশ্বাসীর কোন ঘৃণার ফল নায় আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের প্রধান লক্ষ্য হল কোন সরকাকে তার কেন নীতি পরিবর্তনের জন্য অথবা গনতন্ত্রের ক্ষেত্রে (সন্ত্রাসীদের) মাতৃভূমি থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের জন্য। ১৯৮০-২০০১ সালের মধ্যে সংগঠিত আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদের রেকর্ড প্রমাণ করে যে এই কৌশলগত যুক্ত সময়, অর্জনের লক্ষ্য এবং আক্রমনের লক্ষ্য ইত্যাদির সাথে কোনো না কোনো ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ কিন্তু অযুক্তি বা ধর্মান্ত আচারনের সঙ্গে নয়।


আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা

জাতীয় সরকার ব্যতিত কোন সংঘটন কর্তৃক নির্দিষ্ট জনগণকে ভীতি দেখানোই সন্ত্রাসবাদ (Department of state 1983-2001, Reich 1990, Schmid and Jongman 1988) অবশ্য কেউ বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে বা মনে করতে পারে যেমন সরকার বিরোধী শক্তির জনগণের উপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটাতে পারে, এই ধারনা পোষণ নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যকে ব্যহত করতে পারে। যেমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে উপজাতীয় দলগুলোর হুমকী কিভাবে মোকাবেলা করা যায় এটি বিশ্লেষণকে আরো সংশয়পূর্ণ করে তুলতে পারে। সন্ত্রাসী সংগঠন এবং রাষ্ট্রের ভিন্ন ভিন্ন শক্তি, চাপ প্রয়োগের কৌশল রয়েছে। তাদের আচরণ কৌশল এক নয়, এজন্য পূর্বক তত্ত্বীয় অনুসন্ধান প্রয়োজন। সাধারণত সন্ত্রাসবাদের দুটি লক্ষ্য থাকে বিরোধী শক্তিকে ভয় দেখানো এবং সমর্থক বৃদ্ধি করা। বেশিরভাগ সন্ত্রাসবাদ দুটি লক্ষ্যই অর্জন করতে চায়৷ প্রায়শই বিরোধী শক্তিকে প্রভাবিত করতে চায় এবং একইসাথে সমর্থক বৃদ্ধি করতে চায়, কোন কোন ক্ষেত্রে একই সামাজিক কর্মসূচিতে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উপর বিজয় লাভ করতে চায় (Bloom 2002)। যাহোক এই লক্ষ্য দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা এই দুটির যে কোনটিতে আঘাত হানতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রদর্শন, ধ্বংসাত্মক এবং আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের যে কোন পদ্ধিতি অবলম্বন করতে পারে, প্রদর্শনী মূলক সন্ত্রাসবাদ মূলত প্রচারণামূলক উদ্দেশ্যে অথবা যেকোন ১টি বা নিচের ৩ কারণের সব উদ্দেশ্যে নির্দেশিত হয়ঃ অধিক কর্মি নিযুক্ত করা, দাবীদাওয়া আদায়ের জন্য মনোযোগ আকর্ষণ এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিরোধী শক্তির উপর চাপ প্রয়োগ করা, প্রদর্শনীমূলক সন্ত্রাসবাদ লক্ষ্য করা যায় Orange Volunteers (উত্তর আয়ারল্যান্ড), National Liberation Army ( কলাম্বিয়া ) Red Brigades (ইটালী), (Clutterbuck 1975: Elder Baumann 1973: St. John 1991) নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জিম্মি করা, বিমান ছিনতাই করা, বিস্ফোরণ ঘটানোর মত ক্ষতিকর কর্মকান্ড করা হয়। এই ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা প্রায়ই চরম ক্ষতিকর হয় এমন কর্মকান্ড এড়িয়ে চলে যেন রাজনৈতিক সহানুভূতির কোন ক্ষতি না হয়, Brian Jenkins (1975,4) তার একটি মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে প্রদর্শনীমূলক সন্ত্রাসবাদের প্রকৃতি তুলে ধরেন, “সন্ত্রাসীরা চায় অনেক মানুষের আকর্ষন, মৃত্যু নয়।" ধ্বংসাত্মকমূলক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ এবং জনসমর্থন আদায়ের জন্য আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে, বধ্বংসাত্মকমূলক সন্ত্রাসবাদ সহানুভূতি হারানোর ঝুঁকি নিয়ে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষতিকর বিষয়গুলোর উপর হামলা
করতে চায়। ক্ষতি এবং সহানুভতির মধ্যে ভারসাম্য করে হামলা চালানো প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক লক্ষ্যের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় Baader Meinhoft Fল নির্দিষ্ট জান ধনী শিল্পপতিদের উপর গুপ্ত হত্যা চালিয়েছিল যারা জার্মান সমাজের একটি বিচ্ছিন্ন দল ছিল। ১৯৭০ সালের দশকে প্রায়ই ফিলিস্তীনীয় সন্ত্রাসীরা যত বেশি সম্ভব ইজরাঈলীদের হত্যা করতে চাইত। এখনও ইহুদী গোষ্ঠীগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের নিকট থেকে মহানুভূতি পায়, Irish Republic Amy, The Revolutionary Armed Forces of Columbia (FAARC), এবং উনিশশতকের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মত অন্যান্য দলগুলো ধ্বংসাত্মকমূলক সন্ত্রাসবাদের উপর গুরুত্বারোপ করে (Elitto 1998 Rapport 1971; Tuchman 1966)

আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ হলো সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে আক্রমনাত্মক রূপ, সন্ত্রাসীদের নিজ গোত্রের সমর্থ হারানোর বিনিময়েও এধরনের বলপ্রয়োগ করে থাকে। কোন বিষয়টি আত্মঘাতি সন্ত্রাসীকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে আক্রমনকারী বেচে থাকার প্রত্যাশা ও করেনা এবং প্রায়ই এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় যে উদ্দেশ্য সফল করার জন্য আক্রমনকারীর মৃত্যু অনিবার্য হয় (যেমন গাড়ি বোমা হামলা, আত্মঘাতি পোশাক পরিধান, অথবা ভবনে বিমান ধ্বংস করা)। অন্যদিকে একজন আত্মঘাতি সন্ত্রাসী অন্যদের হত্যা করে এবং একই সময়ে সে নিজেকেও হত্যা করে। নীতিগতভাবে, আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হতে পারে কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অথবা নির্দিষ্ট কাউকে গুপ্তহত্যা করার জন্য। বাস্তবিকপক্ষে, সাধারণণত আত্মঘাতি সন্ত্রাসীরা প্রায়ই বিশাল জনসংখ্যাকে হত্যা করতে চায়। যদিও এটি সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে যে প্রাপ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে সেটি অর্জনের সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে, সন্ত্রাসীদের সমর্থনের জন্য এটি বড় ধরনের জন্য সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করেনা। শরুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভিন্ন মতাম্বলীদের হত্যা করা হয় যারা সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারত, আত্মঘাতি কর্মকাভ বিতর্ক তৈরি করে এবং প্রায়ই সন্ত্রাসীদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের আধুনিক মনমানসিকতা সম্পন্নদের সমর্থ্য হারায়, এমনকি বৈপ্লবিকদের সমর্থন পায়। এভাবে চাপপ্রয়োগ যখন সকল সন্ত্রাসবাদের মূল উপাদান আত্মঘাতি হামলার প্রধান লক্ষ্য চাপপ্রয়োগ।


আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদের প্রভাবশালী যুক্তি

মূলত আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ একটি দমনমূলক কৌশল, যার অর্থ হলো সরকারকে তার নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। এই কৌশলের কেন্দ্রিয় যুক্তি খুব সাধারণঃ আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ সন্ত্রাসীদের দাবিকে প্রতিহত করে এমন বিরোধী শক্তির উপর হামলা করার চেষ্টা করে এবং একই কারণে সরকারকে নীতি পরিবর্তন বা জনগন যেন সরকারের বিরুদ্ধে নীতি পরিবর্তনের জন্য বিদ্রোহ করে এই জন্য। সকল আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদের সাধারণ বৈশিষ্ট হলো বিরোধী শক্তিকে শাস্তি দেওয়া, সাধারণ জনগনকে সরাসরি হত্যা করে অথবা পরোক্ষভাবে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সামরিক সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে যা যুদ্ধের ময়দানে অর্থপূর্ণ বিজয়কে নেতৃত্ব দেয়না। যেহেতুে আমরা দেখব যে আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের ঘটনা এটি বিরল বরং একই সময় অনেকগুলো ঘটে। এমনভাবে আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ তাৎক্ষনিকভাবে নাগরিকদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে এবং ভবিষ্যতেও আক্রমনের ঝুঁকির আনুমাতি সন্ত্রাসবাদ তাৎক্ষনিকভাবে নাগরিকদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে এবং ভবিষ্যতেও আক্রমনের ঝুঁকির আশংকা নাগরিকদের মাঝে সৃষ্টি করে। আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদ একই প্রেক্ষাপটে ঘটনা যেমন রাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনী দিয়ে যেটি করে, এবং এই গঠনগত পার্থক্যগুলো কৌশলগত যুক্তি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, ত | আন্তর্জাতিক সকল সামরিক শক্তি, শক্তি প্রয়োগকারী রাষ্ট্র শক্তিশালী এবং লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্র দুর্বলঃ অন্যথায় দমনকারী নিবারিত অথবা সাধারণত সামরিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হুমকী হয়ে যেত (Pape 1996)

এই প্রেক্ষিতে দমনকারী সংস্থার দুটি দমনমূলক কৌশল হতে একটি পছন্দ আছে, যেটি শান্তি এবং অস্বীকার। শাস্তি কৌশল চায় একটি সমাজের খরচ এবং ঝুঁকি এমন একটি পর্যায়ে বৃদ্ধির মাধ্যমে যেটি সংঘাতের মূল্যকে উপেক্ষা করে। অস্বীকার কৌশল চায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে দমন করতে যেটা সাধারণত এই ধরনের কৌশল ছাড়া বিজয় লাভ করা সম্ভব না, সুতরাং দমনকর্মসূচীর কোন বিষয়কে নির্মূল করার জন্য দমনকারীর জন্য লক্ষ্যহীন উদাহরণস্বরূপ দয়নকারী সংস্থার সংঘাতময় ভূ-খন্ডে বিজয়ী হওয়ার সামর্থ্য আছে। এক্ষেত্রে, দমনকারী যদিও শাস্তি কৌশলের প্রতি নির্ভর করতে পারে, যুদ্ধে তারা (দমনকারী সংস্থা বা রাষ্ট্র) প্রায় বিরোধী শক্তির বিজয়কে দুর্দান্তভাবে অনিশ্চিত করে দিতে পারে এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সরকার যদি আচরণ/নীতি পরিবর্তন না করে তাহলে দুর্দান্ত সামরিক বিজয় লাভ করতে পারে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর সংঘবদ্ধ বোমাহামলা, ১৯৭২ সালে উত্তর ভিয়েতনামে মার্কিন বোমাহামলা, ১৯৯১ সালে ইরাকে যৌথবাহিনীর হামলাগুলো এই যুক্তিকে শক্তিশালী করে।

