Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ১৭/১০/২০২১ ০৬:১৬পি এম

Column: দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ?

Column: দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ?
সাম্প্রদায়িক মনোভাবে যে প্রীতি বহন করে - সে যেই বর্নের হউক আর যে ধর্মালম্বীর হউক পরস্পরের ধর্মতত্ত্বের সহানুভূতিশীল আচরণের সার্বিক নামকরণ " সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি "। স্বাধীণতার ৫০ বছরে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান,মারমা,চাকমা বহুজাতিক মানবগোষ্ঠীর বসবাস এই বাংলাদেশে।

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের রয়েছে সম্প্রীতির উপর ঐতিহাসিক আচরণ - যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এমন নজীর কী পৃথিবীর ইতিহাসে বিগত ১০০ বছরে করেছেন কী ? যা মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা দাবীদার।

বংগবন্ধু কন্যার এমন মহতী উদ্যোগকে বিরোধী গোষ্ঠী নেতিবাচক মতামত দেবেন আবার কেউ ইতিবাচক দৃষ্টিতে মতামত দেবেন। সর্বোপরি এঁরা কখন যে কোনদিকে মোড় নেবেন - কী বলবেন ? তা একমাত্র আল্লাহতালাই ভালো জানেন। তাঁদের ভূল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয় জনগনকে। আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শেষ কোথায় ?

জেলা, পৌরসভা, উপজেলায় সরকারের ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের সার্বিক অবকাঠামোকে কয়েকটি স্তরে বিভাজন করা হয়েছে। যেগুলো তদারকি ও পরিদর্শন করার শক্তি এবং অবস্থার প্রেক্ষাপটে পূনর্বিন্যাসের জন্য নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের নীতিনির্ধারক উচ্চমান ব্যক্তিবর্গ নিয়োজিত থাকার পরও দৃষ্টির অলক্ষ্যে ঘটে যায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা যা অনভিপ্রেত।

বাস্তবতায় মূল সমস্যা হচ্ছে - আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন নই। পদস্থ কর্মকর্তাদের উপরেই বেশীভাগ নির্ভরশীল থাকতে হয়। যার কারণে দায়িত্ব পালনে ঐকান্তিক স্বচ্ছতা প্রকাশ ঘটে না । আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যেমন কাম্য নয় তেমনি আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতায় রাজনৈতিক নেতারা দায়ী নন।

উভয় পক্ষের এইরকম শূন্যতা তৃতীয় পক্ষের কাছে ষড়যন্ত্রের মাষ্টার প্লান তৈরি করতে সুবিধাজনক হয়ে পড়ে। সরকারী পক্ষ - বিরোধী পক্ষকে - বিরোধীশক্তি - দালাল চক্রকে দোষারোপের ডামাডোল বাজাতে বাজাতে ইঁদুর বস্তা ফুটো করে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

সারাটি বছর জুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবনালেখ্য পূজা অর্চনা সম্বন্ধে মুসলমানেরা কম জানেন না। বিপরীতে হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলমানদের ধর্মীয় রীতিনীতি সংস্কৃতি সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তবে কেন হিন্দুদের উত্সব এলেই কেন এত বিশৃঙ্খলার জন্ম হবে ?

সহনশীলতা রক্ষায় সরেজমিনে দেখেছি পূজামন্ডপে যখন ঢাক-ঢোল বাজনা বাজে - আনন্দ চলাকালীন সময়ে মুসলমানদের মসজিদে আজান হওয়ার প্রাক্কালে - থেমে যায় সকল বাদ্যযন্ত্র। বোঝার উপায় নেই যে আশেপাশে হিন্দুদের পূজা অর্চনা চলছে।

আবার কারো বাড়িতে মিলাদ মাহফিল আয়োজন হলে। সেখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সহকর্মীদের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে মনোমুগ্ধকর করে তোলে । ধর্ম বিদ্বেষী কট্টর সমালোচনা যেমন নিন্দাজনক তেমনি উভয়ের জন্য কখনোই মংগল বয়ে আনে না।

সকল ধর্মেই মূল আলোচ্য বিষয় মানব ধর্মের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিহিংসা ত্যাগ করা। অন্যের ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করা থেকে নিজকে বিরত রাখা। বিষয়ভিত্তিক আলোচনার সারবস্তু গোপনীয়তা বজায় রাখা যেমন একান্ত কর্তব্য । তেমনি রাষ্ট্রের নাগরিকের সব বিষয়ে নাক গলানো ও ঠিক না। যা অনাধিকার চর্চা ও বটে।

সমস্যা যতই হউক - সমাধান ও দ্রুত করা প্রয়াস চালালে গুরুতর সমস্যার উদ্ভব হওয়ার সুযোগ থাকে না ।

আমরা অনেক কিছুই দেখি । কখনো পাছে লোকে কিছু বলে এই সংশয়ে না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলি পরবর্তীতে এই যন্ত্রণার খড়গ আমাদেরই পোহাতে হয়।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*