আনন্দ - (Dhaka)
প্রকাশ ১৬/১০/২০২১ ০৪:১৬পি এম

Open column: ধর্মের নাকি ক্ষমতার অনুভুতি

Open column: ধর্মের নাকি ক্ষমতার অনুভুতি
এদের অনুভুতি কত ঠুনকো !হ্যাঁ এদেরই বলব আমাদের নয় অনেক ক্ষেত্রে আয়রনি হিসেবে আমাদের শব্দটা ব্যবহার করলেও এক্ষেত্রে আর সেটাও রুচিতে আসছে না। ক্ষেত্রে আমাদের শব্দটা ব্যবহার করা সত্যিকারের আমাদের জন্য চরম অপমানের।

আমি মনে করি পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের এমনকি প্রতিটি সত্তার ধর্ম ভিন্ন। হ্যাঁ প্রায় সকল মানুষই জন্মগতভাবে একটা ধর্মীয় পরিচয় বহন করে কেউ কেউ আবার বেড়ে ওঠার সাথে সাথে বিভিন্ন ধর্ম ,মতাদর্শের অনুসারী হয়ে ওঠে। কিন্তু সে ওই মতাদর্শকে কিভাবে দেখবে, বুঝবে, প্রত্যাহিক জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাবে এটা নির্ভর করে ওই ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি/ চিন্তাধারার ওপর। প্রতিটি মতাদর্শই ব্যক্তির কাছে এসে মডিফাইড হতে বাধ্য হোক সেটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক। কারণ প্রত্যেকটি সত্তার মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান। ব্যক্তির পারিপার্শ্বিকতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য এসব কিছুই হয়তো এই ভিন্নতার পেছনে কাজ করে।আর মানুষ কেন প্রকৃতির সবকিছুতেই বৈচিত্র থাকবে এটাইতো স্বভাবিক।

তবে বেশির ভাগ মানুষই এক একটা ইজমে বিশ্বাসী বলে নিজেদের দাবী করে আর কি যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভক্তিটা এসেছে।যেখানে প্রতিটি আদর্শিক মতাদর্শের কাজ ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সেখানে এরা মতাদর্শিক তথাকথিত ঐক্যকে ব্যবহার করছে হিংসা,বিভেদ ছড়াতে! হোক সে ধর্ম,বর্ণ,লিঙ্গ,জাতী যে কোন ক্ষেত্রে।তবে আমি মনে করি এমন হিংসাত্মক ঐক্যের থেকে ব্যক্তি কেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতা হাজার গুন শ্রেয়। ব্যক্তি অন্তত তার নিজস্ব মতাদর্শের আবেগে বৃহত্তম গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায় না/চাইলেও পারেনা।

বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আস্তিক, নাস্তিক কিংবা ইগনোরিস্ট যে যেই ট্যাগেই নিজেকে বা অন্যকে ভূষিত করতে পছন্দ করিনা কেন, সেটা কেন হবে হিংসাত্মক?আর দিন শেষে সব মতবাদ মতাদর্শ ব্যক্তিসত্তা দ্বারা প্রভাবিত! স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যেকেরই একটা আলাদা ব্যক্তিসত্তা আছে কিন্তু মুশকিলটা হল বেশিরভাগ মানুষই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটা বিশেষ করে ধর্মের ক্ষেত্রে তো সেটার জাগরনে রাজিই নয়।কারন একদল লিপ্সু মানুষ সাধারনের ধর্মীয় সরল বিশ্বাসের দূর্বলতাটাকে কাজে লাগিয়ে তাদের বিকৃত মস্তিষ্ক দ্বারা প্রভাবিত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা সরল বিশ্বাস গুলোকে বিষিয়ে দিচ্ছে,সাধারনের চিন্তাশক্তির পায়ে অধর্মের ধর্ম নামক শেকল পড়িয়ে দিয়েছে দিচ্ছে!এই শেকল ছিড়ে নিজের কাছে আর তাদের পৌঁছান হয়না কোনদিন! শেকল টেনে যেদিকে নিয়ে যয় ঐ বিভৎস-চিন্তক ব্যবসায়ী, ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী সেদিকেই দৌড়ায় উদভ্রান্ত হয়ে! এদিকে এই আবেগ কাজে লাগিয়ে যুগের পর যুগ ধরে তাদের ব্যক্তিগত/ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে ক্রমশ আরো ফুলে ফেপে প্রচন্ড রকমের বিভৎস হয়ে উঠছে এরা!