আনুমাতি সন্ত্রাসবাদ (এবং সাধারণ সন্ত্রাসবাদ) বিপরীতধর্মী কারনে ঘটে থাকে আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে সমনকারী দূর্বল এবং লক্ষ্যবস্তু শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। যদিও কিছু উপাদান একই থাকে, শান্তি এবং অস্বীকারের প্রেক্ষাপটের কারনে নাটকীয়ভাবে দমনকারী এবং লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান পরিবর্তন হয়। এই অবস্থা দৃষ্টে, অস্বীকার করা অসম্ভব, কারণ সামরিক বিজয় আপেক্ষিকভাবে দুর্বল। এমন কি কোন আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদীদল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়ে থাকে এবং কিছু সংগঠন গেরিলা সন্ত্রাসী হামলা করতে যথেষ্ট সক্ষম, বিজয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুফল অর্জনের মতো শক্তিশালী নয় কোন সন্ত্রাসী দলই। LTTE এর সামরিক ক্ষমতাসম্পন্ন আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদল রয়েছে, কিন্তু এই সংগঠনের সম্পূর্ণ মাতৃভূমির নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি নেই যেটি তারা দাবী করে, শ্রীলংকার পূর্ব এবং উত্তর প্রদেশসহ। ফলে আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদের হাতে দমনের জন্য মাস্তি কৌশলই শুধু উপযুক্ত। যদিও “আত্মঘাতি" র উপাদান প্রস্তাবস্বরূপ এবং এর আঘাত/ক্ষত সাধারণ জনগনের জন্য খুবই জটিল এবং বেদনাদায়ক; আত্মাতি সন্ত্রাসবাদের মূলনীতির মত একই হয় যখন রাষ্ট্র তার আকাশ শক্তি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কৌশল গ্রহন/অবলম্বন করে। লক্ষ্য রাষ্ট্রের জনগনের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের নীতি উপেক্ষা করতে এবং সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দাবী স্বীকার করার জন্য, দমনমূলক কার্যক্রম তেমন আশানুরূপ দমন করতে পারেনা। লক্ষ্যবস্তু হতে পারে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক, বেসামরিক, কিন্তু সকল ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকে একই সেটি হলো কম ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে জনগনকে বোঝানো যে ভবিষ্যতে আরো হামলা হতে পারে। ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় এমন একটি অবস্থা সাধারণত সরকার এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘটতে দেখা যায় (Crenshaw 1981)

অধিকাংশ আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদের কৌশল নির্ধারিত হয়ে থাকে সরকারের গৃহিত দমননীতির ভিত্তিতে। অর্থ অশংখ গবন্ধুং ইরমধফবং এর নেতা যেটির সাথে ইয়াছির আরাফাতের ঋথধ্যে গড়াবসবহঃ এর সম্পর্ক রয়েছে আবদেল কারীম বলেন “তার দলের লক্ষ্য হলো ইজরাঈলী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি করা যেন ইজরাঈলী জনগনই ইজরাঈলকে পশ্চিম তাঁর এবং গাজা ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করে” (Greenberg 2002) ওসামা বিন লাদেন এবং অন্য কয়েকটি দলের মধ্যে অখ্যাত চুক্তি স্বাক্ষর হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, “আইনটি হলো মার্কিন এবং মার্কিনীদের সহযোগী সামরিক/বেসামরিক যাকে যে কোন রাষ্ট্রে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করতে হবে এটি প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব-কর্তব্য, উদ্দেশ্য হলো আল-আকছা মসজিদের স্বাধীনতা, তাদের বলয় থেকে পবিত্র মসজিদ (মক্কা) কে মুক্ত করা এবং ইসলামের ভূমি থেকে তাদের সকল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে সরানো যেটি কোন মুসলিমের জন্য হুমকী না হতে পারে (World Islamic Front 1998 )।

আত্মঘাতি সন্ত্রাসীরা আত্মহুতি দিতে রাজী থাকে কারণ তারা দমনমূলক কর্মসূচী প্রতিক্রিয়া ৩টি উপায়ে বৃদ্ধি করতে চায়। প্রথমত, আত্মঘাতি হামলা অন্য যেকোন হামলা থেকে অধিক ধ্বংসাত্মক হয়। একজন হামলাকারী যখন মরতে রাজী থাকে তখন সে অধিক পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আত্মঘাতি হামলাকারীরা তাদের অস্ত্র তাদের শরীরের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে পারে এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকতে পারে অন্য সাধারণ সন্ত্রাসীর তুলনায় বেশি। তারা খুবই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যের লক্ষ্যবস্তুতে বেশ ভালো আঘাত হানতে সক্ষম কেননা তাদের তো পালানোর কোন চিন্তা নেই এবং উদ্ধার দলেরও প্রয়োজন হয়না। আত্মঘাতি হামলাকারী “আত্মঘাতি পোশাকে" এবং যানবাহন ধ্বংসকারীর মত বিশেষ বিধ্বংসী কৌশল ও অবলম্বন করতে পারে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার জন্য। ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৮৮ টি আত্মঘাতি হামলার প্রত্যেকটিতে গড়ে ১৩ জন কে হত্যা করা হয়েছে, আক্রমনকারীদের সংখ্যা এবং ১১ই সেপ্টেম্বরের বড় হতাহতের ঘটনা এখানে হিসাব করা হয়নি। একই সময়ে ৪১৫৫টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে বিশ্বব্যাপী যা ৩২০৭ জনকে হত্যা করে (১১ ই সেপ্টেম্বর অন্তর্ভুক্ত নয়), প্রত্যেক ঘটনায় গড়ে ১ জনেরও কম মারা গেছে। সর্বপরি, ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সমস্ত সন্ত্রাসী ঘটনার মধ্যে আত্মঘাতি হামলা প্রায় ৩% কিন্তু সকল মৃত্যুর মধ্যে ৪৮% মৃত্যু হয় সন্ত্রাসের কারণে, ১১ই সেপ্টেম্বর এই হিসাবের অন্তর্ভূক্ত নয় (Department of State 1983-2001 ) ।

