Md. Azizar Rahman( - (Dinajpur))
প্রকাশ ১২/১০/২০২১ ০৪:৫১পি এম
প্রেসক্লাব নিয়ে শুধু সাংবাদিক সমাজেরই নয়, গোটা জাতির বিবেকও বলে থাকেন অনেকে । প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পর্কের সেতু হিসেবেও কাজ করে। প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের ঐক্যেরও মহান প্রতীক।

কিন্তু কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহল এ প্রেসক্লাবকে কলঙ্কিত করে চলেছে। নিজেদের স্বার্থে প্রেসক্লাবকে নিজের বাপ-দাদার পৈত্তিক সম্পত্তি মনে করেন। এর ফলে এ মহান প্রতিষ্ঠানগুলো আজ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় হয়েছে।

এক সময় প্রেসক্লাবের উপর মানুষের যে গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আজ যে গ্রহণ যোগ্যতা আর নেই। এর জন্য দায়ী কারা? আর এই নাতী-ছেলেদের নানান অনিয়মের কারণে যে তরুণ কলম সৈনিক হওয়ার আশার প্রেসক্লাবে আসে তারা এই নাতী-ছেলেদের কর্মকান্ড দেখে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

আর এখন সাধারণ এবং পেশাদার সাংবাদিকদের কোন অধিকার নেই এখানে। বিশেষ করে উপজেলা প্রেসক্লাব দীর্ঘদিন থেকে কতিপয় নীতিহীন সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে আছে। ওই জিম্মি দশা থেকে প্রেসক্লাবকে এবং সাংবাদিক সমাজকে মুক্ত সময়ের দাবী। এই দখলবাজ টাউটবাজদের হাত সাংবাদিক সমাজকে রক্ষা করতে হলে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

অবিলম্বেএই দখলবাজ টাউটবাজদের হাত প্রেসক্লাবগুলোকে রক্ষা করতে হবে। প্রেসক্লাবকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। প্রেসক্লাবকে কলঙ্কমুক্ত করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত পেশাদার সকল সাংবাদিককে সদস্যপদ প্রদানের বিকল্প নেই বলে মনে করেন দেশের শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিকগণ।

###প্রসঙ্গ খানসামা উপজেলা; আমাদের উপজেলায় দুটি প্রেসক্লাব এর কারণ কি? সঠিক ব্যাখ্যা হয় তো অনেকে জানেন না। আমিও জানি না। প্রেসক্লাব হচ্ছে একটি সংগঠন। প্রেসক্লাবকে বলা হয়, মিলন কেন্দ্র। আমাদের দেশের প্রত্যেক জেলায় উপজেলা প্রেসক্লাব রয়েছে।

এটি সাংবাদিকদের সামাজিক মিলনকেন্দ্র। যা সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি সংগঠন। যেখানে সাংবাদিকদের ঐক্য থাকার কথা সেখানে এত বিভক্তি কেন? এর কারণই বা কি? কেনই আজ সাংবাদিক সমাজ দিধাবিভক্ত? সাংবাদিক সমাজ একই পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে কেনই তারা আলাদা ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে?

এর কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সাংবাদিক জানান তাদের অভিজ্ঞতার কথা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল যে, প্রেসক্লাবের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা। যারা নতুন সাংবাদিকতায় আসেন প্রেসক্লাবে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় না।


প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত হতে হলে যে শর্তগুলো দেয়া হয় সেসব শর্ত পূরণ করলেও সদস্য হতে পারেনি অনেকে। শর্তের বাহিরেও আরেকটি নিয়ম আছে কোন নতুন সদস্য ভর্তি করতে হলে প্রেসক্লাবে বোর্ড মিটিং এ উপস্থাপন করার পর যদি কোন একজন সদস্য উক্ত সাংবাদিককে প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত করতে বাধা প্রদান করে তাহলেই তাকে সদস্যপদ দেয়া হয় না এবং বাধা প্রদানকারী সদস্যের নাম ও প্রকাশ করা হয় না এবং কেন সদস্য হতে পারেনি তাও জানানো হয় না।

ফলে আবেদনকারী সাংবাদিকদের মনে বিরাজ করে তীব্র ক্ষোভ। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিগণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে প্রেসক্লাবে ফোন দেয়া হয়। প্রেসক্লাবে ফোন দেয়া হলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ উক্ত সাংবাদিককে চেনার পরও চেনেন না বলে জানিয়ে দেন। তখন উক্ত সাংবাদিকের অবস্থা কি হতে পারে আপনারা কল্পনা করেছেন?

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি বলতেন যে, উক্ত সাংবাদিককে উনারা চিনেন, তিনি একটি মিডিয়ায় কাজ করেন, কিন্তু তিনি প্রেসক্লাবের সদস্য নন, তাহলে হয় তো ভাল হতো। চেনেও না চেনার ভান করার মানে কি দাঁড়ায়? এই কর্মকান্ডটাকে তো ঈর্ষান্বিত মনোভাব বুঝায়! আমাদের সবাইকে এমন মনোভাব পরিত্যাগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি।

আমি খানসামা উপজেলার প্রত্যেক সাংবাদিককে অনুরোধ করবো সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করুন। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে সহকর্মী বা ভাই ভাবুন। সবার সাথে সু সম্পর্ক বজায় রাখুন। তাহলেই আমাদের সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার সাহস কারো হবে না।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেক প্রেসক্লাবকে অনুরোধ করবো যে, আপনারা নতুন সাংবাদিকদেরকে আপনার স্নেহ, ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখুন। কেউ প্রেসক্লাবের সদস্য হতে না পারলেও তাকে সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে হয়তো তিনি সদস্য হবার যোগ্যতা অর্জন করবে আপনাদের সহযোগিতায়। তারা আপনাদেরকে সম্মান করবে। আপনাকে কোথাও হেয় প্রতিপন্ন হতে দেখলে তার অন্তর কাঁদবে। প্রয়োজনে প্রতিবাদ করবে। দেশের কোথাও কোন বিকল্প প্রেসক্লাব গঠনের প্রয়োজন পরবে না। আমরা চাই দেশের সকল সাংবাদিক একই প্লাটফরমে থেকে কাজ করবে। প্রয়োজনে সকল সাংবাদিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বি:দ্র: আংশিক তথ্য উত্তর বাংলা।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