আর যে ধর্মই হোক না কেন ক্ষমতালিপ্সু ধর্মেকন্দ্রীকতা যেখানেই প্রাধান্য পাচ্ছে সেখানেই চলে সংখ্যালঘুর ওপর সংখ্যাগোরীষ্ঠের বিভৎসতা! আর হতাসার বিষয় হল সংখ্যালঘু কিংবা গরীষ্ঠ কেউই বুঝতে চইনা যে ক্ষমতার হাতের পুতুলে পরিনত হয়েছে তারা ।সবাই কেবল নিজ নিজ অনুভুতি রক্ষাের্থে একে অন্যের সাথে বিভৎসতায় লিপ্ত হচ্ছে। অথচ ভাবছেই না এই অনুভুতি আদৌ নিজের কিনা যে এত সহজে আঘাত লাগে! নাকি এটাও এই ক্ষমতালিপ্সুদের প্রদত্ত!কোন মহৎ আদর্শ কি এতটাই ঠুনকো যে তুচ্ছ মানুষ রুপী কীটের আঘাতে আহত হবে! উল্টো ফাঁদে পা দিয়ে এদের ঘৃন্য কৌশলকে সফল করছে... বেড়ে চলছে বিষবাষ্প, হিংসা,ক্রোধ, অসহিষ্ণুতা,অসম্মান…. ক্রমশ লোপ পাচ্ছে সহানুভুতি,ভালবাসা,সহব্স্থানের মানসিকতা।আর এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে হাজারো ইতবাচকতার মধ্যেও একটা আধটা নেতিবাচকতা দৃষ্টি কেরে নিচ্ছে তৎক্ষনাত ছড়াচ্ছে হিংসার বার্তা!তবে এই নেতীবাচকতাও যদি সামান্যও হয় সেটাও কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু বিভ্রান্ত ধর্মান্ধতা এই সুযোগটা করে দিচ্ছে সবথেকে দুঃখজনক হল এটা বোঝার ক্ষমতা/ মানসিকতার অভাব!

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে ধর্ম মনুষের জন্য নাকি মানুষ ধর্মের জন্য?আর এ প্রসঙ্গে আরো একটা প্রশ্ন জাগে এই মানুষ জিনিসটাই বা কি, দৈহিক ভাবে মানুষের কাঠামো নিয়ে জন্ম নিলেই কি মানুষ বলা যায়!যদিও সব ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান আমার নেই তবে আমি মনে করি মানব জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে পরবর্তীেতে তার বিকৃত রুপ অসীম ক্ষমতার চাবীকাঠি হলেও। হিংসার এই বিভৎসতা কোন ধর্মেরই লক্ষ হতে পারেনা…..এই যে মতাদর্শগত পার্থ্যক্যের কারনে একে অন্যের প্রতি কতটা অসহিষ্ণু,হিংস্র, বিভৎস যে অনুভুতির দায় দিয়ে অনায়েসে হাজারো নিরপরাধের প্রান নিয়ে নিতে পারে।তথাকথিত মানুষ হয়ে মানুষের আতঙ্কে পরিনত হতে পারে! জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণতায়ও যেতে চাচ্ছিনা দিনশেষে সবাই ই তো মানুষ! প্রকৃত মানুষ হয়ে বাঁচার চেয়ে কোন সে মহৎ জীবন!

যাই বলিনা কেন এই বিভাজন, বিভেদই যেন এই মানব জাতীর কাম্য….বিশ্ব জুড়ে বিভাজনের সংকীর্ণতায় জর্জড়িত। যতদিন না ব্যক্তি তার সত্তাকে জানতে চাইবে বুঝতে চাইবে,শুনতে চাইবে, নানা ইজমের, দলের, জাতীর, বর্নের,লিঙ্গের দাস হয়ে রবে ততদিনে মুক্তি মিলবে না….আর এই মুক্তিইবা ক্যামনে সম্ভব সংকীর্ণতার এক ভার্সন থেকে আপডেট ভার্সনের অন্তর্ভুক্ত কখন কিভাবে হচ্ছে কেউ ই টের পাচ্ছেনা!
তবুও আশা বেঁচে রয় কোন এতদিন এই পৃথিবী হবে সত্যিকারের মানুষের মানবতার……!

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

*PLEASE INSERT THIS PART OF THE TAG TO THE BODY SECTION OF THE PAGE WHERE YOU'D LIKE TO SEE ADS*