দ্বিতীয়ত, আত্মঘাতি হামলা একটি প্রমাণিত পদ্ধতি যার মাধ্যমে বোঝানো যায় যে আরো বেশি হামলা হবে, কারণ আত্মহত্যা নিজেই একটি সতর্কতা, ভয়ংকর প্রতিশোধের হুমকীর মাধ্যমে ও হামলাকারীদের নিবারণ করা যায়নি।

আত্মঘাতি হামলায় উৎসাহদানকারী সংগঠন আত্মঘাতি হামলাকারী এবং ভবিষ্যতের হামলার প্রেক্ষাপটের মধ্যে আন্তরিকভাবে একটি সমন্বয় করতে পারে। এটিকে “শাহাদাতের কৌশল" বলা যেতে পারে (Schalk 1997) বৃহত্তর সম্প্রদায়ের/জনগনের ন্যায় অধিকাংশ আত্মঘাতি সন্ত্রাসী মনে করে তাদের কার্যক্রমগুলো ধর্মীয় বা আদর্শগত কারণে, সন্ত্রাসী হামলাকারীর মৃতের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পায় ততই তাদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মে যে তাদের পদান্তক অন্যরা আরো অধিক হারে অনুস্বরণ করবে। আত্মঘাতি সন্ত্রাসী সংগঠন সাধারণভাবে “আত্মত্যাগের গল্প" তৈরি করে যেটি একজন হামলাকারীর মৃত্যকে জাতীর জন্য অবদান হিসাবে তুলে ধরা হয়। আত্মঘাতি হামলাকারীর পরিবার কখনো কখনো বস্তুগত প্রতিদান পেয়ে থাকে আত্মঘাতি হামলাকারী সংগঠন অথবা সমর্থকদের নিকট থেকে। ফলে শাহাদাতের কৌশল সন্ত্রাসীদের সম্প্রদায়ের মধ্যে খুব সমর্থন পায়, আত্মঘাতি হামলার মাধ্যমে অন্যকিছু হতে পারতো এমন ধরনের নেতিবাচক ধারনার হ্রাস করে, এবং ভবিষ্যতে হামলা হওয়ার সতর্কতাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

তৃতীয়ত, আত্মঘাতি সন্ত্রাসীদের সংগঠন অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের তুলনায় বেশি হুমকী সৃষ্টি করে যে তাদের সঙ্গে কোন সহিংসতা হলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, তারা এটি করতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি উপেক্ষা করে, চলমান বিশ্বাসকে অতিক্রম করে লক্ষ্য বস্তুতে পৌঁছাতে পারে, এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের কর্মী বৃদ্ধি করার কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি করে। আত্মঘাতির উপাদানগুলো নিজেই ভবিষ্যতে হামলার আশংকাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে, কারণ এটি বুঝায় যে হামলাকারীদের নিবারণ করা যায়না।

মূল প্রবন্ধ:
The Strategic logic of suicide terrorism
Writter- Robert A. Pope

ভাষান্তর:
মু. আল-হেলাল
এম ফিল (ABD) গবেষক
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*