Ridoy Hosen Rabby( - (Gazipur))
প্রকাশ ২৬/০৯/২০২১ ১০:৫২এ এম
দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা স্বাস্থ্যবিধি মানার মধ্য দিয়ে অবশেষে ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হয়।সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া খুবই আনন্দিত।কিন্তু এখনো লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ফিরেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। করোনায় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা দূর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেকের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা যোগ দিয়েছে নানা কর্মসংস্থানে।

এমনি এক শিক্ষার্থী সামাউন,সে ২০২০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরিক্ষা দেয় এবং গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।করোনার মাঝেই পরিক্ষার ফলাফল দেওয়া হয় এবং তারপরেই অনলাইনে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। সে উত্তরার একটি সনামধন্য কলেজে ভর্তি হয়। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় অনলাইনে ক্লাস করে কিছুদিন।

করোনা কালিন সময়ে তার পরিবার খুবই আর্থিক দূরাবস্থায় পরে। তার বাবা মুদিব্যবসায়ী,করোনাকালে সে দোকান ও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারে তার বাবা ছাড়া অন্য কেউ আয়রোজগার করতো না। এমতবস্থায় তার পরিবারের দুবেলা খারাপ জুটানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিলো প্রায়।

সামাউন জানায় তার বাবা পূর্বে ঋণগ্রস্ত ছিলেন।যার কারণে কলেজের বেতনও দিতে পারছিল না বলে কলেজ থেকে তাকে বার বার কল করে কলেজ ত্যাগ করতে বলা হয়। সে এটাও জানায় যে, কলেজের বই পর্যন্ত কেনা হয়নি তার এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের থেকে কিছু বই সংগ্রহ করে পড়া শুরু করেছিল কিন্তু এক সময় সে উপায় না পেয়ে ডুকে যায় স্থানিয় এলাকার এক শিল্প কারখানায়।

এক সময় পড়া প্রিয় ছাত্রটির মনে আজ পড়াশোনার প্রতি ঘৃণা। এমনি লাখো শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না কারণ একদিকে পরিবার আরেক দিকে স্কুল কলেজের বকেয়া বেতন। এভাবে বাংলাদেশের লাখো ভবিষ্যৎ ঝরে যাচ্ছে অকালে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